সর্বশেষ

রাষ্ট্র যখন ‘হ্যাঁ’ ক্যাম্পেইনার: নিরপেক্ষতার কবরের ওপর গণভোট

প্রকাশিত: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:২২
রাষ্ট্র যখন ‘হ্যাঁ’ ক্যাম্পেইনার: নিরপেক্ষতার কবরের ওপর গণভোট

অবশেষে গণভোটে সরকারি কর্মকর্তারা ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাতে পারবেন না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, এ ধরনের কার্যক্রম গণভোটের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে, যা গণভোট অধ্যাদেশ ২০২৫-এর ২১ ধারা এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২-এর ৮৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একটি দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

 

একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনে রাষ্ট্র যদি একটা পক্ষ নেয় তবে সেটা কি আর নিরপেক্ষ নির্বাচন থাকে? এই সরল কথাটি বুঝতে খুব বেশি জ্ঞানী হওয়ার প্রয়োজন কি পড়ে?

 

সকল প্রকার নীতি-নৈতিকতা, আইন ও সংবিধান উপেক্ষা করে সরকার তার সকল প্রতিষ্ঠান ও কর্মচারীদের বাধ্য করেছে জনগণের ট্যাক্সের টাকা খরচ করে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে প্রচারণায় নামতে।

 

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় গত ১৮ জানুয়ারি এক চিঠিতে গণভোট ২০২৬ বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরকে তাদের সেবাগ্রহীতা এবং জনগণের মধ্যে ব্যাপক প্রচারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশনার পর ‘হ্যাঁ’ জয়ী করতে সরকারের সব দপ্তর, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, সংস্থা, করপোরেশন ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অন্তত ২১ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রচারে নেমেছেন। সরকারের সচিব থেকে শুরু করে একজন সাধারণ কর্মচারী (প্রথম থেকে ২০তম গ্রেড) পর্যন্ত সবাই গণভোটের সচেতনতামূলক প্রচারে অংশ নিচ্ছেন। 

 

জানা যায় ৬০০ কোটি টাকার বাজেট নিয়ে মাঠে নেমেছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণার জন্য। ইসির নির্বাচনী ব্যয় বেড়ে এখন তিন হাজার ১৫০ কোটি টাকা এর মধ্যে শুধু ৬টি মন্ত্রণালয় বরাদ্দ পেয়েছে ১৪০ কোটি টাকা।

 

এর আগে শিশুদের বিনামূল্যে বই বিতরণের সময় ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণার জন্য নির্দেশনা দিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ধর্ম মন্ত্রণালয় সকল ইমামদের খুতবায় ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণার জন্য নির্দেশনা দিয়েছে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংক সকল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে নিজস্ব সিএসআর ফান্ড থেকে অর্থ ব্যয় করার নির্দেশনা দিয়েছে ‘হ্যাঁ’ এর প্রচারণার জন্য। ইতোমধ্যেই যে শত শত কোটি টাকা খরচ হয়ে গেছে ‘হ্যাঁ’ এর জন্য- এর দায় কার? হরিলুটের বাতাসার মত যে টাকাগুলো ফারুকী গং ইতোমধ্যেই পাবলিসিটি ম্যাটেরিয়াল তৈরি করতে ভাই-ব্রাদারদের বন্টন করেছে সেগুলো কি আর ফেরত আসবে?

 

সরকারি খরচ মানে জনগণের ট্যাক্সের টাকা। এই টাকা কীভাবে একটা পক্ষের হয়ে খরচ হয়? রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ বা তাদের ভোটারদের কথা বাদই দিলাম, জাতীয় পার্টি বা বামফ্রন্ট যারা এই প্রহসনমূলক নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে তারা কি ট্যাক্স দেয় না, তারা তো ‘না’ এর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে৷ এমনকি বিএনপি এখনও ‘হ্যাঁ’, ‘না’ কিছুই বলছে না। ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে শুধু জামাত জোট। তারমধ্যে আবার জুলাইয়ের দল দাবী করা এনসিপি জুলাই সনদেই স্বাক্ষর করেনি কিন্তু প্রচারণা চালাচ্ছে ‘হ্যাঁ’-এ ভোট না দেওয়া জুলাই চেতনার পরিপন্থী!

 

প্রধান সংবিধান সংস্কারক মার্কিন নাগরিক আলী রিয়াজ, আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলসহ সকল ইউনূসীয় সংবিধান বিশেষজ্ঞ যে এতদিন ফতোয়া দিল সরকার, সরকারি প্রতিষ্ঠান বা সরকারি কর্মচারিদের ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণায় কোন আইনী বাঁধা নেই তাদের কী হবে?

 

স্বয়ং প্রধান উপদেষ্টাসহ অন্যান্য উপদেষ্টাগণ ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে ক্যাম্পেইন করতে উঠে পড়ে লেগেছে এবং কে কার মন্ত্রণালয়কে কতবেশী সম্পৃক্ত করতে পারে তার প্রতিযোগিতায় নেমেছে - এদের বিচার এখন কারা করবে?

 

এখন হয়তো সরকার নিজেকে বাঁচাতে হাইকোর্টকে দিয়ে নতুন কোন ফতোয়া জারি করবে? এই প্রহসনের নির্বাচন ঘিরে আরও অনেক বিনোদন দেখার অপেক্ষায় রইলো বাংলাদেশ।

সব খবর