কিছু মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী পাকিস্তানপন্থী ছাড়া জামায়াতকে যে আর কেউ পছন্দ করে না এবার তা প্রমাণ হলো। ধর্মের কথা বলেও তারা সংখ্যা গরিষ্ঠ ধর্মপ্রাণ মুসলমানের দেশে ভোট পায়নি। বাংলাদেশবিরোধী ছাড়া অন্য কেউ ওদের কাছ থেকে বেহেস্তের টিকেট কেনেনি। সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষেরা বরং বেহেস্তের টিকিট বিক্রি করাকে ধর্ম বিরুদ্ধ কাজ হিসেবে দেখেছে; ওদেরকে প্রত্যাখ্যান করেছে।
জামায়াত যে প্রকৃত অর্থেই ধর্মের অপব্যাখ্যাকারী, ইসলাম বিরোধী, ধর্মীয় দুর্নীতিবাজ তা এবার বাঙালি চাক্ষুষ করেছে। গত দুই দিন যে কয়টি নির্বাচন কেন্দ্রিক দুর্নীতির খবর গণমাধ্যমে এসেছে তার প্রত্যেকটি ওরা করেছে। বাঙালি ওদের প্রত্যাখ্যান করেছে। ওদের গলাবাজি খতম।
১৮ মাস ধরে ইউনূসের ক্ষমতার সবটুকু ব্যবহার করে প্রশাসন, পুলিশ, বিচার বিভাগ দখল করেছে জামায়াত। ওরা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি, ৩২ নম্বরসহ সাড়া দেশ থেকে মুক্তিযুদ্ধের সকল চিহ্ন ধ্বংস করেছে। ওরা লেখক, শিল্পী, সাংবাদিক, আউল-বাউল, সুফি সাধক, মাজার, হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টানের উপাসনালয় ধ্বংস করে, হত্যা করে পুড়িয়ে মেরে সকল বিরুদ্ধ মত বিন্ধ করে দিয়েছে। থামিয়ে দিয়েছে মেয়েদের খেলাধুলা, স্বাধীন চলাফেরা।
ওরা আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করে, কয়েক লক্ষ জেলে পুরে, দেশ ছাড়া ও ঘর ছাড়া করে রাজনীতির মাঠ ফাঁকা করেছে। পাকিস্তান থেকে সামরিক ও জঙ্গি কর্তাদের বার বার দেশে এনেছে, জেলখানা থেকে জঙ্গি ও একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের ছেড়ে দিয়েছে জামায়াত। ওরা দেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে।
আওয়ামী লীগের মত শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী মাঠে নেই। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাপক চাঁদাবাজি ও মামলা বাণিজ্যের অপরাধে অভিযুক্ত এবং আদর্শগত ও সাংগঠনিকভাবে দুর্বল বিএনপিকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছে জামায়াত।
ভোটার স্থানান্তর করে, আগের রাতে কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করে, ব্যালটে সিল মেরে, ভুল বুঝিয়ে ফলাফল শিটে বিএনপির এজেন্টের স্বাক্ষর নিয়ে, দিনের বেলা জাল ভোট দিয়ে নির্বাচনের ফল নিজেদের পক্ষে নেয়ার জন্য এমন হীন কাজ নেই যা জামায়াত করেনি। তবুও কাঙ্ক্ষিত বিজয় তারা পায়নি।
বস্তুত তাদের রাজনীতি পছন্দ করে না বাংলাদেশ। এতকিছু নিজেদের পক্ষে থাকার পরেও এবারেই যখন পারল না - রাষ্ট্র ক্ষমতা অর্জন করার স্বপ্ন তাদের এখানে চিরতরে শেষ করতে হবে।