দেশজুড়ে তীব্র শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। খেটে খাওয়া ও ছিন্নমূল মানুষ চরম কষ্টে দিনযাপন করছে। ঘন কুয়াশায় অনেক এলাকায় দিনের পর দিন সূর্যের দেখা মিলছে না, কোথাও কোথাও কুয়াশা ঝরছে বৃষ্টির মতো। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বর্তমানে দেশের অন্তত ৪৪ জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং এই পরিস্থিতি আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। পাশাপাশি চলতি মাসেই একাধিক শৈত্যপ্রবাহ আঘাত হানতে পারে বলে আভাস দিয়েছে সংস্থাটি।
আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার (১০ জানুয়ারি) থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে, ফলে শীতের তীব্রতা বাড়বে। ঢাকা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান জানান, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ এবং খুলনা ও মৌলভীবাজারসহ কয়েকটি জেলার ওপর দিয়ে বর্তমানে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা আরও কয়েক দিন স্থায়ী হতে পারে।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে নওগাঁর বদলগাছীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে আসে ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা চলতি মৌসুমে জেলার সর্বনিম্ন। চুয়াডাঙ্গায় টানা দুই দিন মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গিয়ে তাপমাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সিরাজগঞ্জে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৮ দশমিক ২ ডিগ্রি, দিনাজপুরে ৯ ডিগ্রি এবং রংপুর বিভাগের পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ও ঠাকুরগাঁওয়ে তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। নীলফামারীর ডিমলায় তাপমাত্রা নেমেছে ৮ ডিগ্রিতে।
দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে কুয়াশার ঘনত্ব কিছুটা কমলেও বাতাসের তীব্রতা বেড়েছে। ফলে শীতের অনুভূতি আরও বেড়েছে, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রা হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। তীব্র শীতে গরম কাপড়ের অভাবে দরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষেরা শীত নিবারণের ন্যূনতম ব্যবস্থা করতেও হিমশিম খাচ্ছেন। বিরূপ আবহাওয়ায় কমে গেছে দিনমজুর, রিকশাচালক ও খেটে খাওয়া মানুষের আয়-রোজগার।
জয়পুরহাট, রাজশাহী ও নীলফামারীতে কয়েক দিন ধরে সূর্যের দেখা না মেলায় কৃষকরা মাঠে কাজ করতে পারছেন না। সিরাজগঞ্জে কৃষকদের ধানের বীজতলা ক্ষতির মুখে পড়েছে। পাহাড়ি জেলা রাঙামাটিসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘন কুয়াশা ও ঠান্ডায় সবজি ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। হাসপাতালগুলোতে শিশু ও বয়স্কদের শীতজনিত রোগে ভিড় বাড়ছে।
সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন এলাকায় শীতবস্ত্র বিতরণ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত বলে অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীরা। রাজশাহীতে শীতের কাপড়ের অভাবে গরিব ও ছিন্নমূল মানুষের ভোগান্তি আরও বেড়েছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাই সরকার জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৩২ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে, তবে প্রয়োজনের তুলনায় তা যথেষ্ট নয়।
নীলফামারীতে কয়েক দিন ধরেই তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির আশপাশে ঘোরাফেরা করছে। পর্যাপ্ত গরম কাপড় না থাকায় দিন-রাত প্রচণ্ড ঠান্ডায় কাতর নিম্ন আয়ের মানুষ। যশোরে শৈত্যপ্রবাহের সঙ্গে ঠান্ডা বাতাসে কাঁপুনি ধরাচ্ছে জনজীবন। আয়-রোজগার কমে যাওয়ায় হতদরিদ্র মানুষের পক্ষে ভারী শীতের কাপড় সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সতর্ক করেছে, জানুয়ারির বাকি সময়জুড়ে শীতের দাপট আরও বাড়তে পারে এবং একাধিক শৈত্যপ্রবাহ দেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।