বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান নির্বাচনী প্রকৌশল বা ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির নায়েবে আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের তাদের জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় এনে বিচার করার দাবি জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন তিনি।
তাহের বলেন, “খলিলুর রহমান লন্ডন ষড়যন্ত্রের প্রধান হোতা ছিলেন। সেখান থেকে তিনি সরকারকে প্রভাবিত করে বর্তমান ক্ষমতাসীনদের সুবিধা দিতে কাজ করেছেন। সেই কাজের পুরস্কার হিসেবেই তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন।”
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করে। ওই সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানকে দায়িত্ব দেওয়ায় অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তাহের।
জামায়াত নেতা জানান, সংসদ নির্বাচনে অন্তত ৫৩টি আসনে ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে তাদের দল সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জমা দিয়েছে। নির্বাচনের আগেও অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছিল বলে দাবি করেন তিনি।
তাহের বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের একটি নীতিগত অবস্থান ছিল—যারা ওই সরকারের দায়িত্বে থাকবেন তারা পরবর্তী কোনো দলীয় সরকারের মন্ত্রিসভায় যোগ দেবেন না। কিন্তু খলিলুর রহমান সেই নীতির পরিপন্থী কাজ করে বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানের একটি সাম্প্রতিক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গও তোলেন জামায়াতের এই নেতা। তাহের বলেন, রিজওয়ানা হাসান এক সাক্ষাৎকারে মন্তব্য করেছিলেন যে “যারা নারীদের অধিকার নিশ্চিত করতে পারেনি, তারা বিরোধী দলে থাকলেও তাদের মূলধারার শক্তি হিসেবে আসতে দেওয়া হয়নি।”
এই বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তাহের দাবি করেন, এতে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার ইঙ্গিত রয়েছে এবং এটি ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ স্বীকারোক্তির মতো।
তিনি বলেন, “আমরা জানতে চাই, কীভাবে পরিকল্পিতভাবে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে নিয়োগ দিয়ে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করা হয়েছে।”
তাহের আরও বলেন, খলিলুর রহমান ও রিজওয়ানা হাসান জাতির সঙ্গে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করেছেন। তাই তাদের জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় এনে পুরো ঘটনার সত্যতা জাতির সামনে তুলে ধরতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার কয়েকটি ঘটনা এবং বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এ সময় তিনি দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে জামায়াত নেতাদের সাম্প্রতিক বৈঠকের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ওই বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক, বাণিজ্য এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিনিয়োগের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।