বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) গতকাল তার প্রতিষ্ঠার ৬১ বছর পূর্তি উদযাপন করেছে। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দিনভর বিটিভির পর্দায় প্রচারিত হয় বিশেষ অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক আয়োজন ও স্মৃতিচারণমূলক পর্ব।
বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বিটিভির দীর্ঘ পথচলার ইতিহাসভিত্তিক প্রামাণ্য অনুষ্ঠান ‘ডিআইটি থেকে রামপুরা’ প্রচার করা হয়। পাশাপাশি বিটিভির আর্কাইভ থেকে জনপ্রিয় শিল্পীদের গাওয়া গান ও নাটক সম্প্রচার করা হয়। বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র থেকেও বিভিন্ন বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচারিত হয়।
বিটিভি প্রাঙ্গণ ও স্টুডিওতে দিনভর অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে অংশ নেন বিটিভির নিজস্ব শিল্পী, কলাকুশলী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। অতিথিরা বিটিভি নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন।
সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিটিভি স্টুডিও থেকে সরাসরি সম্প্রচারিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। রাত ১১টায় সরাসরি সম্প্রচারিত হয় গানের অনুষ্ঠান ‘সুর সাগর’।
এ উপলক্ষে বিটিভির মহাপরিচালক মো. মাহবুবুল আলম বলেন,
“বাংলাদেশ টেলিভিশন কেবল একটি সম্প্রচারমাধ্যম নয়; এটি দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানুষের আবেগের অংশ। ৬১ বছরের পথচলায় বিটিভি জাতির গুরুত্বপূর্ণ সব মুহূর্তের সাক্ষী ও সহযাত্রী।”
১৯৬৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর ঢাকার ডিআইটি ভবনের নিচতলায় বিটিভির যাত্রা শুরু হয়। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে নতুনভাবে কার্যক্রম শুরু করে বিটিভি। ১৯৭৫ সালে রামপুরায় নিজস্ব ভবনে স্থানান্তরিত হয়। ১৯৮০ সালে রঙিন সম্প্রচার শুরু করে বিটিভি নতুন যুগে প্রবেশ করে। বর্তমানে বিটিভি এইচডি ফরমেটে টেরিস্ট্রিয়াল, স্যাটেলাইট, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছে।
বিটিভির ৬১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় এক প্রীতি সম্মিলন। অভিনেতা ও নির্মাতা আফজাল হোসেনের উপস্থাপনায় সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মিলনমেলায় ছিল স্মৃতিচারণ, সঙ্গীতসহ নানা আয়োজন। প্রতি বছর বিটিভির জন্মদিন পালন করে আসছে চ্যানেল আই। এবারও শীতের সকালে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে নতুন-পুরোনোদের মিলনমেলায়।
৬১ বছরের পথচলায় বিটিভি শুধু একটি সম্প্রচারমাধ্যম নয়, বরং দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানুষের আবেগের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই আয়োজন সেই দীর্ঘ যাত্রারই এক উজ্জ্বল স্মারক।