অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় ১৩ বছরের সাজাপ্রাপ্ত সাবেক সচিব মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ-কে পূর্ণ মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে নতুন সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার প্রথম দিনেই এ নিয়োগের ঘোষণা আসে যা নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেকের ঘোষিত দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
২০০৯-এর দণ্ডাদেশ: কী ছিল মামলার বিবরণ
২০০৯ সালের ২ জুলাই আত্মসমর্পণের পর ঢাকা মহানগর বিশেষ জজ আদালত-৭ ইসমাইল জবিউল্লাহকে কারাগারে পাঠায়। এর আগে ২০০৮ সালের ৫ জুন দুর্নীতি দমন কমিশন-এর দায়ের করা মামলায় তাকে অনুপস্থিতিতে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অভিযোগ ছিল আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ১ কোটি ২৯ লাখ ৬৩ হাজার টাকার সম্পদ অর্জন এবং দুদকে দাখিল করা বিবরণীতে ১ কোটি ১৬ লাখ ১ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপন। অবৈধ সম্পদ অর্জনে ৮ বছর এবং তথ্য গোপনে ৫ বছর কারাদণ্ড দেন বিচারিক আদালত। একই মামলায় তার স্ত্রীকেও ৩ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছিল।
২০২৬-এ মন্ত্রীর পদমর্যাদা
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, সাবেক সচিব মো. ইসমাইল জবিউল্লাহকে পূর্ণ মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি অতীতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দলীয় পরিমণ্ডলে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনে দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
প্রতিশ্রুতি বনাম প্রথম দিনের সিদ্ধান্ত
নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনী প্রচারে বারংবার দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’-এর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু দুর্নীতির অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত এক আমলাকে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা করা সেই ঘোষণার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ তা নিয়ে জনপরিসরে প্রশ্ন উঠেছে। সুশাসন ও জবাবদিহি নিয়ে কাজ করা বিশ্লেষকদের মতে, দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত ব্যক্তিকে রাষ্ট্রের উচ্চপদে বসানো হলে সরকারের নৈতিক অবস্থান দুর্বল হতে পারে এবং দুর্নীতিবিরোধী বার্তা ক্ষুণ্ণ হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
সরকারি মহল থেকে এখনো এ নিয়োগ নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা আসেনি। বিশেষ করে দণ্ড, আপিল বা পরবর্তী আইনি অবস্থার বিষয়ে। তবে নীতিগত প্রশ্নটি থেকেই যাচ্ছে: দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত একজনকে কি রাষ্ট্রের শীর্ষপর্যায়ের নীতিনির্ধারণী কাঠামোয় স্থান দেওয়া উচিত?
রাজনৈতিক বার্তা ও জনআস্থা
দুর্নীতিবিরোধী লড়াইকে অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি করে ক্ষমতায় আসা সরকারের প্রথম দিনের নিয়োগ-সিদ্ধান্ত জনআস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। সমালোচকদের ভাষ্য, “দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান” যদি সত্যিই অগ্রাধিকার হয়, তবে অতীতের দণ্ডিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা ও উচ্চ নৈতিক মানদণ্ড প্রদর্শন করা জরুরি। অন্যথায়, প্রতিশ্রুতি ও প্রয়োগের ফারাক সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।