সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম নিয়ে মুখ খুলেছেন সাবেক উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্ধারণী ও বড় সিদ্ধান্তগুলো উপদেষ্টা পরিষদের সভায় নয়, বরং পরিষদের বাইরে থেকে নেওয়া হতো। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে প্রচারিত এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য দেন।
সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এবং সাবেক নির্বাচন কমিশনার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, তিনি উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হয়েও নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো পরামর্শ দেওয়ার সুযোগ পাননি। তার অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও সরকার তাকে নির্বাচন পদ্ধতি বা রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে কোনো আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করেনি। তিনি বলেন, “আমি তাদের কনসালট্যান্ট ছিলাম না।”
সাক্ষাৎকারে তিনি সরকারের ভেতরে একটি ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ বা প্রভাবশালী মহলের অস্তিত্বের ইঙ্গিত দেন। তার মতে, বড় সিদ্ধান্তগুলো ২৭ জনের উপদেষ্টা পরিষদে আলোচনার আগেই বাইরে নির্ধারিত হয়ে যেত। নির্বাচন পেছানোর বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তার সামনে না এলেও তিনি শুনেছেন যে একটি পক্ষ সময়ক্ষেপণ করতে চেয়েছিল। তবে তিনি মনে করেন, ১৮ মাসের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন হওয়া ইতিবাচক ছিল।
২০২৪ সালের অগাস্টে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার দায়িত্ব পাওয়ার পর পুলিশের ব্যবহৃত ‘সেভেন পয়েন্ট সিক্স টু’ বোরের রাইফেল নিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। সাক্ষাৎকারে তিনি আবারও বিষয়টি উত্থাপন করে বলেন, পুলিশের এই মারাত্মক অস্ত্র সাধারণ মানুষের হাতে কীভাবে গেল তা নিয়ে তিনি তদন্ত করতে চেয়েছিলেন। ভিডিওতে তিনি দেখেছেন লুঙ্গি ও গেঞ্জি পরা ব্যক্তিদের হাতে পুলিশের রাইফেল। এমনকি হেলিকপ্টারে থাকা স্নাইপারদের অনেকের চেহারা ও শারীরিক গঠন স্থানীয়দের মতো ছিল না। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এসব অস্ত্র ও স্নাইপার হয়তো বহিরাগত ছিল। তবে তদন্ত শুরু করার আগেই মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় তাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে শ্রম ও নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।
সাখাওয়াত হোসেন জানান, দায়িত্ব নেওয়ার সাত-আট দিনের মাথায় তিনি উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। তিনি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে বলেছিলেন, “আমার পক্ষে থাকা সম্ভব না, থাকলে আপনিও বিব্রত হবেন।” তবে প্রধান উপদেষ্টার অনুরোধে তিনি শেষ পর্যন্ত থেকে যান।
২০০৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সাখাওয়াত হোসেন ২০২৪ সালের অগাস্টে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম সদস্য ছিলেন। বর্তমানে দেশে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করার পর তিনি তার অভিজ্ঞতার কথা জনসমক্ষে তুলে ধরলেন।