আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠ প্রশাসনে লটারির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারদের (এসপি) ‘দলীয়’ আখ্যা দিয়ে তাঁদের বদলির দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করে দলটির পক্ষ থেকে এই দাবি জানানো হয়। জামায়াত নেতারা বলেন, নির্বাচনের মাঠে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ জরুরি।
এর আগে গত ১১ নভেম্বর নির্বাচন কমিশনের সংলাপে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের লটারির মাধ্যমে বদলির প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তাঁর যুক্তি ছিল, লটারির মাধ্যমে বদলি হলে পক্ষপাতের অভিযোগ থাকবে না।
পরে কয়েকটি জেলায় এসপি নিয়োগে লটারির পদ্ধতি অনুসরণ করা হলেও ডিসি পদায়নে তা হয়নি। অথচ সংসদ নির্বাচনে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ডিসিরাই রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন, আর আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে এসপিদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
বৈঠক শেষে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সাংবাদিকদের বলেন, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে বৈষম্য হয়েছে। “একই ধরনের ঘটনায় দুই রকম সিদ্ধান্ত এসেছে। এর কারণ হলো বিভিন্ন জায়গায় দলীয় ডিসি নিয়োগ করা হয়েছে,” দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, যেসব ডিসি ও এসপি দলীয়ভাবে নিয়োগ পেয়েছেন, তাঁদের অপসারণ করে নিরপেক্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিতে হবে।
তাহের অভিযোগ করেন, একটি নির্দিষ্ট দলকে ব্যাপক প্রচারণার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তিনি জানান, বিষয়টি তথ্য উপদেষ্টাকে ফোন করে জানিয়েছেন।
নিরাপত্তা নিয়েও বৈষম্যের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “কোনো কোনো ব্যক্তিকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে, আবার একই ধরনের অন্য নেতারা তা পাচ্ছেন না।”
নির্বাচন কমিশনকে আরও দৃঢ় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তাহের বলেন, “কমিশনকে প্রমাণ করতে হবে তারা সত্যিকার অর্থে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা করছে।”
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের পর প্রথম নির্বাচনটি যদি ‘অ্যারেঞ্জড নির্বাচন’ হয়, তাহলে দেশ অস্তিত্বের সংকটে পড়তে পারে।”