সর্বশেষ

ইমানদণ্ড ও আইসিসির ইনসাফ: একখানা ব্যঙ্গগাঁথা

প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:৪৩
ইমানদণ্ড ও আইসিসির ইনসাফ: একখানা ব্যঙ্গগাঁথা

ভেঙ্গেছি কলসির কানা তাই বলিয়া প্রেম দেবেনা? বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ ক্রিকেট হইতে বাদ দেওয়া হইয়াছে। আমরা তো বলিয়াছি, “আমরা খেলিব না।” কিন্তু তাহা তো অভিমান! প্রেমে তো অভিমান থাকিবে। আইসিসি কি প্রেম বোঝে না? না কি তাহারা ক্রিকেট খেলায় শুধু ব্যাট-বল বোঝে, হৃদয়ের হাহাকার বোঝে না?

 

শীতকালে একটু গরম ওয়াজ করিয়াছি, তাই বলিয়া লেপ টানিয়া নিয়া যাবে? এ কেমনতরো ইনসাফ? আমাদের মোল্লারা তো দিনরাত গাঁজাতুল হিন্দ বলিয়া তসবি গোনেন, হিন্দুস্তান দখলের স্বপ্ন দেখেন। কই, তাহাতে তো চাল, পেঁয়াজ, আলু, মরিচ আমদানি বন্ধ হয় নাই! তাহাদের উপর তো নিষেধাজ্ঞা পড়ে নাই! সেই জোশে না হয় নজরুল সাহেব বলিয়াছেন, “আমরা খেলিব না।” তাহা হইলে আইসিসি একবার সাধিবে না?

 

আমাদের দেশে মৌসুমী ওয়াজকারীরা আছেন। তাঁহারা বলেন, “হে যুবক, খেলাধুলা বাদ দাও, গান বাজনা বাদ দাও, শিল্প সংস্কৃতি বাদ দাও। চার বিবি নিয়া থাকো আর গাঁজাতুল হিন্দ নিয়া ভাবো।” এই নসিহত যুবকরা না শুনিলেও, আইসিসি শুনিল কেন? ইহা যে মৌসুমী বাণী, তাহা কী তাহাদের মাথায় ঢোকে না।

 

বিশ্বকাপে চিয়ার নারীরা নাচে। তাহাতে আমাদের ইমানদণ্ড কাঁপে। অতএব, ইমানদণ্ড মজবুত রাখিবার জন্য ক্রিকেট খেলা বাদ। এই যুক্তি আমাদের মোল্লারা দেন। কিন্তু প্রশ্ন হইল, ইমানদণ্ড কি ব্যাটের মতো? তাহা কি কাঁপিলে খেলা বন্ধ হইবে? না কি তাহা মজবুত করিয়া আবার খেলা চালানো যাইবে?

 

আইসিসি যদি আমাদের বাদ দিয়েই থাকে, তাহা হইলে তাহারা বুঝাইতেছেন তাহারা আমাদের মোল্লাদের ওয়াজ শুনেন। তাহারা বুঝেন, বাংলাদেশ খেলিলে ইমান কাঁপে। তাই তাহারা বলিয়াছেন, “তোমরা খেলিও না, আমরাও তোমাদের খেলাইবো না।”

 

আমাদের মোল্লারা বলিয়াছেন, “ক্রিকেট খেলিলে জান্নাত দূরে যায়।” কিন্তু তাহারা বলেন নাই, “ক্রিকেট না খেলিলে বিশ্বকাপ দূরে যায়।” এই ফাঁকে আইসিসি আমাদের দূরে ঠেলিয়া দিল। এখন আমরা জান্নাতের পথে, কিন্তু বিশ্বকাপের বাইরে।

 

তাহারা বলিয়াছেন, “গান বাজনা হারাম।” কিন্তু ক্রিকেট মাঠে তো ব্যান্ড বাজে, জিঙ্গেল বাজে, চিয়ার ললনারা নাচে। তাহারা বলেন, “এইসব দেখিলে ইমান নড়ে।” কিন্তু প্রশ্ন হইল, ইমান কি এতই দুর্বল? তাহা কি একখানা নাচে কাঁপিয়া যায়?

 

আমরা বলিয়াছি, “আমরা খেলিব না।” তাহারা বলিয়াছেন, “তোমরা খেলিও না।” এখন আমরা বলিতেছি, “আমরা খেলিব।” তাহারা বলিতেছেন, “তোমরা বাদ।” এই প্রেমে মান-অভিমান চলিতেছে, কিন্তু কলসি ভাঙিয়া গেছে। এখন প্রেম ফিরাইতে হইলে কলসি জোড়া লাগাইতে হইবে।

 

তাহা হইলে কী করিব? আমরা কি আবার আইসিসিকে বলিব, “আমরা খেলিব”? তাহারা কি বলিবে, “তোমরা খেলিও”? না কি তাহারা বলিবে, “তোমরা ওয়াজ করো, আমরা খেলা চালাই।” এই দ্বন্দ্বে জাতি বিভ্রান্ত।

 

এইক্ষণে আমরা চার বিবি আর জান্নাতও পাইব, বিশ্বকাপও পাইব- এই ফতোয়া আবিষ্কার নিয়া হুজুরদের মধ্যে মেডিকেল বোর্ড বসিয়াছে, তাহারা কাঁটা ছেড়া করিয়া শরীয়া সম্মত সমাধান বাতলাইবেন। যাহাতে কলসির কানা জোড়া লাগিবে, প্রেম ফিরিবে আর আইসিসি আমাদের আবার সাধিবে, “তোমরা খেলো, আমরা দেখিব।” আসিফ নজরুল সাহেব দম ফেলিয়া বলিবেন, এইবারের মতোন বাঁচলাম। জনতা বলিবে - সাধু ,সাধু।

 

লেখকঃ এক  ক্লান্ত পেনসিল, পঙ্কিলতার পাঁকে ডুবে যেতে যেতে

সব খবর