সর্বশেষ

ফিলিং স্টেশনে উপচে পড়া ভিড়

তেল সংকটে ডিপো থেকে সরবরাহ বন্ধ থাকায় বিপাকে পাম্প মালিকরা

রাজধানী ডেস্ক বিডি ভয়েস
প্রকাশিত: ৮ মার্চ ২০২৬, ০২:৫৮
তেল সংকটে ডিপো থেকে সরবরাহ বন্ধ থাকায় বিপাকে পাম্প মালিকরা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে ঘিরে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের চালকরা। আতঙ্কে অতিরিক্ত তেল কেনা এবং সরকারি ছুটির কারণে ডিপো থেকে সরবরাহ বন্ধ থাকায় ঢাকার অনেক পেট্রোল পাম্পে সাময়িক সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন পাম্প মালিকরা।

 

শনিবার (৭ মার্চ) সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে গাড়ি ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। কোথাও কোথাও মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় পাম্প বন্ধ রাখতে হয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, সংসদ ভবনের পাশের তালুকদার পাম্পের সামনে গাড়ির লাইন জিয়ার মাজারসংলগ্ন লেকের মোড় পর্যন্ত পৌঁছে যায়। আসাদগেট এলাকার একটি পাম্প থেকে গাড়ির সারি প্রিপারেটরি স্কুল পর্যন্ত গড়ায়। শাহবাগের মেঘনা পাম্পেও একই চিত্র দেখা গেছে—গাড়ির লাইন পিজি হাসপাতাল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। অনেক জায়গায় গাড়ি ও মোটরসাইকেলের জন্য আলাদা দুইটি লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে চালকদের।

 

রাজধানীর মালিবাগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নজরুল ইসলাম বলেন, “গতকাল কয়েক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাইনি। তাই আজ সকালেই বের হয়েছি। কিন্তু বেলা ১১টা পর্যন্ত কয়েকটি পাম্প ঘুরেও তেল পাইনি। সবাই বলছে গত দুই দিনে অতিরিক্ত তেল নেওয়ার কারণে অনেক পাম্পের মজুত শেষ হয়ে গেছে।”

 

পেট্রোল পাম্প মালিকদের দাবি, আতঙ্কের কারণে গত দুই দিনে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি তেল বিক্রি হয়েছে। এতে করে বেশ কয়েকটি পাম্পে মজুত দ্রুত শেষ হয়ে গেছে। বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির একাংশের সভাপতি নাজমুল হক বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল কেনার কারণেই অনেক পাম্পে জ্বালানি ফুরিয়ে গেছে।

 

তিনি জানান, সাধারণত শুক্র ও শনিবার সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় তেলবাহী গাড়ি চলাচল করে না এবং ডিপো থেকে সরবরাহও বন্ধ থাকে। তবে সেচ মৌসুমে মার্চ থেকে মে পর্যন্ত এই নিয়ম শিথিল করা হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে তা না হওয়ায় পাম্প মালিকরা সমস্যায় পড়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

অন্যদিকে সরকার বলছে, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক আছে। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে অনেকেই আতঙ্কে অতিরিক্ত তেল কিনছেন। এ কারণেই কিছু পাম্পে সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে।

 

এদিকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, জ্বালানি তেলের মজুত ও সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। আতঙ্কে অতিরিক্ত তেল না কেনার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

 

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বর্তমানে ফিলিং স্টেশন থেকে সীমিত পরিমাণে জ্বালানি তেল বিক্রি করা হচ্ছে। মোটরসাইকেল সর্বোচ্চ দুই লিটার এবং প্রাইভেটকার সর্বোচ্চ ১০ লিটার পর্যন্ত অকটেন বা পেট্রোল নিতে পারছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গুজব ও আতঙ্ক কমে গেলে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

সব খবর

আরও পড়ুন