তফসিল ঘোষিত হওয়ার ১৬ দিন পর ভোটার হওয়ার আবেদন ও প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করলেন তারেক রহমান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিবন্ধনের মাধ্যমে ভোটার হওয়ার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছেন তিনি। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুর ১টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই) ভবনে গিয়ে তিনি ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়া শেষ করেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, তারেক রহমান ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিশ স্ক্যানসহ প্রয়োজনীয় সব বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদান করেন। পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তার সময় লাগে মাত্র ১৮ মিনিট।

জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এস এম হুমায়ুন কবীর জানান, ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও আইরিশ যাচাই শেষে সর্বনিম্ন ৭–৮ ঘণ্টা এবং সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তারেক রহমানের এনআইডি নম্বর জেনারেট হবে।
এতে করে এক নজিরবিহীন উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন তিনি। গত মাসে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের নিবন্ধন ও প্রবাসী শাখা জানিয়েছিল, তফসিল ঘোষণার আগে যদি তিনি দেশে ফিরে ভোটার না হন তাহলে আইনি জটিলতায় পড়বেন। তফসিল হলে সব ধরনের মাইগ্রেশন ও ভোটার কার্যক্রম বন্ধ থাকে। তখন প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ পাঁচ কমিশনার একমত হলেই কেবল বিশেষ বিবেচনায় তফসিলের পরে কাউকে ভোটার করা যায়। তবে সে প্রক্রিয়া অনেক জটিল। সহজ ও সাধারণভাবে তারেক রহমান ভোটার হতে চাইলে অবশ্যই তফসিল ঘোষণার আগে দেশে ফিরতে হবে।
ঢাকা-১৭ আসনের ভোটার হিসেবে নিবন্ধন
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমান রাজধানীর ঢাকা-১৭ সংসদীয় আসনের অন্তর্গত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ১৯ নম্বর ওয়ার্ড, গুলশান এলাকার ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন। সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য দেশের যেকোনো একটি নির্বাচনি এলাকার ভোটার হওয়া বাধ্যতামূলক হওয়ায় তিনি এ এলাকায় ভোটার হওয়ার জন্য অনলাইনে আবেদন করেন।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সিনিয়র সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, তারেক রহমান ও তার কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান—দুজনেরই এনআইডি নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
জাইমা রহমান ও জুবাইদা রহমানের এনআইডি কার্যক্রম
শনিবার বেলা ১২টা ২০ মিনিটের দিকে তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমান নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবনে প্রবেশ করেন। জাইমা রহমান প্রথমে ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন এবং দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে ভবন ত্যাগ করেন।

এরপর দুপুর ১টার দিকে তারেক রহমান ইটিআই ভবনে প্রবেশ করেন। এ সময় নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নেতাকর্মীদের স্লোগান
তারেক রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের আগমনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই নির্বাচন কমিশন ভবন ও আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পুলিশ, র্যাবসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়।

নিরাপত্তাজনিত কারণে সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষকে নির্বাচন কমিশন ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। ভোটার নিবন্ধন শেষে দুপুর ১টা ১৮ মিনিটের দিকে ভবন ত্যাগ করার সময় তারেক রহমান বাইরে অপেক্ষমান নেতাকর্মীদের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় নেতাকর্মীরা তাকে ঘিরে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হাদির কবর জিয়ারত
ভোটার নিবন্ধনের আগে শনিবার সকালে তারেক রহমান ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করেন। সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে গুলশানের বাসা থেকে বের হয়ে বেলা ১১টা ২০ মিনিটে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদসংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে অবস্থিত হাদির কবরস্থানে পৌঁছান।
এ সময় তিনি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান এবং সূরা ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাত করেন।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরেও শ্রদ্ধা
শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারতের পর তারেক রহমান জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরেও শ্রদ্ধা জানান। সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন তিনি।

কবর জিয়ারতের সময় তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা।
পিলখানা ট্রাজেডিতে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের কবর জিয়ারত
শনিবার দুপুরে তারেক রহমান রাজধানীর বনানী সামরিক কবরস্থানে গিয়ে পিলখানা ট্রাজেডিতে শহীদ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তার কবর জিয়ারত করেন। সেখানে তিনি শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন।

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত ঘটনায় তৎকালীন বিডিআর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা নিহত হন।
আরাফাত রহমান কোকো ও শ্বশুরের কবর জিয়ারত
একই দিনে তারেক রহমান বনানী কবরস্থানে তার ছোট ভাই মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর কবর জিয়ারত করেন। পাশাপাশি তার শ্বশুর, সাবেক নৌবাহিনী প্রধান ও সাবেক মন্ত্রী রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের কবরেও শ্রদ্ধা জানান তিনি।
২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে আরাফাত রহমান কোকো মারা যান।