বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে সীমান্তবর্তী আসনগুলোতে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের জয় পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাতক্ষীরা–৪ থেকে মেহেরপুর–২ পর্যন্ত সীমান্ত বরাবর আসনগুলোতে জামায়াতের জোট বিজয়ী হয়েছে।
খুলনা, যশোর, কুষ্টিয়া ও পাবনার অভ্যন্তরীণ আসনেও তাদের জয় ধরা পড়েছে। উত্তরাঞ্চলে রাজশাহী–১, চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি আসনসহ নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের অনেক আসনও তাদের দখলে গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় জামায়াতের এই ফলাফল পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে। বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেস উভয় দলই নিজেদের রাজনৈতিক সুবিধার জন্য এ ফলাফলকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করছে।
বিজেপি বরাবরই অভিযোগ করে আসছে যে সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক অনুপ্রবেশ ঘটে এবং রাজ্যের ক্ষমতাসীন দলগুলো সেই অনুপ্রবেশকারীদের মদত দেয়। বিজেপির মুখপাত্র বিমল শঙ্কর নন্দ বলেন, “বাংলাদেশে জামায়াতের জয় পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া না দেওয়ার কারণে অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে, আর এ সুযোগ কট্টরপন্থিরা কাজে লাগাচ্ছে।” তার মতে, জামায়াত সীমান্ত দিয়ে আরও মানুষ ভারতে পাঠাতে পারে, যা পশ্চিমবঙ্গবাসীর জন্য আতঙ্কজনক।
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা বিএনপির জয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী ফলাফল ঘোষণার দিন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। তৃণমূলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, “হিন্দু মৌলবাদ আর ইসলামি মৌলবাদ একে অপরের পরিপূরক। বাংলাদেশে জামায়াত যেমন, ভারতে বিজেপি তেমনই।” তিনি দাবি করেন, বিজেপির উত্থানই সীমান্তের ওপারে জামায়াতকে শক্তিশালী করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিজেপি জামায়াতের জয়কে ধর্মীয় মেরুকরণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইবে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস প্রচার করবে যে বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষ শক্তি জয়ী হয়েছে। তবে সীমান্ত অঞ্চলে জামায়াতের শক্তি নতুন নয়; দেশভাগের পর থেকেই এ এলাকায় তাদের সংগঠন দৃঢ় ছিল। এবারের নির্বাচনে সেই ঐতিহাসিক বাস্তবতা আরও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
সব মিলিয়ে বাংলাদেশে জামায়াতের সীমান্তবর্তী আসনে জয় শুধু ঢাকার রাজনীতিতেই নয়, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী সমীকরণেও নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেস উভয় দলই এ ফলাফলকে নিজেদের রাজনৈতিক কৌশলে কাজে লাগাতে চাইছে।