আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে প্রশাসন ও নির্বাচনী কাঠামোকে নিয়ন্ত্রণে আনার বক্তব্যে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী। তাঁর বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
শনিবার রাতে চট্টগ্রাম নগরের জিইসি কনভেনশন সেন্টারে জামায়াতের নির্বাচনী দায়িত্বশীলদের সমাবেশে তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে প্রশাসনের কর্মকর্তারা জামায়াতের নির্দেশে কাজ করবে, গ্রেপ্তার-মামলা করবে এবং প্রাইমারি থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষকেরা দাঁড়িপাল্লার পক্ষে কথা বলবেন। বক্তব্যে তিনি আরও দাবি করেন, ভারতের দিক থেকে নির্বাচন ঘিরে বস্তা বস্তা টাকা ও অস্ত্র দেশে ঢুকতে পারে।
বক্তব্যের একটি পর্যায়ে তিনি উল্লেখ করেন, সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে শত কোটি টাকার সহযোগিতা করেছেন। একই সময়ে স্থানীয় বিভিন্ন পেশাজীবী গোষ্ঠীকে সম্মেলনে সম্পৃক্ত করার গুরুত্বও তুলে ধরেন।
তবে বক্তব্য ঘিরে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলে জামায়াত নেতৃত্ব বিষয়টি থেকে সরে দাঁড়ায়। দলটির অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম জোন প্রধান মুহাম্মদ শাহজাহান এক বিবৃতিতে বলেন, শাহজাহান চৌধুরীর বক্তব্য সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত এবং দল এটি সমর্থন করে না। প্রশাসনের ওপর দলের কোনো প্রভাব বিস্তারের ইচ্ছাও নেই বলে তিনি দাবি করেন।
বিতর্কিত বক্তব্যের পর চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি শাহজাহান চৌধুরীকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, এ বক্তব্য নিরপেক্ষ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্র এবং প্রশাসনকে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার সমতুল্য।
শাহজাহান চৌধুরী অবশ্য দাবি করেছেন, তাঁর বক্তব্যের উদ্দেশ্য বিকৃত করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে প্রশাসন জনগণের স্বার্থে কাজ করবে—এ কথাই বোঝাতে চেয়েছিলেন তিনি।
সব মিলিয়ে চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে এমন বক্তব্য ভোটের পরিবেশকে অস্থিতিশীল করতে পারে এবং প্রশাসনের ওপর নজিরবিহীন চাপ তৈরির বার্তা ছড়িয়ে দেয়।