জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রায় আড়াই হাজার প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তাঁদের বেশির ভাগই বিলাসবহুল জীবনযাপন করেন—দামি গাড়ি, আভিজাত্যপূর্ণ পোশাক-পরিচ্ছদে চলাফেরা। অথচ নির্বাচনী হলফনামায় তাঁরা নিজেদের দেখাচ্ছেন প্রায় স্বল্পবিত্ত।
অনেক প্রার্থী হলফনামায় বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। অথচ নির্বাচনী প্রচারে অনুমোদিত ব্যয়ই হতে পারে অর্ধকোটি টাকার বেশি। আবার দেখা যাচ্ছে, প্রার্থীরা নিজেদের সম্পদ কম দেখালেও স্ত্রী-সন্তানদের আয়-সম্পদ কয়েক হাজার গুণ বেড়ে গেছে।
প্রার্থীদের আয়কর রিটার্ন ও হলফনামার তথ্যের মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। আয়কর বিভাগও তা যাচাই-বাছাই করেনি। বিশ্লেষকরা বলছেন, অবৈধ আয় লুকানো, কম কর দেওয়া, আইনি ঝামেলা এড়ানো এবং জনমত রক্ষার জন্য প্রার্থীরা আয় কমিয়ে দেখান।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আয় দেখিয়েছেন ছয় লাখ ৭৬ হাজার টাকা, সম্পদ এক কোটি ৯৭ লাখ। জামায়াতের আমির ডা. মোহাম্মদ শফিকুর রহমান বছরে আয় দেখিয়েছেন তিন লাখ ৬০ হাজার টাকা। জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের আয় ১৩ লাখ ৫১ টাকা। সবচেয়ে বেশি সম্পদের মালিক ফেনী-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টু, যার অকৃষি জমি থেকে বার্ষিক আয় সাত কোটি ১৫ লাখ টাকা।
বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে কোটিপতি ২২৩ জন, যা মোট প্রার্থীর ৮৩ শতাংশ। সর্বাধিক ১৭০ জন ব্যবসায়ী, এরপর আইনজীবী, প্রকৌশলী, শিক্ষক ও চিকিৎসক। অনেকেই বিলাসবহুল জীবনযাপন করলেও হলফনামায় তার প্রতিফলন নেই।
এনবিআরের সাবেক সদস্য ড. সৈয়দ আমিনুল করিম বলেন, আয়কর রিটার্নও এক ধরনের হলফনামা। দুই জায়গায় ভিন্ন তথ্য দেওয়া মানে কোথাও ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে। সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান মনে করেন, প্রার্থীরা ভোটার আকর্ষণের জন্য নিজেদের কম সম্পদশালী দেখান। সুজনের কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ বলেন, হলফনামা যাচাই-বাছাইয়ে এনবিআর ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা জরুরি।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, হলফনামায় অসত্য তথ্য দিলে প্রার্থিতা বাতিল করার ক্ষমতা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। তবে বাস্তবে ব্যয় ও সম্পদ যাচাই হয় না। অতীত নির্বাচনে দেখা গেছে, প্রার্থীরা নির্ধারিত ব্যয়সীমার তিন থেকে ছয় গুণ বেশি অর্থ খরচ করেছেন। নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশন ব্যয়ের নিরীক্ষা ও অসংগতি পাওয়া গেলে নির্বাচন বাতিলের সুপারিশ করলেও তা কার্যকর হয়নি।