জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন নির্বাচনি জোটে শেষ পর্যন্ত যোগ না দিয়ে ২৬৮টি আসনে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। বাকি ৩২টি আসনে নীতি ও আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্য রয়েছে—এমন প্রার্থীদের সমর্থন দেওয়ার কথাও জানিয়েছে দলটি। জোট থেকে সরে দাঁড়ানোর পেছনে ‘ইনসাফ না পাওয়া’ এবং ‘ইসলামের আদর্শ থেকে বিচ্যুতি’র অভিযোগ তুলেছে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন দলটি।
শুক্রবার বিকেলে পুরানা পল্টনের নোয়াখালী টাওয়ারে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন দলের মুখপাত্র ও যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান। তিনি জানান, দলের আমির সৈয়দ রেজাউল করিমের নির্দেশে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
গাজী আতাউর রহমান বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৭০টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিল। এর মধ্যে আপিলে দুইজনের মনোনয়ন বাতিল হলেও বাকি ২৬৮ জন প্রার্থী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। “আমরা স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছি—একজনও মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন না,” বলেন তিনি।
জোট ছাড়ার ব্যাখ্যায় আতাউর রহমান বলেন, ইসলামী আন্দোলন ক্ষমতার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়, তাদের মূল লক্ষ্য ইসলাম ও নীতি-আদর্শভিত্তিক রাজনীতি। কিন্তু জোট আলোচনার শেষ পর্যায়ে এসে তারা দেখেছেন, ইনসাফ ও আদর্শের প্রশ্নে দলটি ক্রমাগত উপেক্ষিত হয়েছে। “আমরা নেতাকর্মী ও ইসলামপন্থি জনতার আবেগের সঙ্গে প্রতারণা করতে পারি না,” বলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তার দাবি, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর নির্বাচন-পরবর্তী জাতীয় সরকার গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন, যা জোটের শরিকদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই করা হয়েছে। “যখন প্রতিদ্বন্দ্বী দলের সঙ্গে আগেভাগেই সমঝোতার ইঙ্গিত দেওয়া হয়, তখন প্রশ্ন ওঠে—এই নির্বাচন আদৌ ইলেকশন হবে, নাকি সিলেকশন,” বলেন আতাউর রহমান।
তিনি আরও বলেন, ইসলামী আন্দোলনের যেহেতু ২৬৮ আসনে প্রার্থী রয়েছে এবং ৩২টি আসন ফাঁকা আছে, সেসব আসনে মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর নীতি ও আদর্শে মিল আছে—এমন সৎ ও যোগ্য প্রার্থীদের সমর্থন দেওয়া হবে। লক্ষ্য হলো ৩০০ আসনেই ইসলামের পক্ষে ‘ওয়ান বক্স নীতি’ কার্যকর করা।
সংবাদ সম্মেলনে দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম মহাসচিব আশরাফুল আলম, সহকারী মহাসচিব আহমদ আব্দুল কাইয়ুম, কে এম আতিকুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ ইফতেখার তারিকসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।
উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বে গঠিত ‘১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য’ থেকে শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়াল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, যা ইসলামপন্থি রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।