সর্বশেষ

রাজনৈতিক ব্যঙ্গ

অন্তর্বর্তী মহিমা: ষড়যন্ত্রের সিংহাসনে গণতন্ত্রের গলিত মূর্তি

প্রকাশিত: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২:৫২
অন্তর্বর্তী মহিমা: ষড়যন্ত্রের সিংহাসনে গণতন্ত্রের গলিত মূর্তি

ধন্যবাদ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে। তাহারা ইতিহাসের পাতায় এমন একখানা সোনালি অধ্যায় রচনা করিয়াছেন, যাহা পড়িলে গণতন্ত্র নিজেই লজ্জায় আত্মহত্যা করিতে চায়।

 

তাহারা মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে এমনভাবে রক্ষা করিয়াছেন, যাহাতে সাংবাদিকেরা জেলখানার ফুলেল কক্ষে বসিয়া চা পান করিতে পারিয়াছেন।   তাহারা বলিয়াছেন, “কেহ জেলে যায় নাই।”  
 

অবশ্য, গেটের তালা ভাঙিয়া সাংবাদিকেরা নিজে নিজে ঢুকিয়াছেন, ইহা তো গণতান্ত্রিক আত্মনিয়ন্ত্রণ।

 

তাহারা বিচার ব্যবস্থাকে এমনভাবে শুদ্ধ করিয়াছেন, যাহাতে সাগর-রুনি, আবরার, তোফাজ্জল—সকল হত্যার বিচার হইয়াছে “মৌনতা”র মাধ্যমে।  
মৌনতা হইল অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান বিচারপতি।

 

তাহারা যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তি দিয়া সাংসদ বানাইয়াছেন, ইহা হইল “ঐতিহাসিক পুনর্মিলন”। যুদ্ধাপরাধী হইল মুক্তিযুদ্ধের নতুন ব্যাখ্যা।

 

তাহারা শিল্প ধ্বংস করিয়াছেন, তাহাতে দেশ হইয়াছে “শিল্পহীন শুদ্ধতা”র প্রতীক। মাজার, মন্দির গুঁড়াইয়া তাহারা ধর্মীয় সমতা আনিয়াছেন, সব ধর্মই এখন ধ্বংসপ্রাপ্ত। তাহারা কবর হইতে লাশ তুলিয়া পোড়াইয়াছেন, ইহা হইল “পরকালীন পুনর্বাসন”। জীবিত দিপু দাসকে পুড়াইয়া তাহারা দেখাইয়াছেন “আগুনই আত্মশুদ্ধি”।

 

তাহারা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ফিরাইয়া আনিবার কথা কহিয়া আরো বিলিয়ন পাচার করিয়াছেন - ইহা হইল “ডলার রিকল পলিসি”। ডলার নিজেই লজ্জায় ফিরিয়া আসিয়াছে।

 

তাহারা ছাব্বিশ লাখ ভারতীয়কে ফেরত পাঠাইবেন বলিয়া প্রতিজ্ঞা করিয়া কাহাকেও খুঁজিয়া না পাইয়া ছাব্বিশ লক্ষ ইলিশ পাঠাইয়াছেন, ইহা হইল “মাছ-মৈত্রী”।  ইলিশ এখন কূটনীতির দূত।

 

তাহারা সংখ্যালঘু নির্যাতনের ২৫০০+ ঘটনা ঘটাইয়াছেন, ইহা হইল “সংখ্যালঘু সংবর্ধনা”। নির্যাতনই এখন স্বীকৃতি।

 

তাহারা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করিয়াছেন, প্রেস কার্ড বাতিল করিয়াছেন, ইহা হইল “মতপ্রকাশ নিয়ন্ত্রণ”। কলম এখন অপরাধের অস্ত্র।

তাহারা ১২ লাখ মানুষকে বেকার বানাইয়াছেন, ইহা হইল “বেকারত্বের সমতা”। সবাই সমানভাবে নিঃস্ব।

 

তাহারা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন ধ্বংস করিয়াছেন, ইহা হইল “স্মৃতিহীন স্বাধীনতা”। ইতিহাস এখন বিলুপ্ত।

 

তাহারা ৬৬৬ কোটি টাকা নীরবে মওকুফ করিয়া অনন্য হইয়াছেন - ইহা হইল “নীরব করনীতি”। করও শব্দহীন।

 

তাহারা গ্রামীণ ব্যাংক, ওয়ালেট, জনশক্তি, বিশ্ববিদ্যালয় সবকিছু গ্রামীণ করিয়াছেন, ইহা হইল “গ্রামীণ সর্বগ্রাস”। দেশই এখন গ্রামীণ।

 

তাহারা হাজার হাজার গুমের অভিযোগে মাত্র ২৮৭ জনের তালিকা দিয়া বলিয়াছেন “তথ্য নাই”, ইহা হইল “গুম গণনা গাণিতিক”। গুমও এখন সংখ্যার খেলা।

 

তাহারা বিনা বিচারে শতাধিক আওয়ামী লীগ নেতাকে জেলে হত্যা করিয়াছেন, ইহা হইল “বিচারহীন ন্যায়”। জেলই এখন ফাঁসি।

তাহারা পুলিশ হত্যার ইনডেমনিটি দিয়া বলিয়াছেন “আইনহীন আইন”।

তাহারা দৈনিক ৪৮টি হত্যার ঘটনা ঘটাইয়াছেন, ইহা হইল “হত্যা হইল হেডলাইন”।

তাহারা নদীতে প্রতিদিন লাশ উপহার দিয়া বলিয়াছেন “জলজ শোক উৎসব”।

তাহারা সরকারি প্রকল্পের বাজেট বাড়াইয়া সঙ্গীদের পকেট ভারী করিয়াছেন, ইহা হইল “পকেট উন্নয়ন”।

তাহারা রেকর্ড পরিমাণ টাকা ছাপাইয়াছেন, ইহা হইল “মুদ্রণ মন্ত্র”।

 

তাহারা রেকর্ড বিনিয়োগ আনিয়া চাকরির বন্যা বইয়ে দিয়া বেকারত্ব বাড়াইয়াছেন, ইহা হইল “বেকারত্বের বন্যা”।

তাহারা দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি রাখিয়াছেন, ইহা হইল “মূল্যস্ফীতির মুকুট”।

তাহারা সকল দেশের বাংলাদেশকে ভিসামুক্ত করিয়াছেন, ইহা হইল “ভিসাহীন ভ্রমণ”, যদিও কেহই আসিতে চায় না।

তাহারা বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করিয়াছেন, ইহা হইল “পঙ্গুত্বের পদক”।

তাহারা ধানমন্ডি ৩২ নাম্বারের বঙ্গবন্ধুর বাড়ি ধ্বংস করিয়াছেন, ইহা হইল “স্মৃতির সমাপ্তি”।

 

এইরূপে অন্তর্বর্তী সরকার তাহাদের ব্যর্থতাকে মহিমান্বিত করিয়াছে, ষড়যন্ত্রকে গৌরবান্বিত করিয়াছে, ছলনা ও প্রতারণাকে সাফল্যের মুকুট পরাইয়াছে, মৌলবাদকে ইতিহাসের গৌরব বানাইয়াছে।

 

তাহারা গণতন্ত্রের গলিত মূর্তি গড়িয়াছে, যাহা দেখিলে ইতিহাস নিজেই চোখ ঢাকিয়া কাঁদে।

 

লেখকঃ এক ক্লান্ত পেনসিল - ইতিহাস, ঐহিত্য হারাইয়া মৃতপ্রায় এক প্রাণ

সব খবর