হিমেল হাওয়ার সঙ্গে ঘন কুয়াশায় দেশজুড়ে জেঁকে বসেছে কনকনে শীত। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের অনেক অঞ্চলে দিনের পর দিন সূর্যের দেখা মিলছে না। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলমান এই পরিস্থিতি আরও তিন থেকে চার দিন অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষ করে ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ শাহানাজ সুলতানা জানান, গত কয়েক দিনে দেশের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পার্থক্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এই পার্থক্য কমে গেলে শীতের অনুভূতি বেশি হয়। পাশাপাশি সূর্যের অনুপস্থিতিতে ভূমি উত্তপ্ত না হওয়ায় শীত আরও তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে। যদিও বর্তমানে দেশে কোনো শৈত্যপ্রবাহ বইছে না, তবে শৈত্যপ্রবাহের মতোই শীত অনুভূত হচ্ছে।
গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে কিশোরগঞ্জের নিকলীতে ৯.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস (কিছু স্থানে ৮.৮ ডিগ্রিও নেমেছে)।
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, শ্রীমঙ্গলসহ উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় তাপমাত্রা ১০ থেকে ১২ ডিগ্রির ঘরে ঘোরাফেরা করছে। ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল প্রায় ১৩ থেকে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। অন্যদিকে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে কক্সবাজারের টেকনাফে ২৮.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
ঘন কুয়াশার কারণে নৌ, সড়ক ও বিমান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সদরঘাট থেকে চাঁদপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন নৌপথে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একাধিক ফ্লাইট নির্ধারিত সময়ে অবতরণ করতে পারেনি। আরিচা-কাজীরহাট নৌপথে ফেরি চলাচলও কয়েক ঘণ্টা বন্ধ ছিল।
তীব্র শীতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, শিশু ও বয়স্করা। রংপুর, রাজশাহী, নওগাঁ, জামালপুরের ইসলামপুরসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় মানুষ আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদের চরাঞ্চলে গরম কাপড়ের অভাবে রাত কাটছে নির্ঘুম। শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে রোগীর চাপও বাড়ছে, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ১ ও ২ জানুয়ারি তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। তবে ৬ থেকে ৭ জানুয়ারি আবার শীতের তীব্রতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জানুয়ারি মাসজুড়ে শীত আরও বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।