ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের দেওয়া দুই দফা বিবৃতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমী জাহানাবাদী। তিনি বলেছেন, ‘অস্পষ্ট’ অবস্থান না নিয়ে আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট নিন্দা জানানো উচিত বাংলাদেশের।
বুধবার ঢাকার ইরানি দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রদূত বলেন, “এ পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকার যে বিবৃতিগুলো দিয়েছে, তা নিয়ে আমাদের কিছু কষ্ট রয়েছে। আমরা আশা করি, বাংলাদেশ এ বিষয়ে আরও স্পষ্ট অবস্থান নেবে।”
তিনি উল্লেখ করেন, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ—বিশেষ করে স্পেন—এবং এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও জনগণ ও কর্মকর্তারা এই হামলার বিরুদ্ধে সরাসরি নিন্দা জানিয়েছেন। সেই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের কাছ থেকেও একই ধরনের স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া প্রত্যাশা করে তেহরান।
রাষ্ট্রদূত বলেন, “আমরা বাংলাদেশকে আমাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও ভাই মনে করি। আমরা চাই, আমাদের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হোক। কিন্তু যে বিবৃতিগুলো দেওয়া হয়েছে, সেখানে কেবল উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। অথচ এটি একটি স্পষ্ট আগ্রাসন, যা নিন্দার যোগ্য।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের প্রত্যাশা—যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে আগ্রাসন চালিয়েছে, তার স্পষ্ট নিন্দা জানানো হোক। এর বাইরে আমাদের আর কোনো দাবি নেই।”
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর বাংলাদেশ সরকার দুই দফা বিবৃতি দেয়। প্রথম বিবৃতিতে হামলার সরাসরি নিন্দা জানানো হয়নি এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়নি। দ্বিতীয় বিবৃতিতে তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হলেও হামলাকারী দেশগুলোর নাম উল্লেখ করা হয়নি।
এই অবস্থান বাংলাদেশের পূর্বের নীতির সঙ্গে ভিন্নতা তৈরি করেছে, যেখানে অতীতে ইসরায়েলের হামলার ঘটনায় ঢাকা সরাসরি নিন্দা জানিয়ে আসত।
বাংলাদেশের অবস্থানের পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টি রয়েছে বলে মনে করা হয়। এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে রাষ্ট্রদূত বলেন, “বাংলাদেশের কিছু সীমাবদ্ধতা আমরা বুঝি। তবে এটি একটি আন্তর্জাতিক ইস্যু। জাতিসংঘ ও ওআইসির সদস্য হিসেবে আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কথা বলা বাংলাদেশের দায়িত্ব।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, “যদি কোনো দেশ জাতিসংঘ সনদ লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে অবস্থান না নেয়, তাহলে ভবিষ্যতে একই পরিস্থিতি তাদের ওপরও আসতে পারে।”
সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের অসঙ্গতি নিয়েও সমালোচনা করেন ইরানি রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, “তিনি দিনে একাধিকবার ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দেন—কখনও বিজয়ের দাবি করেন, কখনও আলোচনার কথা বলেন, আবার কখনও ধ্বংসের হুমকি দেন। এটি বিশ্ব পরিস্থিতির জন্য বিপজ্জনক।”
রাষ্ট্রদূত আরও জানান, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সরাসরি আলোচনা করছে না। তবে পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যস্থতার উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হয়েছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যতক্ষণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শক্তি থাকে, ততক্ষণ তারা যুদ্ধ চালায়। আর দুর্বল হলে শান্তির কথা বলে। এই দ্বৈত নীতি গ্রহণযোগ্য নয়।”