জ্বালানি তেলের রেশনিং ব্যবস্থার কারণে দেশের প্রায় সব জেলার ফিলিং স্টেশন দিনের বেশিরভাগ সময় বন্ধ রাখতে হচ্ছে। কোথাও দুই-তিন দিন পর পর তেল সরবরাহ করা হয়, ফলে সেই দিনগুলোতে স্টেশন বন্ধ থাকে। মালিকরা বলছেন, সীমিত সরবরাহের কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে, যা রেশনিং পদ্ধতি প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত কাটবে না।
চট্টগ্রাম বিভাগের ৩৮৩টি ফিলিং স্টেশনের অর্ধেকেই তেল পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক পাম্পে অকটেন থাকলেও ডিজেল নেই, আবার কোথাও ডিজেল থাকলেও অকটেন নেই। পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যসচিব মোহাম্মদ মাইনুদ্দিন জানান, “চাহিদা অনুযায়ী তেল পাওয়া যাচ্ছে না, বিশেষ করে পেট্রোল ও অকটেনের ঘাটতি বেশি।”
বরিশালেও একই অবস্থা। বিভাগের ছয় জেলায় ৫৭টি পাম্পের বেশিরভাগ সময় তেল থাকে না। ডিজেল সংকটে নদী ও সাগরে মাছ ধরতে পারছেন না জেলেরা। বরিশালের আড়তদার জহির শিকদার বলেন, “এক ব্যারেল ডিজেলের সরকারি দাম ২১ হাজার টাকা, এখন বিক্রি হচ্ছে ২৭-২৮ হাজারে, তাও ঠিকমতো পাওয়া যায় না।”
রাজশাহীতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। জেলার ৪৬টি পাম্পের মধ্যে ৩৬টিতেই তেল নেই। কৃষকরা সেচ দিতে পারছেন না, কেউ কেউ শ্যালো মেশিন নিয়ে ফিলিং স্টেশনে আসছেন তেলের আশায়। রেলপথে তেল সরবরাহ বন্ধ থাকায় এখন সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি ডিপো থেকে সড়কপথে তেল আনতে হচ্ছে, এতে খরচ বেড়েছে তিনগুণ।
রাজশাহী পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির সভাপতি মমিনুল হক বলেন, “ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল পাওয়া যাচ্ছে না, তাই গ্রাহকদের দিতে পারছি না।” জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, “তেলের জন্য ফুয়েল কার্ড চালু করা হচ্ছে, যাতে প্রয়োজন অনুযায়ী সবাই তেল পান।”
ময়মনসিংহেও একই চিত্র। বিভাগের ১১৫টি স্টেশনের বেশিরভাগ সময় বন্ধ থাকে। মোটরসাইকেল চালকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল পাওয়ার অপেক্ষায় থাকেন। শেরপুর ও নেত্রকোনায়ও একই অবস্থা—তেল না থাকলে পাম্প বন্ধ, তেল এলে আবার চালু।
খুলনা বিভাগেও ২৬০টি স্টেশন সচল থাকলেও দুই-তিন দিন পর পর তেল পাওয়া যায়। খুলনা ট্যাংকলরি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ পিন্টু বলেন, “সব স্টেশনে তেলের সংকট চলছে, প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানানো হয়েছে, কিন্তু সমাধান হয়নি।”
সরকারি তেল কোম্পানিগুলোর দাবি, সরবরাহ আগের মতোই আছে, তবে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় চাপ তৈরি হয়েছে। রেশনিং পদ্ধতি প্রত্যাহার না হলে এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হবে বলে আশঙ্কা করছেন মালিকরা।