গণ অধিকার পরিষদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ব্যাখ্যায় দলটির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন অর্থনীতিবিদ ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. রেজা কিবরিয়া। তিনি বলেছেন, “যে দল ইসরায়েলিদের টাকায় চলে, সেই দলে আমার থাকা সম্ভব নয়।” সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
রাজনীতিতে একাধিকবার দল পরিবর্তনের প্রশ্নে রেজা কিবরিয়া বলেন, তাঁর দলবদল কোনো সুবিধাবাদী সিদ্ধান্ত নয়, বরং আদর্শিক দ্বন্দ্ব থেকেই এসেছে। গণফোরামে থাকার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সংসদে যোগ দেওয়া না দেওয়া নিয়ে দলটির ভেতরে তীব্র বিভক্তি তৈরি হয়। একটি অংশ সংসদ বর্জনের পক্ষে থাকলেও অন্য অংশ সংসদে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান নেয়, যা শেষ পর্যন্ত দলীয় সংকটকে গভীর করে তোলে।
গণ অধিকার পরিষদে যোগ দেওয়ার প্রসঙ্গে রেজা কিবরিয়া বলেন, প্রয়াত ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর ব্যক্তিগত অনুরোধ ও সম্মানের জায়গা থেকেই তিনি সেখানে যুক্ত হয়েছিলেন। তবে দলটির অভ্যন্তরীণ চরিত্র ও নেতৃত্বের ভূমিকা তাঁকে দ্রুতই হতাশ করে তোলে।
তিনি অভিযোগ করেন, দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব—বিশেষ করে সভাপতি নূরুল হক নূরের—ইসরায়েলি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আসার পর তাঁর আর সেখানে থাকার কোনো নৈতিক ভিত্তি ছিল না। রেজা কিবরিয়ার দাবি, ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত প্রকাশ্যে বলেছেন যে নূরুল হক নূরের সঙ্গে মোসাদের প্রতিনিধিদের একাধিক বৈঠক হয়েছে। এই তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশের পর বিষয়টি তাঁর কাছে নিশ্চিত হয়ে যায়।
রেজা কিবরিয়া বলেন, “আমি ফিলিস্তিনের পক্ষে, সাম্রাজ্যবাদ ও দখলদার শক্তির বিরুদ্ধে। সেই জায়গা থেকে দাঁড়িয়ে ইসরায়েল-ঘনিষ্ঠ কোনো রাজনৈতিক প্রকল্পের অংশ হওয়া আমার পক্ষে অসম্ভব।”
গণ অধিকার পরিষদ ও নূরুল হক নূরের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ নতুন করে দলটির রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা, আন্তর্জাতিক অবস্থান এবং নেতৃত্বের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।