বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিরতা, গণতন্ত্রের সংকট ও চরমপন্থার উত্থান নিয়ে বিস্তৃত বক্তব্য দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। ভারতের একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রত্যক্ষ মদতে চরমপন্থী শক্তিগুলো সক্রিয় হয়েছে এবং এ পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই।
সরকার পতনের পর থেকে ভারতে অবস্থান করা শেখ হাসিনা বলেন, ভারত বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু। তাঁকে আশ্রয় ও সমর্থন দেওয়ার জন্য তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও ভারতীয় জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন, কূটনৈতিক স্থাপনায় হামলা এবং বাংলাদেশ থেকে উসকানিমূলক বক্তব্য নিয়ে ভারতের উদ্বেগ সম্পূর্ণ যুক্তিসংগত।
শেখ হাসিনার ভাষায়, অন্তর্বর্তী সরকার চরমপন্থী ও জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোকে প্রশ্রয় দিচ্ছে, যারা বাংলাদেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না। তিনি অভিযোগ করেন, গণতন্ত্র ভেঙে দেওয়া হয়েছে, রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং নির্বিচারে গ্রেপ্তার এখন নিত্যদিনের ঘটনা। নারী সমাজকে জনজীবন থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা নিয়মিত সহিংসতার শিকার হচ্ছেন।
আসন্ন ফেব্রুয়ারির নির্বাচন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ রেখে অনুষ্ঠিত যে কোনও নির্বাচনই হবে ‘নামমাত্র’। তাঁর দাবি, প্রকৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিরোধী দলগুলোকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখা হচ্ছে, আর প্রশাসনের পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকার কারণে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি বলেন, “ব্যালট বাক্সে আমাদের মোকাবিলা করার সাহস না থাকায় আমাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে।”
আওয়ামী লীগের সমর্থকদের প্রতি তাঁর আহ্বান শান্ত ও ধৈর্যশীল থাকার। শেখ হাসিনার জানান, বর্তমানে ১ লাখ ৫২ হাজারের বেশি দলীয় নেতাকর্মী রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় কারাবন্দি এবং কারাগারে অমানবিক পরিস্থিতির কারণে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
বাংলাদেশের বর্তমান অরাজক অবস্থার জন্য তিনি সরাসরি অন্তর্বর্তী সরকার ও প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে দায়ী করেন। তাঁর অভিযোগ, এই সরকার পরিকল্পিতভাবে অর্থনীতি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক কাঠামো ধ্বংস করছে। বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়েছে, আমদানি-রপ্তানি বাধাগ্রস্ত এবং কর্মসংস্থান প্রায় ভেঙে পড়েছে।
নিজের সরকারের সময়কার অর্জনের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ একসময় এই অঞ্চলে অর্থনৈতিক অগ্রগতি, ধর্মীয় সহনশীলতা ও সামাজিক উন্নয়নের উদাহরণ ছিল। সেই অর্জন আজ ধ্বংসের মুখে।
ঢাকায় ফেরার প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, সাংবিধানিক শাসন ও আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত তাঁর ফেরা সম্ভব নয়। আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি এবং সত্যিকার অর্থে অবাধ নির্বাচন আয়োজনই তাঁর ফেরার প্রধান শর্ত বলে জানান তিনি।