দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ‘নাক গলাচ্ছে’ এবং ক্ষমতার অংশ হতে চাওয়ার প্রবণতা থেকেই তাদের অপব্যবহার করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন গুম সংক্রান্ত কমিশনের প্রধান মইনুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি বলেন, এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে দেশের সব গোয়েন্দা সংস্থার কাঠামোগত সংস্কার জরুরি।
রোববার প্রধান উপদেষ্টার কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে কমিশন প্রধান এসব কথা বলেন। তিনি জানান, আগের সরকারগুলোর পাশাপাশি সদ্য বিদায়ী সরকারও ব্যাপকভাবে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে অপব্যবহার করেছে, তবে সাম্প্রতিক সরকারের সময় এই অপব্যবহারের মাত্রা ছিল আরও বেশি।
মইনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “এস আলম গ্রুপের পক্ষে ডিজিএফআই গিয়ে ইসলামী ব্যাংক দখল করেছে—এটা কি ডিজিএফআইয়ের কাজ? বা কোনো মিডিয়া হাউজ দখল করা কি গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্ব?” তিনি বলেন, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে নানাভাবে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষা প্রসঙ্গে কমিশন প্রধান স্পষ্ট করে বলেন, দেশের ভেতরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা পুলিশের কাজ, সেনাবাহিনীর নয়। তার মতে, সেনাবাহিনীর দায়িত্ব হলো প্রশিক্ষণ, যুদ্ধ প্রস্তুতি ও কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধি। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বেসামরিক গোয়েন্দা সংস্থা থেকে সেনা কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার করা উচিত। বিকল্প হিসেবে পুলিশের মধ্য থেকে দক্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি বিশেষায়িত এলিট ফোর্স গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি।
গুম সংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরে কমিশন প্রধান জানান, কমিশনে জমা পড়া ১ হাজার ৯১৩টি অভিযোগের মধ্যে যাচাই শেষে ১ হাজার ৫৬৯টি অভিযোগ সক্রিয় বিবেচনায় রাখা হয়। এর মধ্যে ২৫১ জন এখনো নিখোঁজ এবং ৩৬ জনের ক্ষেত্রে গুমের পর মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। নিখোঁজদের বেশিরভাগই রাজনৈতিক ব্যক্তি বলে জানান তিনি।
কমিশনের প্রতিবেদনে র্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে গুমের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে র্যাব সবচেয়ে বেশি আলামত ধ্বংস করেছে বলেও মন্তব্য করেন কমিশন প্রধান।