ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নে স্থানীয় আধিপত্যকে কেন্দ্র করে চার গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল সোয়া ৭টা থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষ দুপুর ১২টা পর্যন্ত স্থায়ী হয়। পরে পুলিশ, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। সংঘর্ষে তিন পুলিশ সদস্যসহ অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
এর আগে শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় প্রথম দফায় প্রায় এক ঘণ্টা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। রাতভর দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে এবং পুনরায় সংঘর্ষের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। শনিবার সকালে আবারও সংঘর্ষ শুরু হলে তা দ্রুত বিস্তৃত হয়ে মনসুরাবাদ বাজার ছাড়িয়ে ঢাকা–খুলনা মহাসড়কের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে এক পক্ষে ছিল হামিরদী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মনসুরাবাদ গ্রামের বাসিন্দারা এবং অপর পক্ষে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের খাপুরা, মাঝিকান্দা ও সিঙ্গারিয়া গ্রামের লোকজন। উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র, ইট-পাটকেল ও ঢাল নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। কয়েকটি দোকান ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চার গ্রামের মধ্যে দীর্ঘদিনের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছিল। সাম্প্রতিক সংঘর্ষের সূত্রপাত নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। কেউ বলছেন ফুটবল খেলার মাইকিংকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়, আবার কেউ বলছেন ঈদের চাঁদরাতে পটকা ফাটানোকে কেন্দ্র করে বিরোধের শুরু। শুক্রবার বিকেলে খাপুরা গ্রামের এক ব্যক্তিকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তানসিভ জুবায়ের জানান, দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ২৮ জন আহত ব্যক্তি চিকিৎসা নিয়েছেন। গুরুতর আহত তিনজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. খোকন মিয়া বলেন, “ছোটখাটো ঘটনা থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হলেও পরে তা বড় আকার ধারণ করে। আধিপত্যের কারণে তিনটি গ্রাম এক হয়ে মনসুরাবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।”
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানান, “সংঘর্ষের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সহায়তায় দুপুরের দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়েছে।”
বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।