ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আ ক ম জামাল উদ্দীনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার করেছে পল্টন থানার পুলিশ। বুধবার সকালে গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট এলাকায় “বঙ্গবন্ধু শান্তি পদযাত্রা ২০২৬ (ঢাকা টু টুঙ্গিপাড়া)” কর্মসূচি পালনের সময় তাকে আটক করা হয়। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক ও নাগরিক সমাজের একটি অংশ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
জানা যায়, কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার সকাল ৭টার নির্ধারিত সময়ের কিছু আগে অধ্যাপক জামাল উদ্দীনের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের সামনে থেকে একটি শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা শুরু হয়। পদযাত্রাটি জিরো পয়েন্ট এলাকায় পৌঁছানোর পরপরই পল্টন থানার পুলিশ তাকে আটক করে এবং পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।
পল্টন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুজ্জামান শেখ সাংবাদিকদের জানান, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা কামাল খান।
তবে অধ্যাপক জামাল উদ্দীনের সহকর্মী ও সমর্থকদের দাবি, তিনি একটি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে অবস্থান তুলে ধরছিলেন। সেই কর্মসূচি থেকে একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষককে এভাবে আটক করা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর আঘাত বলে তারা মনে করছেন।
অধ্যাপক জামাল উদ্দীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থি নীল দলের শিক্ষক হিসেবে পরিচিত। এর আগে গত ডিসেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তিনি হেনস্তার শিকার হন। পরে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে ‘গণকান্না’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে আবারও বাধার মুখে পড়েন।
“বঙ্গবন্ধু শান্তি পদযাত্রা ২০২৬ (ঢাকা টু টুঙ্গিপাড়া)” কর্মসূচি ১১ থেকে ১৬ মার্চ পর্যন্ত চলার কথা ছিল। সমর্থকদের অভিযোগ, একটি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা উদ্বেগজনক এবং এটি দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক সহনশীলতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।