বাংলাদেশের অন্তর্জালে চলছে নারী শিল্পীদের অভিনব ও নীরব প্রতিবাদ। হাতে, মুখে বা শরীরের বিভিন্ন অংশে বিভিন্ন নম্বর লিখে ছবি পোস্ট করে তারা ডিজিটাল সহিংসতার বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান জানাচ্ছেন। এই প্রচারণা দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
২৫ নভেম্বর প্রথম এই ধরনের পোস্ট করেন অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা। পরে অভিনেত্রী শবনম ফারিয়ার পোস্ট থেকে এটি আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ে। এরপর একই ক্যাপশন ও হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে একের পর এক নারী শিল্পী আন্দোলনে যুক্ত হতে থাকেন। প্রতীকী এই নম্বরগুলো আসলে অনলাইন হয়রানি ও ডিজিটাল বুলিংয়ের শিকার হওয়ার সংখ্যাকে নির্দেশ করে। তাদের ভাষ্য, মানুষ বাইরে থেকে শুধু সংখ্যা দেখলেও সেটির পেছনে লুকিয়ে থাকে যন্ত্রণা, অপমান ও লড়াইয়ের দীর্ঘ গল্প।
অভিনেত্রী রুনা খান লিখেছেন, তাঁর “২৪” নম্বরটি প্রতিদিন পাওয়া হয়রানিমূলক মন্তব্যের সংখ্যা। তাঁর মতে, একটি সংখ্যা হলেও এর পেছনে আছে প্রতিটি সহ্য করা মুহূর্ত ও লড়াইয়ের চিহ্ন। একইভাবে বহু শিল্পী জানাচ্ছেন ডিজিটাল সহিংসতা এখন ব্যক্তিজীবন, ক্যারিয়ার, মানসিক স্বাস্থ্য এমনকি সম্পর্কেও বিরূপ প্রভাব ফেলছে। অনেকে সামাজিক লজ্জা, ভয় বা প্রতিক্রিয়ার কারণে আইনি সহায়তা নিতেও দ্বিধায় ভোগেন।
এই আন্দোলনের লক্ষ্য তিনটি—অনলাইন হয়রানিকে ‘তুচ্ছ বিষয়’ হিসেবে দেখা বন্ধ করা, ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়ানো এবং আইনি সচেতনতা বাড়ানো। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রতিবাদের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো নীরবতা ভাঙা। দীর্ঘদিন যারা অভিজ্ঞতা গোপন করে রেখেছিলেন, তারাও নিজের গল্প প্রকাশ করতে শুরু করেছেন।
বাংলাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও সাইবার ট্রাইব্যুনাল থাকলেও বিচার প্রক্রিয়া এখনও জটিল ও দীর্ঘসূত্রপূর্ণ। অনেক ভুক্তভোগী দ্রুত প্রতিকার পান না। তাই আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ববোধ বাড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছেন তারকারা।
মডেল ও আইনজীবী পিয়া জান্নাতুল লিখেছেন, তাঁর হয়রানির সংখ্যা গুনে শেষ করা যাবে না। প্রতিদিনই তিনি বুলিংয়ের মুখোমুখি হন, তবুও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
গত দুই দিনে এই নীরব প্রতিবাদে যুক্ত হয়েছেন রাফিয়াত রশিদ মিথিলা, আশনা হাবিব ভাবনা, মৌসুমী হামিদ, মৌসুমি নাগ, রিচি সোলায়মান, কণ্ঠশিল্পী পুতুলসহ আরও অনেকে।