দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শৈত্যপ্রবাহের বিস্তৃতি আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসজুড়েই ঢাকাসহ সারা দেশে শীতের প্রকোপ বজায় থাকবে এবং একাধিক দফায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কোনো কোনো এলাকায় তাপমাত্রা আরও কমে আসতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মো. বজলুর রশিদ বলেন, বর্তমানে যে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ চলছে, তা আপাতত অব্যাহত থাকবে। কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে তাপমাত্রা বাড়লেও সার্বিক শীতের পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। তিনি জানান, সপ্তাহখানেক পর নতুন করে দেশের কয়েকটি অঞ্চলে তাপমাত্রা আবারও কমতে পারে।
এদিকে কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ জানিয়েছেন, মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দেশের বিভিন্ন বিভাগে তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ওই দিন সন্ধ্যার পর আট বিভাগের বিভিন্ন জেলা মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশায় ঢেকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাঁর পূর্বাভাস অনুযায়ী, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগের অধিকাংশ জেলায় দুপুর ১২টার আগেও সূর্যের দেখা নাও মিলতে পারে।
শৈত্যপ্রবাহের তীব্রতা ইতোমধ্যে বেড়েছে রাজশাহী বিভাগের আট জেলা এবং কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, যশোর ও দিনাজপুরসহ মোট ১২ জেলায়। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আরও এক ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে পাবনার ঈশ্বরদীতে ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে। আগের দিন রোববার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানী ঢাকায় তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও ঘন কুয়াশার কারণে শীতের অনুভূতি কমেনি।
ঘন কুয়াশায় রাজধানীসহ দেশের বড় অংশ ঢেকে পড়ায় ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত অনেক এলাকায় ৫০ থেকে ১০০ মিটারের বেশি দূরত্ব দেখা যাচ্ছে না। এর প্রভাব পড়েছে সড়ক ও নৌপথে। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ও মানিকগঞ্জের আরিচা-কাজীরহাট নৌরুটে কুয়াশার কারণে ফেরি চলাচল কয়েক ঘণ্টা বন্ধ ছিল।
আবহাওয়াবিদদের মতে, গঙ্গা অববাহিকা হয়ে উত্তরাঞ্চল থেকে মধ্যাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত ঘন কুয়াশা, সূর্যকিরণ কমে যাওয়া এবং পরিবেশদূষণের কারণে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। আপাতত কুয়াশা ও শীত থেকে স্বস্তির সম্ভাবনা কম বলেও তারা সতর্ক করেছেন।