সর্বশেষ

অন্তর্বর্তী সরকারের ‘অতি উৎসাহ’ ছিল সন্দেহজনক

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে দেশ: আনু মুহাম্মদ

প্রকাশিত: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে দেশ: আনু মুহাম্মদ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সদ্য সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন অর্থনীতিবিদ ও শিক্ষক আনু মুহাম্মদ। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে একটি অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকার দীর্ঘমেয়াদি ও বিতর্কিত চুক্তিতে সই করে দেশকে অর্থনৈতিক ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।

 

বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাব-এর তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ও বাংলাদেশের লাভ-ক্ষতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন ওয়াচ।

 

আনু মুহাম্মদ প্রশ্ন তোলেন, “একটি অনির্বাচিত সরকার কেন নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে সই করতে এত অস্থির হয়ে পড়ল?” তাঁর ভাষায়, অন্তর্বর্তী সরকার চাইলে যুক্তরাষ্ট্রকে জানাতে পারত যে শিগগিরই নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেবে এবং চুক্তি বিষয়ে তাদের সঙ্গেই আলোচনা করা যেতে পারে। কিন্তু তা না করে ‘অতি উৎসাহ’ দেখিয়ে বাংলাদেশকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ফেলে দেওয়া হয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, বাজেট ঘোষণার সময় থেকেই সরকারের এই চুক্তি সম্পাদনে অতিমাত্রায় আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান স্টারলিংকের সঙ্গে চুক্তির প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন রাখেন, “এসব চুক্তির ফলে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বাস্তবে কী পরিবর্তন এসেছে?” তাঁর অভিযোগ, উপদেষ্টা বা বিশেষ সহকারীর ভূমিকায় থাকা ব্যক্তিরা কার্যত আন্তর্জাতিক কোম্পানির লবিস্ট হিসেবে কাজ করেছেন।

 

চুক্তিকে ‘ভয়াবহ’ ও ‘বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে আনু মুহাম্মদ বলেন, ৯ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের কয়েক দিন আগে চুক্তি স্বাক্ষরের কোনো যৌক্তিকতা ছিল না। বিশ্বের অনেক দেশ এখনো এ ধরনের চুক্তিতে সই করেনি; যেসব দেশ করেছে, তাদের শর্ত বাংলাদেশের তুলনায় অনুকূল। তাঁর মতে, এসব চুক্তি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎকে বড় ধরনের সংকটের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

 

নতুন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় পর্যায়ে খোলামেলা আলোচনা করে চুক্তিগুলো পুনর্বিবেচনা করা উচিত। প্রয়োজনে সংশোধন বা বাতিলের পথ খুঁজতে হবে। একই সঙ্গে যারা এসব চুক্তি সম্পাদন করেছেন, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবিও জানান তিনি। বিএনপি সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, “সবার আগে বাংলাদেশ—এই স্লোগান যদি সত্যি হয়, তাহলে প্রথম কাজ হওয়া উচিত দেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার পথ নির্ধারণ করা।”

 

আলোচনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোশাহিদা সুলতানা চুক্তিকে ‘অসম ও ক্ষতিকর’ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে স্বাক্ষরিত এই চুক্তি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, শিল্পনীতি ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্বার্থকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। চুক্তির কিছু বাধ্যতামূলক শর্ত বাংলাদেশের দরকষাকষির সক্ষমতা দুর্বল করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ও কৃষি-শিল্প খাতে ভর্তুকি সীমিত করার সম্ভাব্য শর্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

 

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলোর আইনি ও নৈতিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর মতে, এসব চুক্তির ধারায় ‘আনফেয়ার কন্ট্রাক্ট টার্মস’-এর উপাদান রয়েছে। নতুন করে বিচার-বিশ্লেষণ ছাড়া এগুলো কার্যকর করা হলে অর্থনৈতিক ঝুঁকির পাশাপাশি রাজনৈতিক ও আইনগত জটিলতাও তৈরি হতে পারে।

 

সভায় মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন ওয়াচের সমন্বয়ক বরকত উল্লাহ মারুফ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখনও স্বল্পোন্নত দেশ হলেও আগামী নভেম্বরে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের কথা রয়েছে। তবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানবাধিকার, বাণিজ্য ঘাটতি ও মাথাপিছু ঋণের সূচকে দুর্বলতা রয়ে গেছে। এলডিসি সুবিধা হারানোর আশঙ্কায় জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্রুত চুক্তিতে যাওয়া হয়েছে বলে বক্তারা মত দেন। তবে লাভের তুলনায় ক্ষতির ঝুঁকি বেশি বলেই তাদের পর্যবেক্ষণ।

 

নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় সভায় উন্নয়ন অর্থনীতির গবেষক মাহা মির্জাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বক্তাদের অভিমত, জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব ও নীতিগত স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করে তড়িঘড়ি করে সম্পাদিত চুক্তি দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।

সব খবর

আরও পড়ুন

স্থানীয় পর্যায়ে নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ না করলে পরিণতি হবে ভয়াবহ

বিএনপিকে রুমিন ফারহানার সতর্কবার্তা স্থানীয় পর্যায়ে নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ না করলে পরিণতি হবে ভয়াবহ

পাহাড়ি আদিবাসীদের থেকে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী না পেয়ে ক্ষুদ্ধ আদিবাসী নেতারা

পাহাড়ি আদিবাসীদের থেকে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী না পেয়ে ক্ষুদ্ধ আদিবাসী নেতারা

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে জামায়াতের জয় নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক আলোচনার ঝড়

বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের পাল্টাপাল্টি ব্যাখ্যা বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে জামায়াতের জয় নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক আলোচনার ঝড়

রমজানে অসহায়দের পাশে দাঁড়াতে ছাত্রলীগের আহ্বান

রমজানে অসহায়দের পাশে দাঁড়াতে ছাত্রলীগের আহ্বান

দুর্নীতির সায়ে সাজাপ্রাপ্ত আমলা ইসমাইল জবিউল্লাহকে মন্ত্রী পদমর্যাদায় উপদেষ্টা নিয়োগ

প্রথম দিনেই নতুন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ দুর্নীতির সায়ে সাজাপ্রাপ্ত আমলা ইসমাইল জবিউল্লাহকে মন্ত্রী পদমর্যাদায় উপদেষ্টা নিয়োগ

তারেক রহমানের নেতৃত্বে ৪৯ সদস্যের মন্ত্রিসভা

বিকেলে শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি তারেক রহমানের নেতৃত্বে ৪৯ সদস্যের মন্ত্রিসভা

নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা রোধে নির্বাচন কমিশন-সরকার-দলগুলোর প্রতি আহ্বান

৩৭ বিশিষ্ট নাগরিকের যৌথ বিবৃতি নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা রোধে নির্বাচন কমিশন-সরকার-দলগুলোর প্রতি আহ্বান

সংসদ নির্বাচন ও গণভোট বাতিল করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচনের আহ্বান

বিভিন্ন পেশার ৫ শতাধিক বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতি সংসদ নির্বাচন ও গণভোট বাতিল করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচনের আহ্বান