চট্টগ্রাম বন্দর কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনি সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, স্বাধীনতার প্রথম ঘোষক ছিলেন কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম, জিয়াউর রহমান নন। তিনি দাবি করেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় চট্টগ্রাম থেকেই স্বাধীনতার প্রথম ঘোষণা উচ্চারিত হয়েছিল এবং কর্নেল অলি আহমদই ‘উই রিভল্ট’ বলে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কর্নেল অলি মুক্তিযুদ্ধে রণাঙ্গনে লড়াই করেছেন এবং বিএনপি গঠনে জিয়াউর রহমানের পরে দ্বিতীয় ব্যক্তি ছিলেন। কিন্তু বর্তমান বিএনপি আর জিয়ার দল নয়, তাই তিনি সেখানে থাকতে পারেন না। জামায়াত আমির আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই খুনের রাজনীতি শুরু করেছে। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর জিরো পয়েন্টে প্রকাশ্য দিবালোকে ছয়জন জামায়াত কর্মীকে হত্যা করা হয়েছিল। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণকে সম্মান ও ভালোবাসার পথে আনতে ব্যর্থ হয়েছে, বরং তারা বিরোধীদের ওপর হামলা করছে এবং নারীদের হেনস্তা করছে।
সীতাকুণ্ডে আয়োজিত জনসভায় তিনি বলেন, একটি দল বিভিন্ন ষড়যন্ত্র শুরু করেছে কিন্তু তা সফল হবে না। জনগণ দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজিমুক্ত এবং সুশাসনের বাংলাদেশ দেখতে চায়। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, নির্বাচিত হলে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ করা হবে। কক্সবাজারে আয়োজিত জনসভায় তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচন ফ্যাসিবাদকে লাল কার্ড দেখানোর নির্বাচন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, নারীদের মাস্টার্স পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ দেওয়া হবে এবং কক্সবাজারকে একটি সুশৃঙ্খল পর্যটন জেলা হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
কক্সবাজারের জনসভায় তিনি আরও বলেন, হেভিওয়েট প্রার্থীরা তাদের প্রার্থীকে ভয় দেখাচ্ছে। কিন্তু জনগণ দাঁড়িপাল্লায় রায় দিয়ে তাদের শক্তি মাপবে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, নির্বাচিত হলে নারীদের মাথার ওপর করে রাখা হবে এবং শিক্ষিত যুবকদের হাতে কাজ তুলে দেওয়া হবে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কক্সবাজার কেন সিঙ্গাপুর বা সাংহাই হতে পারল না। তার দাবি, কক্সবাজারের চারটি আসন ১১ দলকে দিলে একটি সুশৃঙ্খল পর্যটন জেলা উপহার দেওয়া হবে।
লোহাগাড়ায় আয়োজিত জনসভায় তিনি বলেন, জনগণ যদি জামায়াতকে দায়িত্ব দেয়, তারা শাসক নয় বরং সেবক হবে। সমাবেশে এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমদসহ ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরা বক্তব্য রাখেন। পরে জোটের প্রতীক প্রার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে একাধিক জনসভায় জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণার ইতিহাস নতুনভাবে ব্যাখ্যা করেন এবং আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি জনগণকে আহ্বান জানান আসন্ন নির্বাচনে ফ্যাসিবাদকে লাল কার্ড দেখাতে এবং দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে।