নওগাঁতে আবারও সেই পরিচিত দৃশ্য। মিথ্যা চুরির অপবাদ, উন্মত্ত জনতার উল্লাস, আর এক হিন্দু যুবকের নির্মম মৃত্যু। এটিকে আর “দুর্ভাগ্যজনক” বলে চালিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। এটি একটি ধারাবাহিকতা—রাষ্ট্রের অবহেলায়, নীরব সম্মতিতে গড়ে ওঠা এক রক্তাক্ত বাস্তবতা।
এই দেশে কি হিন্দু হওয়াই অপরাধ? প্রমাণ ছাড়াই, বিচার ছাড়াই, শুধুমাত্র সন্দেহের ভিত্তিতে একজন মানুষকে পিটিয়ে হত্যা করা যায়—আর রাষ্ট্র নির্বিকার দর্শকের ভূমিকায় দাঁড়িয়ে থাকে! এ কেমন রাষ্ট্র? এ কেমন শাসনব্যবস্থা?
প্রতিবার একই চিত্রনাট্য। সংখ্যালঘুর রক্ত ঝরবে, লাশ পড়বে, তারপর সরকার বলবে—“তদন্ত চলছে”। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়: কয়জন খুনির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়েছে? বাস্তব উত্তর—প্রায় কেউই না। এই শাস্তিহীনতাই গণপিটুনিকে উৎসাহ দেয়, হত্যাকে স্বাভাবিক করে তোলে।
ইউনুস সরকার কি ইচ্ছাকৃতভাবেই নীরব? নাকি তারা মেনে নিয়েছে যে এই দেশের সংখ্যালঘু নাগরিকদের জীবন রাষ্ট্রের অগ্রাধিকারে নেই? যদি হিন্দুরা সত্যিই এই দেশের সমান নাগরিক না হয়, তাহলে সেটা স্পষ্ট করে বলাই কি বেশি সৎ নয়? অন্তত মিথ্যা আশ্বাসের ভান বন্ধ হোক।
আইন যখন কার্যত অচল হয়ে যায়, তখন ভিড়ই বিচারক হয়। আর সেই ভিড় জানে—হিন্দু মারলে বড় কিছু হবে না। এটাই আজকের সবচেয়ে ভয়ংকর সত্য, এটাই রাষ্ট্রের নৈতিক দেউলিয়াপনার প্রমাণ।
এটি আর একটি হত্যার প্রতিবাদ নয়—এটি একটি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র। যে রাষ্ট্র তার সংখ্যালঘু নাগরিকদের জীবন রক্ষা করতে ব্যর্থ, সে রাষ্ট্র তার নৈতিক অধিকার হারিয়েছে।
আজ নওগাঁ, কাল কোথায়? আর কত হিন্দু লাশ পড়লে সরকার বুঝবে—এই নীরবতা কোনো নিরপেক্ষতা নয়, এটি নিজেই একটি অপরাধ।
ইতিহাস ক্ষমা করে না। আজ যারা চুপ, কাল তাদের নামই লেখা থাকবে ব্যর্থতার তালিকায়।