২০২৪ সালের আগস্ট মাসে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া রাজনৈতিক পরিবর্তনকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক লেখক আনোয়ার এ. খান গণতন্ত্র ছিনতাই হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, এটি ছিল একটি পরিকল্পিত অভ্যুত্থান, যেখানে দেশীয় রাজনৈতিক শক্তি, আন্তর্জাতিক মহল এবং সামরিক প্রভাব একত্রে কাজ করেছে।
শ্রীলঙ্কা গার্ডিয়ান পত্রিকায় ২৮ নভেম্বর প্রকাশিত এক নিবন্ধে লেখক বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এ ঘটনা ছিল এক কালো অধ্যায়। জনগণের ভোটাধিকার ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে একটি বিদেশি-নিয়ন্ত্রিত অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ, পাকিস্তানের আইএসআই এবং কিছু পশ্চিমা শক্তি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাকে কাজে লাগিয়ে সরকার পরিবর্তনের পথ তৈরি করে।
আনোয়ার এ. খান উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক মহল বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ আন্দোলনকে গণতান্ত্রিক দাবি হিসেবে প্রচার করলেও এর পেছনে ছিল সুপরিকল্পিত বিদেশি হস্তক্ষেপ। তিনি বলেন, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং কিছু ইসলামপন্থি সংগঠন বিদেশি শক্তির সঙ্গে সমন্বয় করে আন্দোলনকে সহিংস রূপ দেয়। তার মতে, শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলন ছিল না সাধারণ দাবি; বরং এটি ছিল একটি ছদ্মবেশী রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র।
লেখক দাবি করেন, সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের একটি অংশও এ পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে। তারা বিদেশি শক্তির সঙ্গে সমন্বয় করে রাজনৈতিক অস্থিরতাকে বাড়িয়ে তোলে এবং শেষ পর্যন্ত সরকার পতনের পথ সুগম করে।
নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনুসের নামও কলামে উল্লেখ করা হয়েছে। লেখকের মতে, আন্তর্জাতিক মহল তাকে পরিবর্তনের মুখ হিসেবে ব্যবহার করেছে। বিদেশি শক্তি তাকে অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে বসিয়ে নিজেদের স্বার্থ বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছে।
আনোয়ার এ. খান বলেন, এ ঘটনার ফলে বাংলাদেশের গণতন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জনগণের ভোটাধিকার ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে একটি বিদেশি-নিয়ন্ত্রিত অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি এটিকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখেছেন।
লেখক আরও বলেন, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও কিছু দেশীয় সংবাদমাধ্যম এ ঘটনাকে গণআন্দোলন হিসেবে উপস্থাপন করেছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি ছিল একটি পরিকল্পিত প্রচারণা, যাতে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয়।
তিনি সতর্ক করেছেন, যদি জনগণ সচেতন না হয় তবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠবে। বিদেশি শক্তি ও স্থানীয় রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রভাব অব্যাহত থাকলে দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র বারবার হুমকির মুখে পড়বে।