বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে “উদ্বেগজনক ও চিন্তার বিষয়” বলে উল্লেখ করেছেন যুক্তরাজ্যের এমপি ও শ্যাডো সেক্রেটারি অব স্টেট ফর ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অ্যাফেয়ার্স প্রীতি প্যাটেল। তিনি বাংলাদেশে ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা এবং সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
শুক্রবার যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে লেখা এক চিঠিতে প্রীতি প্যাটেল বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বাড়ছে বলে যে প্রতিবেদনগুলো প্রকাশিত হয়েছে, তা গভীর উদ্বেগের কারণ। তাঁর ভাষায়, মাত্র ১৮ দিনের মধ্যে অন্তত ছয়জন হিন্দু নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
চিঠিতে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাউস অব কমন্সে বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা নিয়ে এক জরুরি প্রশ্নোত্তর পর্বে তৎকালীন ইন্দো-প্যাসিফিক বিষয়ক মন্ত্রী জানিয়েছিলেন, তিনি বাংলাদেশ সফর করেছেন এবং সেখানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিয়ে আলোচনা করেছেন। সেই সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
এই প্রেক্ষাপটে প্রীতি প্যাটেল জানতে চান, গত এক বছরে যুক্তরাজ্য সরকার কীভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে এবং বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কী ধরনের কূটনৈতিক যোগাযোগ করেছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সহিংসতা বৃদ্ধির বিষয়ে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি কী আলোচনা হয়েছে, হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী ধরনের আশ্বাস পাওয়া গেছে এবং যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনারের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না—সেসব প্রশ্নও তোলেন তিনি।
এ ছাড়া বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে যুক্তরাজ্য সরকার কী ধরনের কাজ করছে, সে বিষয়েও ব্যাখ্যা চেয়েছেন এই ব্রিটিশ এমপি।
উল্লেখ্য, মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন ও বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে।
এদিকে, ‘হিউম্যান রাইটস কংগ্রেস ফর বাংলাদেশ মাইনরিটিজ’ (এইচআরসিবিএম) জানিয়েছে, গত সাত মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘুদের ওপর ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। সংগঠনটির দাবি, ২০২৫ সালের ৬ জুন থেকে ২০২৬ সালের ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশের আটটি বিভাগ ও ৪৫টি জেলায় মোট ১১৬ জন সংখ্যালঘু নিহত হয়েছেন। এসব মৃত্যুর মধ্যে রয়েছে পিটিয়ে হত্যা, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ও সন্দেহজনক মৃত্যু। এইচআরসিবিএম বলছে, এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়, বরং সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে চালানো সহিংসতার একটি দেশব্যাপী ধারাবাহিক চিত্র।