ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ‘সুপরিকল্পিত প্রহসন’ ও ‘প্রতারণামূলক আয়োজন’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচন বাতিল এবং নতুন করে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ভোট আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ভোটগ্রহণের পর এক লিখিত বিবৃতিতে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
বিবৃতিতে শেখ হাসিনা বলেন, “আজকের তথাকথিত নির্বাচন ছিল মূলত একটি সুপরিকল্পিত প্রহসন। জনগণের ভোটাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সংবিধানের চেতনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আওয়ামী লীগবিহীন ও ভোটারবিহীন নির্বাচন আয়োজন করা হয়েছে।” তিনি দাবি করেন, এই নির্বাচন জনগণের অংশগ্রহণ ও আস্থার প্রতিফলন ঘটাতে ব্যর্থ হয়েছে।
নির্বাচনের আগের রাত থেকেই অনিয়ম শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ১১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার পর থেকে বিভিন্ন এলাকায় ভোটকেন্দ্র দখল, গোলাগুলি, ব্যালট পেপারে আগাম সিল মারা, টাকার বিনিময়ে ভোট কেনাবেচা এবং ফলাফল শিটে এজেন্টদের স্বাক্ষর নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। “এসবের মধ্য দিয়েই প্রহসনের সূচনা হয়,” উল্লেখ করেন তিনি।
ভোটের দিন কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি কম থাকার বিষয়টি তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, সকাল থেকে অধিকাংশ কেন্দ্রে ছিল ‘নগণ্য উপস্থিতি’। নির্বাচন কমিশনের তথ্য উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘‘সকাল ১১টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণের হার ছিল মাত্র ১৪.৯৬%৷ ভোটগ্রহণের উৎকর্ষ সময়ে জনগণের এই কম অংশগ্রহণই প্রমাণ করে যে আওয়ামী লীগবিহীন এই ভোট জনগণ বর্জন ও প্রত্যাখ্যান করেছে৷’’
তিনি অভিযোগ করেন, বিগত কয়েক দিন ধরে আওয়ামী লীগের ভোটার, সমর্থক-শুভানুধ্যায়ী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর লাগাতার হামলা, গ্রেফতার ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে৷ ‘‘তবুও সকল ভয়ভীতি উপেক্ষা করে তারা এই প্রতারণামূলক নির্বাচন বর্জন ও প্রত্যাখ্যান করেছে,’’ বলেন শেখ হাসিনা৷
শেখ হাসিনা নির্বাচন বাতিলের পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পদত্যাগ, সব রাজনৈতিক বন্দির মুক্তি, আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অংশগ্রহণমূলক ও অবাধ নির্বাচনের দাবি জানান। তার মতে, জনগণের প্রকৃত মতামত প্রতিফলিত করতে হলে নতুন করে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই।