সর্বশেষ

ইরান যুদ্ধের ফলে জ্বালানি সংকটের শঙ্কা

ঢাকার পাম্পে তেল কেনার হিড়িক, বিক্রি বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ

রাজধানী ডেস্ক বিডি ভয়েস
প্রকাশিত: ৬ মার্চ ২০২৬, ১৪:৫০
ঢাকার পাম্পে তেল কেনার হিড়িক, বিক্রি বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ

ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানি তেলের সম্ভাব্য সংকট বা দাম বৃদ্ধির আশঙ্কায় ঢাকার বিভিন্ন পেট্রল পাম্পে ক্রেতাদের ভিড় বেড়ে গেছে। অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল কিনে ট্যাংক ভরছেন, ফলে পাম্পগুলোতে দীর্ঘ সারি ও অতিরিক্ত চাপের সৃষ্টি হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেল নিয়ে মানুষ পাম্পগুলোতে ভিড় করছেন। কোথাও কোথাও গাড়ির সারি পাম্পের সীমানা ছাড়িয়ে মূল সড়ক পর্যন্ত চলে গেছে, এতে আশপাশের এলাকায় যানজটও তৈরি হয়েছে।

 

মহাখালীর রাওয়া ক্লাব সংলগ্ন ‘ইউরেকা এন্টারপ্রাইজ’ পেট্রল পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, জ্বালানি নিতে অপেক্ষমাণ গাড়ির দীর্ঘ লাইন। সাধারণত এ সময় সিএনজিচালিত গাড়ির চাপ বেশি থাকলেও গত রাত থেকে তেলের জন্য বাড়তি ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পাম্পের কর্মীরা।

 

পাম্পটির কর্মী রেজাউল করিম বলেন, “অনেকেই ট্যাংক ফুল করে তেল নিচ্ছেন। দাম বাড়তে পারে বা পরে তেল না পাওয়া যেতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই মানুষ বাড়তি তেল কিনছেন।”

 

পাম্পে তেল নিতে আসা বাইকার ইমরান বলেন, “সাধারণত যতটুকু দরকার ততটুকুই তেল নেই। কিন্তু পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে ভেবে আজ ট্যাংক ফুল করে নিলাম।”

 

আরেক বাইকার শুভ্র বলেন, “এখন ফুল করে নিলাম, কিন্তু পরে যদি সংকট হয় তাহলে পাম্পে আরও ভিড় হবে। সেই ভাবনা থেকেই আগেই তেল নিয়ে রাখছি।”

 

একই চিত্র দেখা গেছে আমতলী এলাকার ‘গুলশান সার্ভিস স্টেশন’-এও। পাম্পটির বিক্রয় প্রতিনিধি মনির হোসেন জানান, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অন্তত দেড়গুণ বেশি তেল বিক্রি হচ্ছে।

 

তিনি বলেন, “দামের কোনো পরিবর্তন হয়নি, কিন্তু মানুষ হঠাৎ করে বেশি বেশি তেল নিচ্ছে। আগে যে ১০ লিটার নিত, এখন ২০ লিটার নিচ্ছে।”

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস, ডিস্ট্রিবিউটরস, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, মানুষের অতিরিক্ত তেল কেনার প্রবণতাই মূল সমস্যা তৈরি করছে।

 

তার ভাষায়, “যার দরকার ১০ লিটার, সে যদি ৫০ লিটার নেয়, সেটাকে চাহিদা বলা যায় না। এতে অকারণে বাজারে চাপ তৈরি হয়। এখন যদি ১০ দিনের মধ্যে ৫০ দিনের তেল কিনতে আসে সবাই, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই ভাণ্ডার দ্রুত শেষ হয়ে যাবে।”

 

তিনি জানান, গতকাল পর্যন্ত তেল বিক্রি প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়েছিল, আর বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত তা ৮০ শতাংশে পৌঁছেছে। এভাবে চলতে থাকলে দিনের শেষে বিক্রি দ্বিগুণও হতে পারে।

 

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কায় জ্বালানি ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে গণপরিবহন ব্যবহার, কারপুলিং চালু করা এবং অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সব খবর