২০২৬ সালের একুশে পদকের তালিকায় নৃত্যকলা বিভাগে অপেক্ষাকৃত তরুণ শিল্পী অর্থী আহমেদের নাম ঘোষণার পর সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। প্রবীণ ও অভিজ্ঞ নৃত্যশিল্পীদের পাশ কাটিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন দেশের বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা।
সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নৃত্যশিল্পীরা বলেন, মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও সুস্পষ্ট মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়নি। এতে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নৃত্যশিল্পী ফারহানা চৌধুরী বেবী। তিনি বলেন, একুশে পদক আজীবন সাধনা ও জাতীয়-আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনস্বীকার্য অবদানের স্বীকৃতি। কিন্তু এবারের ঘোষিত নাম নিয়ে নৃত্যাঙ্গনে প্রশ্ন ও সংশয় দেখা দিয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, মনোনীত শিল্পীর অবদান মূলত সমাজসেবা বা সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সীমিত, নৃত্যশিল্পে উল্লেখযোগ্য কোনো অবদান নয়। অথচ দেশে অসংখ্য প্রবীণ নৃত্যশিল্পী রয়েছেন, যারা কয়েক দশক ধরে নৃত্যচর্চা, শিক্ষা, গবেষণা ও মঞ্চায়নের মাধ্যমে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করছেন। তাদের উপেক্ষা করা নৃত্যাঙ্গনের জন্য হতাশাজনক।
২০১৬ সালে একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রবীণ নৃত্যশিল্পী আমানুল হক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পদক কমিটিতে নৃত্যাঙ্গন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের না থাকার কারণে সঠিক মূল্যায়ন হচ্ছে না। তিনি অবিলম্বে পদক কমিটিতে অভিজ্ঞ নৃত্যশিল্পীদের যুক্ত করার আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে নৃত্যশিল্পীরা তিনটি দাবি উত্থাপন করেন—২০২৬ সালে নৃত্যকলায় পদক প্রদানের নীতিমালা যাচাই করা, মনোনয়ন প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা করা এবং প্রবীণ শিল্পীদের মতামত গ্রহণ করে স্বচ্ছ মূল্যায়ন পদ্ধতি অনুসরণ করা। বক্তারা স্পষ্ট করে বলেন, এই প্রতিবাদ কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, বরং একুশে পদকের মর্যাদা ও গাম্ভীর্য অক্ষুণ্ণ রাখার স্বার্থে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন তামান্না রহমান, আনিসুল ইসলাম হিরু, মোস্তাফিজুর রহমান, এম আর ওয়াসেক, শারমিন হোসেন, মনিরা পারভিন ও সৈয়দ মিনা নজরুল। সংহতি জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন আরও অনেক সাংস্কৃতিক কর্মী।
আয়োজকরা জানান, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত না হলে রাষ্ট্রীয় সম্মাননার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে জনমনে স্থায়ী প্রশ্ন তৈরি হবে। একুশে পদক বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা, যা মহান ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে ১৯৭৬ সাল থেকে প্রদান করা হচ্ছে। শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, সাংবাদিকতা, সমাজসেবা ও ভাষা আন্দোলনে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ পদক দেওয়া হয়। প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় পদক প্রদান করে থাকে।