কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র ঋণখেলাপির দায়ে বাতিল হয়েছে—এমন খবরকে সরাসরি অস্বীকার করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় মঞ্জুরুল মুন্সী বলেন, তার মনোনয়নপত্র নিয়ে কোনো ধরনের জটিলতা নেই এবং গণমাধ্যমে প্রচারিত খবর বিভ্রান্তিকর।
ভিডিও বার্তায় তিনি নিজের আইনজীবী সাইফুল্লাহ মামুনকে ফোনে যুক্ত করেন। আইনজীবী জানান, ব্যক্তি হিসেবে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী কোনো ঋণখেলাপি নন। তার মালিকানাধীন মাম পাওয়ার লিমিটেডের একটি ঋণসংক্রান্ত বিষয়ে আদালতে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছিল। ওই বিষয়ে হাইকোর্ট যে তিন মাসের জন্য খেলাপি তালিকা স্থগিতের আদেশ দিয়েছিলেন, তা চেম্বার আদালত সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে, মুন্সীর প্রার্থিতা বাতিল হয়ে গেছে। এ বিষয়ে আগামী রোববার (১১ জানুয়ারি) আপিল করা হবে বলেও জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, গত ৮ ডিসেম্বর বিচারপতি এ কে এম রবিউল হাসানের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ মাম পাওয়ার লিমিটেডের ঋণসংক্রান্ত বিষয়ে তিন মাসের জন্য খেলাপির তালিকা স্থগিত রাখার আদেশ দেন। পরে প্রিমিয়ার ব্যাংক ওই আদেশের বিরুদ্ধে চেম্বার আদালতে আবেদন করলে বৃহস্পতিবার চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক হাইকোর্টের আদেশ বাতিল করেন। এই ঘটনাপ্রবাহ থেকেই কুমিল্লা-৪ আসনে মনোনয়ন বাতিলের গুঞ্জন ছড়ায়।
একই সময়ে পাবনা-১ ও পাবনা-২ সংসদীয় আসনের নির্বাচন স্থগিত হয়েছে—এমন খবরও ছড়িয়ে পড়ে। তবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) একে স্পষ্টভাবে ভুল ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছে। তথ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস নোটে ইসি জানায়, এই দুই আসনের নির্বাচন স্থগিত রাখার কোনো সিদ্ধান্ত কমিশন নেয়নি। তবে আপিল বিভাগের পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত নির্বাচনি কার্যক্রম আপাতত স্থগিত থাকবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কুমিল্লা ও পাবনার এই দুই ঘটনাপ্রবাহ মিলিয়ে চলমান নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে। আদালতের আদেশ, কমিশনের ব্যাখ্যা আর মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা—সব মিলিয়ে নির্বাচন যেন ধীরে ধীরে ‘চুজ অ্যান্ড পিক’ প্রক্রিয়ায় পরিণত হচ্ছে। কে প্রার্থী থাকবেন, কে বাদ পড়বেন, কোন আসনে ভোট হবে আর কোথায় কার্যক্রম স্থগিত থাকবে—এসব সিদ্ধান্তের পেছনে দৃশ্যমান আইনি যুক্তির পাশাপাশি অদৃশ্য রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ কাজ করছে বলে অভিযোগ উঠছে। অনেকের আশঙ্কা, এই নির্বাচন শেষ পর্যন্ত একটি ‘বাছাই করা’, পূর্বনির্ধারিত ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠতে পারে, যেখানে ভোটের ফল আগেই ঠিক হয়ে যাবে, ভোটারদের হাতে প্রকৃত সিদ্ধান্তের ক্ষমতা না রেখেই।