কারাগারে বন্দি সাবেক সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিনকে সোমবার আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে তাকে মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় নেওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে দায়িত্বে থাকা এক নারী পুলিশ সদস্য তার মুখ চেপে ধরেন।
ঘটনাটি দুপুরে ঢাকার রেবতী মেনশনের সামনে ঘটে। আদালত সূত্রে জানা যায়, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার অভিযোগ গঠনের দিন ধার্য ছিল। মামলায় তুহিনসহ ৩০ জন আসামি কারাগারে রয়েছেন। শুনানির জন্য তাদের আদালতে আনা হয়।
দুপুর ২টার দিকে আসামিদের মাথায় হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরিয়ে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০ এ হাজির করা হয়। বিচারক ছুটিতে থাকায় ভারপ্রাপ্ত বিচারক রবিউল ইসলাম শুনানির জন্য আগামী ২ মার্চ নতুন দিন ধার্য করেন। এরপর তুহিনসহ অন্যদের মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হচ্ছিল। এ সময় তুহিন কথা বলতে চাইলে পুলিশ সদস্য তার মুখ চেপে ধরেন। কিছুক্ষণ পর প্রিজনভ্যানে করে নারী আসামিদের গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার ইতিহাস অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলা করেন সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মো. এনামুল হক। তদন্ত শেষে গত ৩০ জুলাই শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ১৪ আগস্ট আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।
অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ড. রাব্বী আলমের নেতৃত্বে আয়োজিত ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’-এর জুম মিটিংয়ে শেখ হাসিনা দেশবিরোধী বক্তব্য দেন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উৎখাতের নির্দেশ দেন। সেই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।