জুলাই দাঙ্গার সময় যেসব থানা এলাকায় প্রাণহানি ঘটেছে, সেসব থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) থেকে শুরু করে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের নামের তালিকাও করা হচ্ছে। তালিকা চূড়ান্ত হলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। এছাড়া জুলাই যোদ্ধাদের সকল সহিংসতাকে দ্রুততম সময়ে দায়মুক্তি দিয়ে নতুন অধ্যাদেশ জারির দাবীও করেছে সংগঠনটি।
রোববার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচির ঘোষণা দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদ। সংবাদ সম্মেলনে হবিগঞ্জে সংগঠনের নেতা মাহদী হাসানকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়েও কথা বলেন তিনি।
রিফাত রশিদ জানান, সংগঠনের দ্বিতীয় কর্মসূচি হিসেবে জুলাই সহিংসতা-পরবর্তী সময়ে সংঘটিত কর্মকাণ্ডের জন্য দায়মুক্তি (ইমডেমনিটি) প্রদানের অধ্যাদেশ দ্রুত জারি করতে সরকারকে বাধ্য করতে তারা চাপ সৃষ্টি করবেন। এ লক্ষ্যে আইন উপদেষ্টা ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে অবিলম্বে মতবিনিময়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “কোনো ধরনের তালবাহানা আমরা মানব না। আজ থেকেই অ্যাকশনের পথে এগিয়েছি।”
সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—হবিগঞ্জের নেতা মাহদী হাসানকে কেবল জামিন নয়, নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে এবং হবিগঞ্জ সদর থানার ওসিকে অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। পাশাপাশি জুলাই দাঙ্গায় অংশগ্রহণকারীদের ১ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত পরিচালিত সব কর্মকাণ্ডের জন্য দায়মুক্তি দিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অধ্যাদেশ জারি করতে হবে।
তৃতীয় দাবিতে বলা হয়, জুলাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীসহ সামরিক, আধা সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবদান রাষ্ট্রীয়ভাবে ইতিহাসে লিপিবদ্ধ করতে হবে। তাঁদের সম্মাননা, স্বীকৃতি ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে হয়রানি বন্ধে একটি স্থায়ী কমিশন গঠনের দাবিও জানানো হয়। একই সঙ্গে ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে যাঁরা ‘ফ্যাসিবাদের রোষানলে’ পড়ে সশস্ত্র বাহিনীতে পদোন্নতিবঞ্চিত হয়েছেন, তাঁদের দ্রুত পদোন্নতি দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল পদে পদায়নের দাবি করা হয়।
মাহদী হাসানের জামিন প্রসঙ্গে রিফাত রশিদ বলেন, “মাহদী হাসানকে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া হয়নি, একটি মামলায় কেবল জামিন দেওয়া হয়েছে। ফলে আমাদের প্রথম দাবি এখনো পূরণ হয়নি। এই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।”
সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মইনুল ইসলাম, মুখপাত্র সিনথিয়া জাহিন আয়েশাসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।