বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েছে আওয়ামী লীগ। দলটির সভানেত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন ভোটের দিন কেউ যেন ভোটকেন্দ্রে না যায়। এই অবস্থানকে সামনে রেখে দলটির পক্ষ থেকে চালু করা হয়েছে নতুন স্লোগান, ‘নো বোট, নো ভোট’।
বর্তমান ইউনূস সরকারের সময়ে সন্ত্রাস দমন আইনে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় দলটি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। ফলে এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রতীক ‘নৌকা’ দেখা যাবে না। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, এই বাস্তবতায় নির্বাচন থেকে কার্যত সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশের সবচেয়ে পুরোনো রাজনৈতিক দলটি।
রোববার ভার্চুয়াল মাধ্যমে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সভায় শেখ হাসিনা এই নির্দেশনা দেন। বৈঠকে তিনি বলেন, যে নির্বাচনে নৌকা নেই, সেখানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী বা সমর্থকদের থাকার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। তিনি নেতাদের নির্দেশ দেন, মাঠপর্যায়ে কর্মী-সমর্থকদের বুঝিয়ে বলতে হবে—বুথ বর্জনই এখন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অবস্থান ও প্রতিবাদের ভাষা।
এর আগে দুই সপ্তাহ ধরে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার চালানো হয় যে সুযোগ পেলে দলটি নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুত। সরকারের উচ্চপর্যায়ে সেই বার্তাও পৌঁছানো হয়। তবে দলের প্রথম সারির এক নেতা জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত অবস্থান বদলাতে বাধ্য হয়েছে দলটি।
সাম্প্রতিক সময়ে শেখ হাসিনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে অভিযোগ করে আসছিলেন, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামি আওয়ামী লীগের ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধ্য করতে হুমকি দিচ্ছে। সংখ্যালঘু ভোটারদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। রোববারের বৈঠকে তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে ভোট বর্জনই হতে পারে আওয়ামী লীগের আদর্শ প্রতিবাদ।
দলীয় সূত্র জানায়, মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাছাই প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং কয়েক দিনের মধ্যেই আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার শুরু হবে। এই পর্যায়ে এসে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়ার কোনো বাস্তব সুযোগ আর নেই বলেই মনে করছেন দলের নেতারা। ফলে শেখ হাসিনার এই সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।