চট্টগ্রামের রাউজানে আবারও রাজনৈতিক সহিংসতায় প্রাণ গেল এক বিএনপি নেতার। সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের অলিমিয়াহাট এলাকার সিকদারপাড়া গ্রামে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হয়েছেন জানে আলম সিকদার (৫০)। ঘটনাস্থলটি পূর্ব গুজরা পুলিশ তদন্তকেন্দ্র থেকে মাত্র পাঁচশ মিটার দূরে।
নিহত জানে আলম স্থানীয় বিএনপি নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী ছিলেন। তিনি পূর্ব গুজরা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং এর আগে যুবদলের সভাপতি ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, মুখোশ পরা তিন যুবক মোটরসাইকেলে এসে জানে আলমের বাড়ির সামনে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি গুরুতর আহত হন। প্রথমে তাকে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়, পরে অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম নগরীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম বাবুল বলেন, জানে আলম ছিলেন বিএনপির সক্রিয় কর্মী। তিনি অভিযোগ করেন, রাউজানে একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটলেও জড়িতদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না। পুলিশের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম জানান, দুর্বৃত্তের গুলিতে একজন নিহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে রাউজানে রাজনৈতিক সহিংসতায় মোট ১৮ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১৩ জন রাজনৈতিক কর্মী। এর আগে যুবদলের কর্মী মুহাম্মদ আলমগীর আলম ও বিএনপির কর্মী মুহাম্মদ আবদুল হাকিমকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এছাড়া বিএনপির কমর উদ্দিন, মো. ইব্রাহিম, মানিক আবদুল্লাহ, মুহাম্মদ সেলিম, দিদারুল আলম ও ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম নিহত হয়েছেন। অপরদিকে আওয়ামী লীগের চার নেতা—আবদুল মান্নান, মুহাম্মদ ইউসুফ মিয়া, আবু তাহের ও মুহাম্মদ হাসানও রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন।
রাউজানে একের পর এক হত্যাকাণ্ডে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বলছেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে সাধারণ মানুষও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।