জাতীয় নির্বাচনের আগে পুলিশ কমিশন আইন ও এনজিও আইন প্রণয়নের উদ্যোগে সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিএনপি। দলটির দাবি, এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ আইন তড়িঘড়ি করে পাস করার পেছনে সরকারের ‘ভিন্ন উদ্দেশ্য’ থাকতে পারে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে জটিল করতে পারে।
শুক্রবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে যে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার সংশোধিত পুলিশ কমিশন আইন ও নতুন এনজিও আইন দ্রুত পাস করানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। তার ভাষায়, “জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া তড়িঘড়ি করে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আইন পাস করা সমীচীন হবে না।”
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের পূর্বে আইন পাসের প্রচেষ্টা গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। এ ধরনের আইন প্রণয়ন পরবর্তী জাতীয় সংসদে যুক্তিতর্কের মধ্য দিয়ে হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি সরকারকে এ উদ্যোগ থেকে বিরত থাকতে আহ্বান জানান।
গত বছর ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাত সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে পুলিশ সংস্কারও আলোচনায় আসে। পুলিশ সংস্কার কমিশনের সুপারিশেও বলা হয়, কমিশনের কাঠামো ও কার্যাবলি নির্ধারণে বৃহত্তর জাতীয় আলোচনার প্রয়োজন।
পরবর্তীতে রাজনৈতিক দল ও জোটগুলোর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে তৈরি জুলাই জাতীয় সনদে স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এতে ৩০টি দল ও জোট একমত পোষণ করে। জুলাই সনদের সুপারিশ অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি একদিনেই গণভোট আয়োজনের প্রস্তুতিও চলছে।
এরই মধ্যে সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছে যে সরকার পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশের খসড়া চূড়ান্ত করেছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) খসড়াটি আরও পরিমার্জনের আহ্বান জানিয়েছে।
বিএনপি মনে করছে, গুরুত্বপূর্ণ আইন পাসের ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের তাড়াহুড়ো অযৌক্তিক এবং তা রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। দলটি পুনর্ব্যক্ত করেছে যে নির্বাচন ও নতুন সংসদ গঠনের পরই এ ধরনের আইন প্রণয়ন হওয়া উচিত।