বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের বিমানবাহিনী প্রধানের মধ্যে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, আলোচনায় প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি, মহাকাশ প্রযুক্তি সহযোগিতা ছাড়াও জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান বিক্রির প্রস্তাবও উত্থাপিত হয়েছে।
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন এবং পাকিস্তান বিমানবাহিনীর এয়ার চিফ মার্শাল জাহির আহমেদ বাবর সিধু বৈঠকে পরিচালনগত সহযোগিতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন। পাকিস্তান বাংলাদেশকে দ্রুত সুপার মুশশাক ট্রেইনার বিমান সরবরাহ এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ ও সহায়তার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে।
চীনের প্রযুক্তি সহায়তায় পাকিস্তান যৌথভাবে তৈরি করেছে জেএফ-১৭ থান্ডার মাল্টি-রোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট। ভারতের সঙ্গে সংঘাতে এই বিমান ব্যবহারে পাকিস্তান সাফল্য দাবি করে আসছে। ইসলামাবাদ এখন এই বিমানকে অস্ত্র রপ্তানির প্রধান ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করছে। ইতোমধ্যে আজারবাইজান ও লিবিয়ার সঙ্গে বড় চুক্তি করেছে পাকিস্তান।
২০২৪ সালের অগাস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে বড় পরিবর্তন আসে। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক বৈরিতায় রূপ নেয়, অন্যদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক উষ্ণ হতে শুরু করে। ইসলামাবাদ ও ঢাকা ১৯৭১ সালের পর প্রথমবারের মতো সরাসরি বাণিজ্য শুরু করেছে। সামরিক পর্যায়ে সফর বিনিময়ও বেড়েছে।
রয়টার্সের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে বাংলাদেশ ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে। এ নির্বাচনে একদা নিষিদ্ধ একটি ইসলামি দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে, যাদের সঙ্গে পাকিস্তানের যোগাযোগ রয়েছে।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জানিয়েছেন, জেএফ-১৭ বিমান ও অন্যান্য অস্ত্রের অর্ডার এত বেশি আসছে যে ছয় মাসের মধ্যে দেশটি আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের ওপর নির্ভর করতে হবে না।