সর্বশেষ

বিসর্জনের মহাকাব্য

ক্রিকেটের ঘরে রাজনীতির আগুন

প্রকাশিত: ৫ মার্চ ২০২৬, ০৯:৩০
ক্রিকেটের ঘরে রাজনীতির আগুন

জাতীয় অগ্রযাত্রার ঐতিহাসিক মুহূর্তগুলো সবসময় যুদ্ধের ময়দানে বা রাজনীতির টেবিলে নির্ধারিত হয় না। কখনো কখনো নির্ধারিত হয় সবুজ ঘাসের গালিচায়, মাঠের বাইশ গজে। যেমন ১৯৬৩ সালে স্যার ফ্রাংক ওরেলের ‘কালো মানুষদের’ উইন্ডিজ প্রথম বারের মতো সিরিজ হারিয়েছিল তাদের ‘সাদা প্রভু’দের, ইংল্যান্ডেরই মাটিতে। তার ধারাবাহিকতায় দশক না ঘুরতেই বিশ্বক্রিকেটে রাজত্ব শুরু হয় স্যার ক্লাইভ লয়েডের ‘দ্য মাইটি ওয়েস্ট ইন্ডিজ’। আমাদের, বাংলাদেশের সেই মাহেন্দ্রক্ষণ আসে নব্বই দশকের শেষে। স্বাধীনতার ২৫ বছর পেরিয়েও আমরা তখনো জাতীয় পরিচয়ের জন্য, কোনো একটা ইতিবাচক বৈশ্বিক স্বীকৃতির জন্য হাপিত্যেশ করে মরছিলাম। এমনি সময়ে ক্রিকেট বৈশ্বিক মানচিত্রে আমাদের পরিচয় হয়ে উঠল। সেই সঙ্গে আমাদের সামষ্টিক আবেগের এক অনন্য কেন্দ্রবিন্দু।

 

১৯৯২ সালে জিম্বাবুয়ে টেস্ট স্ট্যাটাস পায়। পরের বিশ্বকাপে তাই আমাদের খেলা নিয়ে কোনো সংশয় ছিল না। কেননা তখন নিয়ম ছিল আইসিসি ট্রফির সেরা তিন দল খেলবে বিশ্বকাপ। আর টেস্ট খেলুড়েদের বাইরে কেবল কেনিয়া ছিল আমাদের চেয়ে নামে-ভারে এগিয়ে। অথচ ফারুক আহমেদের দল, সম্ভবত প্রাক-টেস্ট যুগের সবচেয়ে তারকাবহুল হয়েও, সেরা তিনে থাকতে পারল না। বিশ্বকাপ খেলতে না পারার সে যাতনা এখনকার বাস্তবতায় কিছুতেই বোঝা সম্ভব নয়।

 

এর মধ্যে ১৯৯৬ সালে বিসিবির দায়িত্বে আসেন এক নতুন সভাপতি। চেয়ারে বসেই ঘোষণা করেন, তার লক্ষ্য 'টেস্ট স্ট্যাটাস'! শুনে তো সবাই হেসেই উড়িয়ে দিয়েছিল। তখনো আমাদের যে ওডিআই স্ট্যাটাসই হয়নি! শুধু তাই নয়, মাঠের পারফরমেন্স বিবেচনায় কেনিয়ার দাবিই ছিল বেশি। অবকাঠামো ও আইসিসির সঙ্গে সখ্যতা বিবেচনায় আরব আমিরাতও ছিল এগিয়ে। কিন্তু চৌকস সাধারণ সম্পাদকের সাথে জুটি বেঁধে দারুণ সাংগঠনিক দক্ষতায় আর নিবিড় ক্রিকেট কূটনীতির সমন্বয়ে মাত্র ৪ বছরেই সেই অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখান তিনি। সঙ্গে ছিল রাষ্ট্রের সঙ্গত। ২০০০ সালে বিশ্বের দশম টেস্ট খেলুড়ে দেশ হিসেবে আত্বপ্রকাশ করে বাংলাদেশ। বিশ্ব মানচিত্রে সেই প্রথম নাম লেখায় কোনো কিছুর সেরাদের কাতারে। বিদেশ সফরে গিয়ে খেলোয়াড় পালিয়ে যাওয়ার জন্য নয়, ১৯৯৯ বিশ্বকাপ থেকে মাঠের খেলার জন্যই বাংলাদেশ খবরে আসতে শুরু করে।

 

 

কিন্তু সাফল্যের সোপান কেবলই ঊর্ধ্বমুখী হয় না। সঠিক পরিচর্যা না করলে কোনো সাফল্যই দীর্ঘস্থায়ী হয় না। তার বড় প্রমাণ আমাদেরই দক্ষিণ এশীয় প্রতিবেশী পাকিস্তান। নব্বইয়ের দশকেও তারা ছিল বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দল। স্রেফ দুই দেশের রাজনৈতিক বৈরিতায় ভর করেই ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথের মাহাত্ম্য গড়ে ওঠেনি। তারচেয়েও বেশি অবদান ছিল দুই দলের খেলোয়াড়দের খেলার যোগ্যতার। একদিকে আজহারউদ্দীনের নেতৃত্বে দুর্দান্ত এক ব্যাটিং লাইন-আপ—সিধু, জাদেজাদের অভিজ্ঞতার সাথে শচীন, গাঙ্গুলী, দ্রাবিড়, লক্ষ্মণদের তারুণ্যের মিশেল। বিপরীতে পাকিস্তানি ব্যাটিং লাইনআপও কম ছিল না। ‘বড়ে মিঞা’ জাভেদ মিয়াঁদাদ, সাঈদ আনোয়ার, ইনজামাম-উল-হক, ইজাজ আহমেদ, সেলিম মালিকরা কম ছিল কীসে! তবে বোলিংয়ে অবশ্য পাকিস্তানের শ্রেষ্ঠত্ব মানতেই হতো। ইমরান খান, আকিব জাভেদ, ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনুস, সাকলাইন মুশতাক, মুশতাক আহমেদ, পরে যোগ হওয়া শোয়েব আখতার; এমন পাকিস্তানি বোলিংয়ের সামনে শ্রীনাথ-প্রসাদ-কুম্বলেদের মতো কিংবদন্তি ভারতীয় বোলারদের আক্রমণকেও অনেক সময় 'গড়পড়তা' মনে হতো।

 

ফলে মাঠের বাইরে এই খেলোয়াড়দের যতই সখ্যতা থাকুক, মাঠে তাদের লড়াই হতো বাঘে-সিংহে। কেহ কারে নাহি ছাড়ে সমানে সমান। আইপিএল শুরুর রমরমাতেও কি পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা অংশী ছিল না? আইপিএল কি তাদেরও শ্রীবৃদ্ধি করেনি? কিন্তু ট্র্যাজেডিটা শুরু হলো যখন মাঠের এই বীরত্বকে ছাপিয়ে গেল মাঠের বাইরের রাজনীতি। জনপ্রিয়তার সস্তা স্লোগানের ধুয়ো তুলে, সীমান্ত সংঘাতকে ক্রিকেটের মোড়কে মুড়িয়ে দেওয়া হলো। সেই ঘেরাটোপ থেকে আরে বেরোতে পারল না পাকিস্তান ক্রিকেট। সেই যে পতন শুরু হলো, তা কেবলই নিচের দিকেই নামছে। করুণ লয়ে। ইমরান খানের সেই অসম্ভবকে সম্ভব করে বিশ্বকাপ জেতা দল বা দ্বিতীয় টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতাকে এখন মনে হয় কোন সুদূরের গল্প! গত ১২ বছরে ওডিআই-টি-টুয়েন্টি মিলিয়ে ৮ বিশ্বকাপের ৫টিতেই তারা গ্রুপ পর্ব পেরুতে পারেনি। চলমান বিশ্বকাপেও যে খুব স্বচ্ছন্দে সুপার এইটে উঠছে, তাও নয়।

 

তাদের বর্তমান অবস্থা যে কতটা হতশ্রী তা এসব থেকেও আসলে বোঝা যায় না। বোঝা যায় এই তথ্যে, গত ৫ বছরে ‘ক্ষয়িষ্ণু-তম’ জিম্বাবুয়ের কাছে, যারা সর্বশেষ দুটো ওডিআই এবং আগের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপেও খেলতে পারেনি, তাদের কাছে ওডিআই-টি-টুয়েন্টি মিলিয়ে তারা ৫টা ম্যাচ হেরেছে। টেস্টে নিজেদের মাটিতে হয়েছে ‘বাংলাওয়াশ’। আমাদের জন্য সেটা অবশ্যই বিশাল অর্জন। কিন্তু পাকিস্তানের বাস্তবতায়? এর পরে নিজেদের মাটিতে হেরেছে এখনকার ‘দুর্বলতম’ উইন্ডিজের কাছেও। দেশের মাটিতে এখন যাদের কাছে হারা আমাদের জন্যও ‘দুর্ঘটনা’!

 

উইন্ডিজের সঙ্গেই কেবল পাকিস্তানের এই নিদারুণ পতনের তুলনা করা যায়। পার্থক্য কেবল, উইন্ডিজের পতনটা হয়েছে লম্বা সময় ধরে। এবং কারণটা মূলত আর্থিক। অবশ্য আরো একটা কারণ আছে। আর দশটা দলের সঙ্গে ওদের পার্থক্য হলো, ওটা মূলত ১২টা দেশের একটা বারোয়ারি বোর্ডের দল, যারা আবার মূল বোর্ডের অধীনে ৪টা জোনাল বোর্ডে বিভক্ত। তবুও তাদের পাইপলাইন নিত্যনতুন বিশ্বমানের খেলোয়াড় জোগান দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তারা উইন্ডিজের হয়ে নয়, বিশ্বজুড়ে টি-টুয়েন্টি লিগ খেলাতেই মনোযোগী হচ্ছে। বিপরীতে পাকিস্তান দলকে মাঠের খেলার চেয়ে হাস্যকর ভুলের 'ট্রল ভিডিও'র জন্যই ইদানিং বেশি সার্চ করা হয়। আর এটাই বলে দেয়, একটা ক্রিকের পরাশক্তি কীভাবে সস্তা রাজনীতির হাতিয়ার হতে গিয়ে মুখ থুবড়ে পরতে পারে। বোঝা যায়, ক্রিকেট কাঠামো একবার ভেঙে পড়লে তা মেরামত করা কতটা মুশকিল।

 

 

বাংলাদেশ কখনোই নব্বইয়ের পাকিস্তানের মতো বিশ্বজয়ী শক্তি হয়ে ওঠেনি। কিন্তু আমরা অন্তত সেই পথেই হাঁটা শুরু করেছিলাম। মাশরাফির বাংলাদেশ ২০১৫ বিশ্বকাপ ও ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে তা দেখিয়েও ছিল। ২০১৯ বিশ্বকাপে সবাই আমাদের ‘ডার্ক হর্স’ বলেছিল। পরের বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব ওরফে সুপার লিগে তৃতীয় হওয়ার ওজনও নিতান্ত কম নয়। কিন্তু এরই মধ্যে পাকিস্তানের ওয়াসিম-ওয়াকারের মতো সাকিব-তামিম দ্বন্দ্ব বেঁধে যায়। সেই সঙ্গে ঘনিয়ে আসে সিনিয়রদের বিদায়ী লগ্ন। অনেকটা শ্রীলঙ্কার জয়াসুরিয়া, সাঙ্গাকারা, জয়াবর্ধনেদের অবসরের মতো পরিস্থিতি। সব মিলিয়ে দলটা এক কঠিন রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। শান্ত ব্যর্থ হওয়ার পর, লিটন মাত্র দলের নতুন নেতা হয়ে উঠছে। ঠিক সেই নাজুক মুহূর্তেই এল এই 'রাজনৈতিক’ বিশ্বকাপ বয়কট।

 

রাজনীতি যে সবসময় ক্রিকেটের জন্য খারাপ ফলই বয়ে আনে, তা নয়। এই যেমন পাকিস্তানের বিপরীতে ভারত রাজনীতিকে নিজেদের ক্রিকেটের উন্নতিতে কাজে লাগাতে পেরেছে। তার পেছনে আছে তাদের শক্তিশালী ক্রিকেট অবকাঠামো আর বিশাল বাজার। তার কোনোটিই কী আছে আমাদের? বর্ণবাদের অভিযোগে যখন দক্ষিণ আফ্রিকা ২১ বছর নিষিদ্ধ ছিল, তাদের ক্রিকেট টিকে ছিল দুই কারণে। প্রথমত, তাদের ভীষণ শক্ত অবকাঠামো। দ্বিতীয়ত, সাংগঠনিক তৎপরতা। অমন বিরূপ পরিস্থিতিতেও তারা সে সময়ের তিন পরাশক্তি, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও উইন্ডিজের সঙ্গে, যদিও ‘বিদ্রোহী’ দলের সাথে, ‘আনঅফিসিয়াল’ ম্যাচ খেলেছিল। এগুলোর কোনোটিই কি আমাদের আছে?

 

এটা অস্বীকারের উপায় নেই যে, বাংলাদেশ ক্রিকেটের এমন বিশাল বাজার নেই যা দিয়ে আমরা দীর্ঘকাল স্বয়ংসম্পূর্ণ থাকতে পারি। আমাদের ঘরোয়া লিগগুলো কেবলই একটি কাঠামো পেতে শুরু করছে। তার বয়সই যে অল্প। টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পরই না আমাদের ঘরোয়া লিগের সত্যিকারের যাত্রার শুরু। ফলে এই রাজনৈতিক বয়কটের প্রভাব আমাদের ক্রিকেট কতটা সামলাতে পারবে, তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়। আইসিসির ফান্ডিং আর বৈশ্বিক আসর থেকে এই বিচ্ছিন্নতা আমাদের ক্রিকেটের জন্য ভালো কিছু বোধহয় হলো না। এবং সবচেয়ে বাজে ব্যাপার হলো, আইসিসির নথিতে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নয়, স্রেফ ‘অনুপস্থিতি’টুকুই রেকর্ড হয়ে থাকবে।

 

৪ 

তবে এই বয়কটের সবচেয়ে ভয়াবহ দিকটি হলো এর ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। সাদা চোখে, এটি মূলত ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার এক পুরনো দ্বৈরথ, যেখানে এবার বাংলাদেশকে 'দাবার ঘুঁটি' হিসেবে, হয়তো দুপক্ষই, ব্যবহার করেছে। একদিকে ভারত আয়োজক হিসেবে পাকিস্তানকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করেছে। অন্যদিকে পাকিস্তানেরও চেষ্টা ছিল আয়োজক ভারতকে অস্বস্তিতে ফেলার। সেটাই সফলভাবে করা গেছে বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে এই অস্থিরতার সুযোগে। শুরুটা অবশ্য ভারতই করেছে। আর বিসিবিও সেই ফাঁদে পা দিয়েছে সবচেয়ে অপরিপক্ব এবং অ-কূটনৈতিক উপায়ে। পাকিস্তান মুখে অনেক হাঁকডাক দিলেও, বাস্তবে এই সুযোগে ভারতকে খানিকটা খোঁচানোর সুযোগ নিয়েছে কেবল। কিন্তু সেই সুযোগ তৈরি করে দিতে গিয়ে বাংলাদেশ নিজেকেই উৎসর্গ করে দিল।

 

কিন্তু পুরো ব্যাপারটা কি কেবল এতোটুকুই? হয়তো বা। এবং তা হলেই আসলে ভালো। কেননা সমান্তরাল আরো কিছু বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও ক্রীড়া আসরের রসায়ন দেখলে, রীতিমতো আঁতকে উঠতে হয়। এ বছরই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসতে যাচ্ছে আরেকটি বৈশ্বিক ক্রীড়া আসর; ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’—ফুটবল বিশ্বকাপ। এবং আমাদের বিশ্বকাপ বর্জনের সমান্তরালে ইউরোপ জুড়েও এক পক্ষ ফুটবল বিশ্বকাপ বর্জনের আওয়াজ তুলেছে। কারণ বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের সাথে ইউরোপের রাজনৈতিক ও মতাদর্শগত দূরত্ব। একই সময়ে ভারতের সাথে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিরও আলাপ চলছিল। যা শেষ পর্যন্ত স্বাক্ষর হয়েছে জানুয়ারির শেষে।

 

আশঙ্কার বাকিটুকু কি আলাদা করে বলা লাগবে? পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সাথে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ছবিগুলো দেখলেই তো তাদের সম্পর্কের ‘রসায়ন’ বোঝা যায়। এই সব বিশাল বিশাল ভূ-রাজনৈতিক চালডালের বাজারে আমরা কি আলুর মতো বিকিয়ে গেলাম? হয়তো পুরো ব্যাপারটাই নিছক কাকতালীয়; তা হলেই ভালো। কিন্তু দৃশ্যত তো তা মনে হচ্ছে না। এবং এই পুরো প্রক্রিয়ায় দেশের বা ক্রিকেটের অর্জন ঋণাত্মক। আমরা কেবল অন্যের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে নিজেদের ঘর পুড়িয়েছি।

 

 

দিনশেষে যা ঘটে গেছে, তা আর ফেরানোর উপায় নেই। পুরোনো সেই প্রবাদটি আমাদের জন্য আজ বড় নিষ্ঠুর সত্য হয়ে ধরা দিয়েছে—'ভাবিয়া করিও কাজ, করিয়া ভাবিও না'। কিংবা আমাদের বর্তমান যন্ত্রণার সাপেক্ষে এভাবেও পড়া যায়—'ভাবিয়া দিও সমর্থন, সমর্থন দিয়া ভাবিও না'। যখন কোনো উগ্র বা আবেগতাড়িত সিদ্ধান্তের পিঠে আমরা সওয়ার হই, তখন সেই যাত্রাটা প্রায় সময়ই আমাদের খাদের কিনারায় নিয়ে যায়। কাজেই যত শীঘ্র সম্বিৎ ফিরে পাওয়া যায়, ততই মঙ্গল।

সব খবর