বাংলাদেশ ছাত্রলীগ তাদের ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। “Anniversary of Resurgence, Call of Resistance” শিরোনামে ঘোষিত এই কর্মসূচির মাধ্যমে সংগঠনটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গণতন্ত্র, শিক্ষা ও মৌলিক অধিকার রক্ষার সংগ্রাম জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে।

কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের পক্ষ থেকে প্রকাশিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৪ জানুয়ারি বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতির ইতিহাসে কেবল একটি স্মরণীয় দিন নয়, বরং এটি প্রতিরোধ, গণআন্দোলন ও স্বাধীনতার সংগ্রামের প্রতীক। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং সাম্প্রতিক সময়ের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা তুলে ধরা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়, বর্তমানে একটি অগণতান্ত্রিক, দমনমূলক ও ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে বিরোধী মত দমন করছে। এই পরিস্থিতিতে ছাত্রলীগ আবারও ইতিহাসের দায় নিয়ে সংগঠিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চায়। সংগঠনটির দাবি, জনগণের ভোটাধিকার, শিক্ষা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—
৪ জানুয়ারি অনলাইন মাধ্যমে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা ও ভিডিও বার্তা প্রচার।
৪ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় সংসদের ভার্চুয়াল আলোচনা সভা যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত হবেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।
৪ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন কেন্দ্রীয় ও জেলা কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং আলোচনা সভা।
৫–১২ জানুয়ারি বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে ধারাবাহিক কর্মসূচি, যার মধ্যে রয়েছে—দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে সংহতি কর্মসূচি, শিক্ষা অধিকার পুনরুদ্ধারের দাবিতে প্রতিবাদ, শহীদদের স্মরণে অনুষ্ঠান, নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে মিছিল ও ক্যাম্পেইন, সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, পাঠ্যবই সংকট ও শিক্ষাব্যবস্থার অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে মানববন্ধন।
১০ জানুয়ারি জাতির পিতার ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে বিশেষ আলোচনা সভা আয়োজনের কথাও জানানো হয়। এছাড়া ৮–১৫ জানুয়ারি অনলাইন কনটেন্ট প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ রয়েছে।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব কর্মসূচির মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াই এবং শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের সংগ্রাম আরও বেগবান করা হবে।