বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে আওয়ামী লীগকে বাদ দেওয়া হলে দেশে কোনো রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরবে না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ। ভারতে অবস্থানরত এই আওয়ামী লীগ নেতা শনিবার নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “যে দল ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছে এবং একাধিকবার দেশ শাসন করেছে, সেই দলকে বাইরে রেখে নির্বাচন হলে তা হবে সাজানো নির্বাচন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে কোনো স্থায়ী স্থিতিশীলতা আসবে না।”
প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়ায় আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে হাসান মাহমুদ বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন আদৌ অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা নিয়েও তাঁর সন্দেহ রয়েছে। যদিও নির্বাচন কমিশন ওই তারিখে ভোটগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে, তবে অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হাসান মাহমুদ বলেন, আওয়ামী লীগ ও ভারতের সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে গভীর ও বন্ধুত্বপূর্ণ। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত শুধু সীমান্ত খুলে দেয়নি, বরং দেশটির জনগণ প্রায় এক কোটি বাংলাদেশিকে আশ্রয় দিয়ে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তিনি জানান, শেখ হাসিনার সরকার পতনের পরও আওয়ামী লীগ ভারতের সমর্থন ও সহযোগিতা পেয়ে আসছে এবং দলটি এই সম্পর্ককে গুরুত্বের সঙ্গে দেখে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগকে নির্বাচনের বাইরে রেখে অন্তর্বর্তী সরকার মূলত প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি করছে। “এই প্রশাসনের অধীনে আওয়ামী লীগের জন্য কখনোই সমতাভিত্তিক রাজনৈতিক মাঠ তৈরি হবে না,” বলেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচনমুখী দল এবং জনগণের ভোটের মাধ্যমেই ক্ষমতায় আসার ঐতিহ্য তাদের রয়েছে।
আওয়ামী লীগ বর্তমানে একটি বৈশ্বিক প্রচারণা চালাচ্ছে বলেও জানান হাসান মাহমুদ। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৬ মাসে বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন, সংখ্যালঘু নির্যাতন ও রাজনৈতিক সহিংসতার যেসব ঘটনা ঘটেছে, সেগুলো আন্তর্জাতিক মহলে তুলে ধরাই এই প্রচারণার উদ্দেশ্য। খুব শিগগিরই ভারতে আরও একটি আন্তর্জাতিক মিডিয়া ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হবে বলেও তিনি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। তিনি বলেন, সরকার পরিবর্তনের পর বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। তাঁর দাবি, প্রতিশোধমূলক হামলায় বহু পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন এবং “দায়মুক্তির সংস্কৃতি” দেশে গভীরভাবে প্রোথিত হয়েছে।
দুই নেতা জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তরের (ওএইচসিএইচআর) জুলাই–আগস্ট ২০২৪-এর ছাত্র আন্দোলনবিষয়ক প্রতিবেদনের তীব্র সমালোচনা করেন। হাসান মাহমুদ অভিযোগ করেন, প্রতিবেদনটি একপেশে, পক্ষপাতদুষ্ট এবং অন্তর্বর্তী সরকারের বয়ানকে রক্ষা করতেই এটি তৈরি করা হয়েছে। তাঁর দাবি, ওই প্রতিবেদনে আওয়ামী লীগ কর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলার বিষয়গুলো উপেক্ষিত হয়েছে।
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়েও মন্তব্য করেন হাসান মাহমুদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে ভারতের নিরাপত্তা বা ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি কোনো হুমকি তৈরি হলে ভারত নিশ্চয়ই তা মেনে নেবে না—এ বাস্তবতা সবাইকে মনে রাখতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে হাসান মাহমুদ দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “আমরা দেশে ফিরব। শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই আওয়ামী লীগ আবার রাজনীতিতে সক্রিয় হবে এবং জনগণের মাধ্যমেই ক্ষমতায় ফিরে আসবে।”