সর্বশেষ

সংস্কৃতের সন্তান, বিশ্বের সহোদরা

বাংলা ভাষার সঙ্গে ইউরেশিয়ার প্রাচীন আত্মীয়তা

প্রকাশিত: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:০০
বাংলা ভাষার সঙ্গে ইউরেশিয়ার প্রাচীন আত্মীয়তা

প্রতি বছরই বাংলা নববর্ষের আগে আগে সমাজ মাধ্যম থেকে পত্র-পত্রিকায় নানা বিতর্ক প্রবল হয়ে ওঠে। ‘প্যাঁচা’ ভাল কী মন্দ, ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’-য় ‘মঙ্গল’ শব্দটির ব্যবহার কেন হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। আহা, বাঙালি হয়ে জীবনানন্দের কবিতার ‘সুদর্শন প্যাঁচা’-কে পাত্তা যদি বা না দেই, আজ থেকে আড়াই হাজার বছর আগেই প্রাচীন গ্রিসে দেবী এথিনার সঙ্গী ‘প্যাঁচা’-র ছবি সেদেশের মুদ্রায় খোদিত হতে দেখা গেছে। আর বাংলা ভাষায় ‘মঙ্গল’ শব্দটি আমাদের সপ্তাহের সাত দিনের একটি দিন হিসেবেও যদি পছন্দ না হয়, তবে কী পছন্দ? ইংরেজি ‘টুয়েস ডে’, ফরাসী ‘মাহদি’ না রাশান ‘তোরনিক’? আরবিতে ‘মঙ্গলবার’ হচ্ছে ‘আল-থুলা’ আর ফার্সিতে ‘সে-শানবেহ’। উর্দূতে অবশ্য ‘মঙ্গলবার’কে ‘মঙ্গলবার’-ই বলা হয়। তবে আজ ত’ এসব বিষয় নিয়ে লিখতে আসিনি।

 

প্রতিবছরই নববর্ষের আগে বাংলা ভাষা ও বাঙালি পরিচয় নিয়েই অনেকের ভেতর যে দীনতা বা কুণ্ঠা দেখি,  সেই কুণ্ঠা দূর করতেই পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষা-গোষ্ঠির ভেতর সর্বাগ্রগণ্য, সবচেয়ে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-গোষ্ঠির আমরা যে গর্বিত উত্তরাধিকারী এবং আজো ছেলে-মেয়েকে যে ‘বাংলা’ শেখাতেই চান না, হয় ইংরেজি মাধ্যম অথবা মাদ্রাসায় ভর্তি করান, সেই ভাষার সাথে রাশান বা ফরাসী ভাষার মত আধুনিক ইউরোপীয় ভাষাগুলোর ব্যাকরণ, শব্দ-ভান্ডার, সংখ্যা সহ নানা বিষয়ে যে মিল রয়েছে সে নিয়েই দু/চার কথা লিখব। না, আমি ভাষাবিদ নই। মাতৃভাষা বাংলার পাশাপাশি এদেশের আরো অনেকের মত ইংরেজি শিখতে হয়েছে। নিজের আগ্রহে ফরাসী শিখেছি একটা সময়। আর হালে ছ’মাস হয় রাশান শিখছি। এই শেষ ভাষাটি শিখতে গিয়েই পরতে পরতে চমকে উঠেছি বাংলার সাথে তার নানা অদ্ভুত মিলের কারণে (অবশ্যই বেমিল বা বৈপরীত্যও প্রচুর আছে)। ফরাসী শিখতে গিয়েও মাঝে মাঝে অবাক হইনি তা’ নয়, তবে তুলনামূলক ভাবে ঢের কম। তবে এই আলোচনা বিশদভাবে সূচনার আগে আরো দু/একটি বিষয়ে কথা বলে নেওয়া ভাল। বাংলাসহ ভারতীয় অনেক ভাষাই যে ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-গোষ্ঠির আওতাধীন যা এটা জার্মান ভাষাবিদ পন্ডিত ম্যাক্সম্যুলার ও ভারতে আগত বৃটিশ শাসকদের অনেকে মনে করলেও এবং এবিষয়ে তাঁরা স্বত:প্রণোদিত হয়ে নানা গবেষণা করলেও হাজার বছরের মিশ্রণের কারণে হোক বা যে কোন কারণে হোক, ভারত উপমহাদেশের কোটি কোটি মানুষের ভেতর স্বর্ণকেশী সেই অর্থে আজ আর কেউ না থাকায় বা নীল চোখের অধিকারী তেমন না থাকায়, ‘আর্য আগমন তত্ত্ব’ নিয়ে মাঝখানে সংশয় উপস্থিত হয়েছিল। ‘ভারতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত মুসলিমরা এদেশে বহিরাগত’- এমন দাবির মুখোমুখি তবে ‘আর্যরাও অতীতে পন্টিক স্টেপস’ অঞ্চল থেকে এসেছে এমন দাবিকে বাধ্য হয়েই বিজেপি নেতারা অস্বীকার করতে চাইছেন। এর উত্তরে শোয়েব ড্যানিয়েলের মত ভারতীয় গবেষকরা বছর কয়েক আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের উত্তর ও দক্ষিণ ভারতীয়দের ডিএনএ-র প্রচুর সংখ্যক উদাহরণ দীর্ঘ সময় ধরে খতিয়ে দেখার পরে হরপ্পা-মহেঞ্জোদারো অঞ্চলে আর্যরা এসে এক প্রবল গণহত্যার মাধ্যমে দ্রাবিড় সভ্যতার অসংখ্য নরকে হত্যা ও তাঁদের নারীদের বিয়ে করার বা সঙ্গীনী হিসেবে গ্রহণের এবং আজো ভারতের দুই অঞ্চলে গড় অধিবাসীদের ডিএনএ-র স্পষ্ট বৈপরীত্যের কথা যেটা উঠে এসেছে, তা’ তুলে ধরছেন (Aryan Migration Theory upheld by two new genetic studies. Why did Indian media report the opposite?) আমি নিজে ব্যক্তিগত ভাবে লেখাটি কয়েক বছর আগে অনুবাদ করলেও ‘ভারতে তবে কেন কোন স্বর্ণকেশী দেখা যায় না’ জাতীয় ভাবনা থেকে আর্যরা আসলে হয়তো কোনদিনই আসেনি বলেও ভেবেছি। তবে গত বছর জুলাইয়ে রাশান ভাষা শিখতে গিয়ে আমার এই ভাবনায় আমূল বদল আসে। এখানে বলে রাখা ভাল আমি মাত্র ছ’মাস হয় শিখছি। প্রথম তিন মাস শেখার পর পরবর্তী সেশন সূচনা হতে আরো দু’মাস সময় যায়। এবং প্রথম সেশনে মোটামুটি ভাল গ্রেডস এলেও বইমেলা ও ঈদ সংখ্যার লেখার চাপের ভেতর দ্বিতীয় সেশনে গ্রেডস একেবারেই ভাল আসেনি। অতি সম্প্রতি দু/তিনটা বাক্য বলতে পারলেও ব্যাকরণ নিয়ে অনেক চাপে আছি এবং ্এই ভাষার ব্যাকরণ খুবই কঠিন। তারপরও অতি সামান্য সংস্পর্শ থেকেই প্রথমে রাশান ও বাংলা এবং পরে ফরাসী ও বাংলা তথা ল্যাটিন ও বাংলার মধ্যবর্তী মিল নিয়ে কিছু তথ্য দিয়ে সামগ্রিক ভাবে ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-গোষ্ঠির দীর্ঘ যাত্রা, বাংলাসহ বহু ভারতীয় ভাষার আদি আকর সংস্কৃত (ল্যাটিন যেমন বহু ইউরোপীয় ভাষার আদি আকর এবং ইউরোপীয়রা সেটা স্বীকারে বিন্দু মাত্র কুন্ঠা বোধ করেনা) আজো কীভাবে ল্যাটিন ও অন্য একাধিক দাপুটে ইউরোপীয় ভাষার সাথে মিল সম্পন্ন (এবং সংস্কৃত থেকে জাত ভাষা বাংলাও একইভাবে সেই মিলগুলো ধারণ ও বহন করে) এবং আর্যদের নিয়ে আসা সংস্কৃত কীভাবে এই অঞ্চলে এসে দ্রাবিড় বা অনার্য জাতি-গোষ্ঠিগুলো থেকে প্রচুর শব্দ নিয়ে কীভাবে ঋগে¦দ রচনার সময়কালীন (যখন পশুচারক আর্যরা পন্টিক স্টেপস থেকে ইরান ও আফগানিস্তান হয়ে পাকিস্তান এবং উত্তর ভারত আসছে) সংস্কৃত পরবর্তী কয়েক শতাব্দীতে ধীরে ধীরে ক্ল্যাসিকাল সংস্কৃতের চেহারা নিল, সে নিয়েও কিছু কথা এই লেখায় থাকবে। 

 

বাংলা কী সংস্কৃত থেকে জাত? রাশান-ফরাসী-ল্যাটিনের সাথে আমাদের ভাষার কী কী বা কেমন মিল আছে? 

 

যদিও সংস্কৃতকে বাংলা ভাষার জননী হিসেবে মানতে হালে অনেকেরই আপত্তি, তবে ‘উইকিপিডিয়া’-র হালনাগাদ সূত্র জানাচ্ছে, বাংলা ভাষার মোট শব্দ-ভান্ডারের ১৯ শতাংশ ইন্দো-আর্য শব্দাবলী থেকে উদ্ভূত ‘তদ্ভব’ শব্দ, সংস্কৃত থেকে সরাসরি গৃহীত ‘তৎসম’ শব্দাবলী হচ্ছে ৪৫ শতাংশ, ‘দেশী’ শব্দ হলো ১৬ শতাংশ এবং ফার্সি-তুর্কি-আরবি-ইংরেজি-পর্তুগীজ-ডাচ বা বিদেশী ভাষাগুলো থেকে গৃহীত শব্দাবলী হলো মোট শব্দ-ভান্ডারের ২০ শতাংশ। তাহলে ‘তৎসম’ ও ‘তদ্ভব’ মিলিয়ে সংস্কৃত বা ইন্দো-আর্য ভাষা থেকে গৃহীত শব্দাবলী আজো আমাদের মোট শব্দ-ভান্ডারের ৬৪ শতাংশ। সেই সাথে বাংলা ব্যাকরণ সংস্কৃত ব্যাকরণবিধি অনুসরণ করে। কাজেই অন্যান্য ইউরোপীয় ভাষার সাথে (রাশান-ফরাসী-ল্যাটিন) বাংলার মিল খুঁজতে গেলে সংস্কৃতের আলোচনাও আসতে বাধ্য। এবার তবে মূল আলোচনার সূত্রপাত করা যাক: 

 

বাংলা এবং সংস্কৃত ও রাশান ভাষার সাদৃশ্য: শব্দ-ভান্ডার ও ব্যাকরণগত দিক থেকে সংস্কৃত ও রাশান ভাষার প্রচুর মিল রয়েছে বলে বাংলার সাথেও রাশান ভাষার প্রভূত মিল পাওয়া যায়। কোথা থেকে এলো এই মিল বা ঐক্য? মূলত:  বাংলা (যার আদি ভাষা সংস্কৃত) ও রাশান একই প্রোটো-্ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-গোষ্ঠির সদস্য। এই ভাষা-গোষ্ঠি যেন এক বিশালায়তন ছাতা বা ছত্র যা সব স্লাভিক, জার্মানিক বা জার্মানীয়, কেল্টিক, রোমান, ইন্দো-আর্য এবং হেলেনীয় ভাষাসহ গোটা ইউরেশিয়া জুড়ে বহু বিলুপ্ত ভাষার আশ্রয়দানকারী পরিবার। তবে, প্রোটো-ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-গোষ্ঠির বলেই এই পরিবারের সব ভাষার একে অন্যের সাথে খুব মিল থাকবে এতটা প্রত্যাশা অনুচিত। ছ’হাজার বছরের বিবর্তনে ইংরেজি ‘টু’ এবং রাশান ‘দ্যুভা’-র তেমন মিল নেই মনে হলেও বেশ অবাক করা ভাবেই ‘দ্যুভা’র সাথে ‘সংস্কৃত’ বা বাংলাতেও ‘দ্বি’ বা ‘দুই’-এর সাথে শুনতে বেশি মিল পাওয়া যায় না? যদিও ইংল্যান্ডের অবস্থান ভারত বা বাংলাদেশের চেয়ে রাশিয়ার সাথে ভৌগোলিকভাবে অনেক কাছে। নৃ-তত্ত্ব-ধর্ম-পোশাক-খাদ্যাভ্যাসেও তাদের মিল বেশি। তবু, ছ’হাজার বছর পরও কেন রাশান ভাষায় ‘দুই’ বলতে বা লিখতে ‘দ্যুভা’ ইংরেজি ‘টু’-এর চেয়ে সংস্কৃত এবং বাংলার ‘দ্বি/দুই’-এর সাথে বেশি সঙ্গতিপূর্ণ? এর কারণ হচ্ছে রাশান এবং বাল্টো-স্লাভিক ভাষাগুলো ইউরোপীয় ভাষা হিসেবে বিবেচিত হলেও মূলত: তারা ইন্দো-ইরানী ভাষাগুলো এবং সংস্কৃতের অধিকতর নিকটবর্তী। আসলে রাশান তথা বাল্টো-স্লাভিক এবং ইন্দো-আর্য ও ইন্দো-ইরানী ভাষাগুলো প্রোটো-ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-গোষ্ঠির ‘শতম (Satem)’ ভাষা-গোত্রের সদস্য। অন্যদিকে, ল্যাটিন-কেল্টিক-ইংরেজি-ফরাসী-স্প্যানিশ ভাষাগুলো ‘Cantum’ ভাষা-গোষ্ঠির সদস্য। এজন্যই আর্য জন-গোষ্ঠি পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে, হাজার বছরের পরিক্রমায় অনেকেরই ভাষা-নৃ-তত্ত্ব-খাদ্যাভ্যাসে অনেক পরিবর্তনের পরও রাশান বা বাল্টো-স্লাভিক ভাষাগুলো ঘরের কাছের অন্য ইউরোপীয় ভাষাগুলোর চেয়ে আজো আমাদের বেশি নিকটবর্তী- যেহেতু আমরা একই ‘শতম’ গোত্রের ভাষায় কথা বলি। 

 

রাশান এবং সংস্কৃতের (বাংলা যে ভাষার উত্তর প্রজন্ম) শেকড় 

 

সংস্কৃত ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-গোষ্ঠির আদিতম ভাষাগুলোর অন্যতম হিসেবে পরিচিত ও পন্ডিতজনমান্য। আবার এই ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন ‘বৈদিক সংস্কৃত’ দক্ষিণ এশিয়ায় আজকের ইরান ও আফগানিস্তান হয়ে ভারত উপমহাদেশে পরিযায়ী আর্যদের মাধ্যমে এসে পৌঁছায়। তবে, ভারত উপমহাদেশে এসে আর্যরা যে নতুন নানা গাছ-পালা বা পশু-পাখির সাথে পরিচিত হয়, সেসবের কোন প্রতিশব্দ ফেলে আসা স্বদেশভূমে তাদের ছিল না। ফলে এই নতুন গাছ-পালা বা পশু-পাখিকে ডাকার জন্য ভারত উপমহাদেশের আদি অধিবাসী অনার্য বা দ্রাবিড়দের ভাষা থেকে তাঁদের ধার করতে হলো। খ্রিষ্টপূর্ব প্রথম সহ¯্রাব্দ নাগাদ, বৈদিক সংস্কৃত পরিণত হলো আজকের প্রমিত সংস্কৃতে যা হিন্দু ধর্মের শাস্ত্রীয় ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পানিণী এই ভাষার পূর্ণাঙ্গ ব্যাকরণ রচনা করেন।

            

রাশান ভাষার শেকড়: রাশান ভাষা একটি স্লাভিক ভাষা যা এগারো শতকে পূর্ব এশীয় স্লাভিক ভাষা-সমূহ এবং বুলগেরিয়ায় উদ্বূত ‘ওল্ড চার্চ স্লাভোনিক’ তথা একটি শাস্ত্রীয় ভাষার ভেতরকার আদান-প্রদানের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে। আজকের রাশিয়ায় এই ‘ওল্ড চার্চ স্লাভোনিক’ ভাষা একটি শাস্ত্রীয় ভাষা হিসেবে নিয়ে আসেন বাইজেন্টাইন মিশনারী সিরিল এবং মেথডিয়াস। তেরো শতক নাগাদ, আঞ্চলিক ভাষাগুলোর বৈচিত্র্য ক্রমবর্দ্ধমান হারে দৃষ্ট হয় যেহেতু পুরনো পূর্ব স্লাভিক ভাষাগুলো ভিন্ন ভিন্ন নানা কথ্য ভাষায় রূপ নেয়। এসব কথ্যভাষার অনেকগুলো হারিয়ে গেলেও রাশান, ইউক্রেনীয়, বেলারুশিয়ান টিঁকে আছে। আনুমানিক ৯৮৮ সাল নাগাদ,  গোটা অঞ্চলকে একটি একীভূত রাজনৈতিক শাসনের অধীনে আনা হলে এই ভিন্ন ভিন্ন কথ্যভাষাগুলো পারষ্পরিক এক বন্ধনে গ্রন্থিত হয়। ফলে আজো এরা পরষ্পরের ভাষা সহজে বুঝতে পারে। হাজার বছরের পরিক্রমায়, রাশান ভাষা বাইজেন্টাইন গ্রিক, জার্মানিক ভাষা-সমূহ (গথিক এবং ওল্ড নর্স) এবং তুর্কো-মোঙ্গলিক ভাষা-সমূহ হতে অনেক কিছু গ্রহণ করে। ১৭২১ সাল নাগাদ রাশিয়া নিজেকে একটি ইউরোপীয় শক্তি হিসেবে ঘোষণা দেবার পর থেকে, ফরাসী ও ইংরেজি থেকে ভাষাটি নানা কিছু গ্রহণ করার সূচনা করে। ১৯১৭ সালে, সোভিয়েত ইউনিয়ন রাশান ভাষাকে তার আজকের চেহারায় নিয়ে আসার জন্য ‘সংশোধন ও প্রমিতকরণ কর্মসূচি’ হাতে নেয়। 

 

 

রাশান ও সংস্কৃত এবং বাংলার ভেতর চমকে দেওয়া ঐক্যসমূহ: হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ও ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে রাশান ও সংস্কৃত এবং সংস্কৃতের সূত্র ধরে বাংলা ভিন্ন দুই মহাদেশে সম্পূর্ণ ভিন্ন ভাষাদের সাথে মিলিত হয়েছে। ফলে আজ রাশান ও সংস্কৃতের (এবং বাংলার) ভেতর শব্দ-ভান্ডার বা ধ্বনি-তত্ত্বে অনেক পার্থক্য সূচীত হয়েছে। তবে এত বছরের এত দূরত্বের পরও একই ‘শতম’ ভাষা-গোত্রের ভাষা বলেই তাদের মূল শব্দ-ভান্ডারে আজও প্রচুর মিল রয়েছে।

 

 

ইংরেজি

সংস্কৃত 

রাশান 

বাংলা 

গড/ God 

भग (Bhag) /ভগ 

Бог (Bog)/ বগ

ভগবান 

   Sky/স্কাই

नभस् (Nabhas)/ নভস

Небо (Nebo)/ নিভো  

আকাশ/নভ 

Door/ডোর

द्वार (Dvara)/ দ্বার

Дверь (Dver’)/ দুভের

দ্বার/দুয়ার/দরোজা 

Day/ডে

দিবস

День/ Den/ দিন

দিবস/দিন

Mother/মাদার

मातृ (Matr)

Мать (Mat’)/ মাত

মাতা 

Brother/ব্রাদার

भ्राता (Bhrata)/ ভ্রাতা 

Брат (Brat)/ ব্রাত       

ভ্রাতা

Sister/সিস্টার

Сестра/Sestra/সেস্ত্রা

भगिनी/ ভগিনী/ সহোদরা

ভগিনী/সহোদরা/

House/হাউজ

धाम (Dham) /ধাম

Дом (Dom)/ দোম

বাড়ি/ ধাম (একটু পুরনো দিনের শব্দ হলেও এখনো উনিশ শতকীয় সঙ্গীত ও সাহিত্যে ব্যবহৃত হয়) 

 

Drink/ড্রিঙ্ক

पिब/pib/ পীব

Пить/Pit'/ পীত

পান

Sun/সান

सूर्य/sooryah

Солнце/Solnce/সোলনসে                   

সূর্য

New/নিউ 

नवीन/ নবীন

Новый/Novyy/ নপভী

নব/নবীন/নতুন

Pleasant/প্লিজ্যান্ট

सुखद/Sukhada/ प्रिय/প্রিয়

           Приятный/           Priyatnyy/ প্রিয়তনী

          প্রিয়ন্তি

 

Fire/ফায়ার

Огонь/Ogon'

अग्नि/agni/ অগ্নি

অগ্নি/আগুন 

I/আই

Я/Ya/ ইয়া

           अहं/aham                 

        আমি

You/ইউ

Ты/Ty/ তুমি/তুই

त्वम्/ যতুম

তুমি/তুই

 

We/উই

Мы/My

वयम्/vayam

আমরা 

My/মাই 

Мой/Moy/ মই (পুং লিঙ্গ)/ Моя/ Moya/ মাইয়া (স্ত্রী লিঙ্গ)/ Мой/ Moy/ ময়ি (ক্লীব লিঙ্গ) 

मम/Mama/ মম

আমার/মম (বাংলায় রবীন্দ্রনাথ লিখছেন হে সখা মন হৃদয়ে রহো!)

 Night/নাইট

Ночь/ Noch/নোচ

निशा/ নিশা

নিশা/নিশি/রাত্রী/রজনী/রাত

Month/ মান্থ

Месяц/ Mesyats/ মেসাস

माह/ মাহ

মাস/মাহ (এ মাহ ভাদর শুণ্য এ মন্দির মোর)

 

সত্যি বলতে রাশান এবং সংস্কৃতের ভেতর আজো পাশাপাশি উচ্চারণ এবং একই জাতীয় অর্থবোধক এক হাজার শব্দ আছে যা বাংলাতেও খুব পৃথক হবে না। ‘এক’-কে রাশান ভাষায় ‘অদিন/অজিন’ বললেও ‘দুই/তিন/চার/পাঁচ’-কে ‘দ্যুভা/ত্রি/চিতিরিয়ে/পিঁয়াচ’ বলা হয়। ‘তেরো’ বা ‘চোদ্দকে’ তারা যখন ‘ত্রিনাতসাচ’ বা ‘চিতিরনাতসাচ’ বলে তখনো কানে কেমন চেনা লাগে। গ্রামদেশে শিবকে আজো ‘ত্রিনাথ’ বা লোকজ উচ্চারণে ‘ত্রিনাত’ থেকে ‘তেন্নাত’-ও বলা হয়। অথবা, ‘গীতা’-য় যেখানে বলা হচ্ছে ‘চাতুর্বণ্যং ময়া সৃষ্টং গুণ-কর্ম্ম বিভাগশ: (গুণ ও কর্ম অনুসারে আমি চারটি বর্ণ সৃষ্টি করেছি)-’এর ‘ময়া’-এর সাথে রাশানের ‘ময়/মই/মাইয়া’ যেন ছড়িয়ে পড়া যাযাবর গোত্রগুলোর কিছু বা অনেক দূরে চলে যাবার পরও এক মৃদু ধ্বনি-সাজুয্য! বাংলায় ‘শুভ দিন’-কে তারা বলে ‘দোব্রে দিন।’ ‘জন্মদিন’ হলো তাদের ভাষায় ‘দিন পোঝদিনিয়া।’ ‘আমি বাস করি’-কে রাশানে যখন ‘ইয়া ঝিবু’ বলে বা ‘সে বাস করে’-কে রাশান ভাষায় নর বা নারী ভেদে ‘ওন/আনা ঝিবেত’ সেটা অনেকটা কানে শুনতে ‘জীবিত’-এর মত মনে হয়। ’ Видеть /ভিদেত/বিদিত’ শব্দটিও রাশান ভাষায় আছে যার অর্থ ‘দেখা।’ বাংলায় ‘বিদিত’ অর্থ অবশ্য জানা এবং জানার ভেতর ‘দেখা’-ও রয়েছে।  ‘পীত’ বা পান করার সর্বনাম ভেদে আমি সর্বনামে ‘ইয়া পিউ চায়ে’ বা ‘ইয়া পিউ কোফে’-র সাথে হিন্দি ভাষায় মীরার ভজনে ‘বিষ কা পেয়ালা/রানানে ভেজা/পীবা ত’ মীরা হাসিরে (রানার দেওয়া বিষের পেয়ালা মীরা হাসি মুখে পান করবে’) বা ‘ত্যুই পীয়োশ (তুমি পান করো),’   ‘ওন/আনা পীয়োত (হী/শী ড্রিঙ্কস)’- এমন বিভিন্ন ক্রিয়াপদের সর্বনামভেদে বদলের অনেক কিছুই কানে শুনলে পরিচিত মনে হয়। একটু দূরের হলেও তা’ যেন বেশ কাছেরও। আমি যেন সহজেই কিছুটা বুঝতে পারছি। শুধু তাই নয়। অতীতকাল বোঝাতে যেমন ‘আমি বলেছিলাম’, ‘তুমি কহিয়াছিলে’, ‘সে টেনিস খেলেছিল’ বা ‘সে পিয়ানো বাজিয়েছিল’-এর মত রাশান ভাষাতেও অতীতকাল হলেই ‘ল’-এর ব্যবহার হয় বেশ আমাদের ভাষার মতই। ‘ইয়া গভোরিল (পুং লিঙ্গ হলে)/ইয়া গভোরিলা (নারী বা স্ত্রী লিঙ্গ হলে)- আমি কথা বলেছিলাম অর্থে’, ‘তুই স্কাঝাল (তুমি কহিয়াছিলে)’ বা ‘আনি স্কাঝালি (তাহারা কহিয়াছিল)/আনি গভোরিলি (তারা বলেছিল)’, ‘ওন ইগরাল টেনিস (He played tennis) বা ‘আনা ইগরালা পিয়ানিনা (She played Piano)’- বাংলার মতই রাশানে অতীত কাল বোঝাতে ‘ল’ বসে। সংস্কৃত বা বাংলার মতই রাশানেও ‘কর্তা-কর্ম-ক্রিয়া’ মেনে বাক্য গঠিত হয়। সংস্কৃতের মতই রাশানেও ‘পুং-নারী-ক্লীব’ লিঙ্গ রয়েছে। আরো যেটা অবাক করা বিষয় তা’ হলো রাশান ভাষায় ব্যবহৃত সিরিলিক হরফ এবং সংস্কৃতের দেবনাগরী- এই দুই বর্ণমালাই খ্রিষ্ট-পূর্ব ১০৫০ অব্দে ফোনেশীয় আবজাদ লিপি থেকে গৃহীত। এজন্যই কি ধরা যাক বাংলার ‘ঝ’-এর মতই রাশানে ж (উচ্চারণ ‘ঝে’) খানিকটা দেখতে?  বিভিন্ন বর্ণমালা ব্যবহারের পর ব্রাক্ষ্মী হয়ে পরবর্তী সময়ে ‘নাগরী’ এবং সবশেষে ‘দেবনাগরী’ হরফ গ্রহণ করেছে সংস্কৃত। অন্যদিকে গ্রিক বর্ণমালার মাধ্যমে সিরিলিক লিপিমালা রাশিয়াতে এসেছে।

 

বাংলা ও সংস্কৃতের সাথে ফরাসী ও ল্যাটিনের মধ্যবর্তী মিল 

 

প্রথমেই বলে নেওয়া যাক ফরাসী ল্যাটিন থেকে জাত বা প্রোটো-ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-গোষ্ঠির ‘Cantum’ উপ-গোত্রের বলে রাশানের মত বাংলার সাথে ফরাসীর অত মিল নেই। তবু একই ভাষা-গোষ্ঠির দুই প্রাচীন সহোদরা ভাষা হিসেবে ল্যাটিন ও সংস্কৃতের আজো অনেক মিল আছে বলে ফরাসী ও সংস্কৃতেরও মিল আছে এবং তাই বাংলার সাথেও ফরাসীর কিছু কিছু মিল আছে। ফরাসী ও সংস্কৃত এবং সংস্কৃতের সূত্রে বাংলা ভাষার সদৃশ শব্দগুলোর তালিকা প্রদানের আগে বলে নেওয়া ভাল যে সংস্কৃত ফার্সির মতই প্রোটো-ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-গোষ্ঠির ‘ইন্দো-ইরানীয়’ গোত্রেরও সদস্যা বটে। হয়তো সেজন্যই আরব বিজয়ের পর পারসিক ভাষার বর্ণমালা বদলে আরবি লিপি প্রচলিত হলেও সেই ফার্সি ভাষা আয়ত্ত্ব করতে ভারতের হিন্দু রাজ কর্মচারীদের খুব একটা সমস্যা হয়নি। কারণ আরবি শব্দ-ভান্ডার থেকে নেওয়া হলেও মূল ফার্সি ভাষার ৬০ শতাংশ শব্দ এখনো রয়ে গেছে এবং বাক্যের গঠন, ক্রিয়াপদের ব্যবহার বা সর্বনাম সহ ব্যাকরণ অবশ্যই ইন্দো-ইউরোপীয় ‘পারসিক’ ভাষার রীতিই মেনে চলে। আরব বিজয়ের পর আরবি বর্ণমালায় ‘প’ নেই বলে, ‘পারসিক’ ভাষার নামই বদলে হয়ে যায় ‘ফার্সি।’ তবে পারস্যের শেষ সাসানীদ শাসকদের ব্যবহৃত ভাষা লুপ্ত হয়ে পরবর্তী সময়ে খোরাসান ও বিশেষত: আফগানিস্তান অঞ্চলের ‘পারসিক/ফার্সি’ বা ‘দারি’ ভাষাই ইরানেও বাধ্য হয়ে গ্রহণ করা হয়- অবশ্যই আরবি লিপি সহ। যাক, মূল প্রসঙ্গে ফিরি। 

 

এই যে হাজার হাজার বছর ধরে আর্যদের বিভিন্ন শাখা ইউরোপের নানা দেশ থেকে ভারত অব্দি ছড়িয়ে পড়েছে, তবু আজো ছড়িয়ে পড়া নানা শাখার বদলে যাওয়া ভাষাগুলোতেও মূল যে শব্দাবলী আজো সদৃশ শব্দ হিসেবে এই বিভিন্ন ভাষাগুলোয় রয়েছে, তার ভেতর আছে ‘আত্মীয়তা’ বা ‘পারিবারিক সম্পর্কমূলক তথা সম্বোধনবাচক নানা শব্দ’ এবং ‘সংখ্যা’বাচক শব্দসমূহই প্রধান। ‘সংস্কৃত’ ইন্দো-ইরানী আর ‘ফরাসী’ ল্যাটিনের মাধ্যমে প্রোটো-ইন্দো-ইউরোপীয় (Proto-Indo-European-PIE) ভাষা-পরিবারের ‘ইতালীয়’ শাখার সদস্য হলেও তাদের ভেতর মূল যে শব্দাবলী আজো অভিন্ন তার নিচের তালিকার দিকে দেখি:

 

 

ইংরেজি

ল্যাটিন

 

ফরাসী

 

সংস্কৃত

বাংলা

Donation, Gift/ডোনেশন/গিফট

Dōnum/ডোনাম/দোনাম

Donation/

দোনেশিও

दान (dāna)/ দানা

দান

Soul/সৌল

Anima/ এ্যানিমা

Âme/ এ্যামি

आत्मन् (ātman)/ আত্ম/আত্মা

আত্মা

Fire/ ফায়ার

Ignis/ ইগনিস

Feu/ ফু

अग्नि (agní)/ অগ্নি

অগ্নি/আগুন

Mother/ মাদার

Māter/

Mère/ম্যের (‘র’-এর উচ্চারণ অস্ফুট হবে- ‘র’ ও ‘হ’-এর মাঝামাঝি উচ্চারণ হবে)

मातृ (mātr)/ মাতঃ/মাতৃ/মাতা

মাতা/মা

Father/ফাদার

Pater/ পাতের

Père/প্যের (‘র’-এর উচ্চারণ অস্ফুট হবে- ‘র’ ও ‘হ’-এর মাঝামাঝি উচ্চারণ হবে)

पितृ (pitr)

পিতৃ/পিতা/বাবা

 

Brother/ ব্রাদার

 

Frater/ ফ্রাতের

Frère/ফ্রেররহ (উচ্চারণে ‘র’ ও ‘হ’-এর মধ্যবর্তী শোনাবে)

भ्राता (Bhrata)/ ভ্রাতা

ভ্রাতা/ভাই

Sun/সান

Sōl/সোল

Soleil/সোলেই

सूर्य/সূর্য©

সূর্য

Star/স্টার

Stella

Étoile/ এতোয়া(ল)-(এখানে ‘ল’-এর উচ্চারণ খুব অস্ফুট হবে)।

नक्षत्र/ নক্ষত্র

তারা/নক্ষত্র

King/কিং

Regem

Roi/ রোয়া (উচ্চারণ হবে ‘হোয়া’-র মত)

राजन् (rājan)/ রাজন

রাজা/রাজন

Queen/কুইন

Regina/রেজিনা

 

 Reine/রেইন ( উচ্চারণ শুনতে হবে ‘হেইন’-এর মত)

 

 

राज्ञी/ রাজ্ঞী

রানী/রাজ্ঞী

God, Deity/গড/ডিয়েটি/দিয়েতি

Deus/দিউস

Dieu/দিউ

देव (deva)

দেব/দেবতা

Knee/নি

Genu/জেনু

Genou/জেনু

द्वजानु (jānu)/ জানুy

জানু/হাঁটু

This

Id/ ইদ

Ce(masculine)/ সে (উচ্চারণ ‘ছে’-এর মত হবে)/ Cette(feminine)/   ‘সেত’ (উচ্চারণ ‘ছেত’-এর মত শোনাবে)

इदम् (idam)/ ইদম

এই

New/ নিউ

Novus/নোভাস

Nouveau (masculine)/ ন্যুভো Nouvelle/ ন্যুভেল (feminine)

नव ( nava)/ নব

নতুন/নব

Night/ নাইট

Nox/ নক্স

Nuit/ ন্যুই

निशा/ নিশা

নিশি/নিশা/রাত্রি/

রজনী/রাত

Nose/নোজ

Nasus/ নাসাস/নাসুস

Nez/নেজ

नासिका (nāsikā)/নাসিকা

নাক/নাসিকা/নাসা

Sister/সিস্টার

Soror/সরোর

 

 

Soeur/স্যোয়া

भगिनी/ভগিনী

সহোদরা/ভগিনী/বোন

 

Name/নেইম

 

Nomen/নোমেন

Nom/ নম

नामः/নাম

নাম

 

 

 

সংখ্যাঃ বাংলা-ফরাসী-সংস্কৃত

 

সংখ্যা

সংস্কৃত

ফরাসী

বাংলা

ইংরেজি

एकम्‌/একম

Un/আঁ

এক

One

द्वि/দ্বি

Deux/দ্যু

দুই

Two

त्रयः/ত্রি

Trois/ত্রোয়

তিন

Three

चतुः/চর্তু

Quatre/ক্যাত

চার

Four

पंचं/পঞ্চ

Cinq/স্যাঙ্ক

পাঁচ

Five

षष्टं/ষষ্ঠ

Six/সিজ

ছয়

Six

सप्त/সপ্ত

Sept/সেপ্ত

সাত

Seven

सप्त/অষ্ট

Huit/উইদ

আট

Eight

नवं/নব

Neuf/নফ

নয়

Nine

১০

दशम/দশ

Dix/দিস

দশ

Ten

 

দেহের নানা অঙ্গপ্রত্যঙ্গের নামঃ বাংলা-ফরাসী-সংস্কৃত-ইংরেজি

 

বাংলা

ফরাসী

সংস্কৃত

ইংরেজি

নাক/নাসা

Nez/ œil

नासा/নাসা

Nose

চোখ/আঁখি

œil

अक्षि/আঁখি

Eye

পা/পদ

Pied/ wc‡q` (D”PviY n‡e ÔwcÕ-Gi gZ)

पादः/পদ

Foot

দাঁত

Dent

दंत/অস

Tooth

হাড়/অস্থি

Os/

अस्थि/অস্থি

Bone

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

সর্বনামঃ বাংলা-ফরাসী-সংস্কৃত-ইংরেজি

 

সংস্কৃত

ফরাসী

বাংলা

दशम-অহম

Je – জো, জ্যু

আমি

त्वम्‌ - ত্বম

Tu/ তু

তুমি/তুই

कः- কঃ

Qui/ কী

কে

 

 

বিশেষণঃ বাংলা-ফরাসী-সংস্কৃত-ইংরেজি

 

বাংলা

সংস্কৃত

ফরাসী

ইংরেজি

প্রোটো-ইন্দো-ইউরোপীয় মূলশব্দ

দীর্ঘ

दीर्घम्‌/দীর্ঘম

long (masculine),

longue (feminine)

long, extended

dʰl̥gʰós

লঘু/হাল্কা

 

Léger

Light

 

গুরু

 

Grave/  ঘ্রাভ

Heavy

*gʷerh₂u-,

 

 

পাঠক, এবার নিশ্চিত বুঝতে পারছেন যে কীভাবে আমাদের ভাষা ‘ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-গোষ্ঠি’র এক গর্বিত সদস্যা। ‘ল্যাটিন’ বা ‘সংস্কৃত’ যদি ইউরোপ ও ভারত উপমহাদেশের অনেক ভাষার জননী হয়ে থাকে, তবে আমাদের মাতামহী হচ্ছে ‘প্রোটো-ইন্দো-ইউরোপীয়ান’ ভাষা-গোষ্ঠি (Proto-Indo-European- PIE). ভাষাবিদরা মনে করেন যে নিওলিথিক যুগের শেষ পর্যায় থেকে আদি তাম্র যুগ নাগাদ (আনুমানিক ৪৫০০-২৫০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ) পূর্ব ইউরোপের পন্টিক-কাস্পিয়ান স্টেপস অঞ্চলে পশুপালক ও পিতৃতান্ত্রিক আর্যদের কথ্য ভাষা ছিল এই প্রোটো-ইন্দো-ইউরোপীয়ান ভাষা-গোষ্ঠি।

 

 

 

ইন্দো-ইউরোপীয়ভাষা-গোষ্ঠির সদৃশশব্দাবলী:

 

প্রোটো-ইন্দো-ইউরোপীয় (Proto-Indo-European- PIE)

আধুনিকইংরেজি

প্রাচীনইংরেজি

ল্যাটিন

গ্রিক

সংস্কৃত

মেহতের /*méh₂tēr

Mother/ মাদার

Mōdor/মোদর

Māter/মাতের

mḗtēr/মেতের

mātár-মাতার

*ph₂tḗr/ পিহতের

Father/ফাদার

Fæder/ ফেদের

Pater/পাতের

patḗr/ পিতর

pitár-পিতর

*bʰréh₂tēr/ব্রেহতের

Brother/ব্রাদার

Brōþor/ব্রোপর

Frater/ ফ্রাতের

phrḗtēr/ফ্রেতের

 

bhrā́tar-ভ্রাতার

*swésōr/সোয়েসর

Sister/সিস্টার

Sweostor/ সোয়েস্টর

Soror/সোরোর

Éor/ এরোর

svásar-স্বসর

*suHnús, 
 *suHyús / সুহনুস/সুনুস

Son/সন

Sunu/ myby

-

« huiús/হুইয়ুস

 

sūnú-সুনু

 

 

*dʰugh₂tḗr /দুতার

Daughter/ডটার

Dohtor/দোহতর

-

Thugátēr/থুগাতার

Duhitár/দুহিতার

*gʷṓus/গাউস

Cow/কাউ

Cū/কু

Bōs/বস

Boûs/†eŠm

Gáu/গাউ

(সহায়তা গ্রহণ: উইকিপিডিয়া)

 

এই লেখাটায় তালিকার সংখ্যাই বেশি হয়ে গেলো। সারা দিন শেষে নিবন্ধকার ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষার বিশদ বিকাশের ইতিহাসে আর যাবার উদ্যম পাচ্ছে না। খুব তাড়াতাড়ি সেই ইতিহাস নিয়ে আরেকদিন আসব। শুধু আত্ম-পরিচয় নিয়ে লজ্জিত বাঙালির এটুকু মনে রাখা প্রয়োজন যে সারা পৃথিবীর ৪২ শতাংশ মানুষ এই ভাষা-গোষ্ঠির সদস্য। পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রগুলোও এই ভাষা-গোষ্ঠির সদস্য। আপনি যদি একজন বাংলাভাষী হয়ে থাকেন, তবে সহজেই আপনি ইংরেজি-ফরাসী-রাশান-জার্মান-গ্রিক সহ যে কোন ভাষা সহজে শিখতে পারবেন।

 

এই বাংলা নববর্ষে আমাদের ভাষার একাধিক ভগিনী (ফরাসী ও রাশান) ও এক জননী (সংস্কৃত) ও অপর মাতৃ-প্রতিম ভাষা (ল্যাটিন)-র সাথে আমাদের কিছু মিলই শুধু আলোচনা করলাম। সব সঙ্কোচ ঝেড়ে এই নববর্ষে গর্বিত হও, বাঙালি!

সব খবর