মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকায় স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পরপর দুটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে বাংলাদেশ। মাত্র ১৭ মিনিটের ব্যবধানে রাতের দুই দফা কম্পনে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে ভোরে সাতক্ষীরাকেন্দ্রিক আরেকটি হালকা ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৩৩ মিনিটে প্রথম ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৯। শক্তিশালী এ কম্পনের উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকা, যার প্রভাব বাংলাদেশজুড়েই অনুভূত হয়।
এরপর রাত ৯টা ৫১ মিনিটে আবারও ভূমিকম্প হয়। দ্বিতীয় কম্পনের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ২। ইউএসজিএসের তথ্যমতে, এটির কেন্দ্র ছিল ভূ-পৃষ্ঠের প্রায় ৬৭ দশমিক ৮ কিলোমিটার গভীরে। ফলে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি তুলনামূলক কম হলেও টানা দুই দফা কম্পনে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ে। অনেকেই ঘরবাড়ি ও অফিস থেকে দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসেন।
এর আগে একই দিন ভোর ৪টা ৩৬ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডে সাতক্ষীরাকেন্দ্রিক একটি হালকা ভূমিকম্পে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল কেঁপে ওঠে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সহকারী আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানা জানান, ওই কম্পনের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ১, যা তুলনামূলকভাবে দুর্বল।
একদিনে তিন দফা ভূমিকম্পের ঘটনায় ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ মিয়ানমার ও ভারতীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় এমন কম্পন অস্বাভাবিক নয়। তবে প্রস্তুতি ও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
এ পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর না পাওয়া গেলেও কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে।