বরিশালের ওয়াপদা কলোনি ও কীর্তনখোলা খালের তীরবর্তী এলাকা মুক্তিযুদ্ধের সময় ছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ক্যাম্প ও টর্চার সেল। এখানেই হাজারো মুক্তিকামী মানুষকে হত্যা করে লাশ ফেলা হয়েছিল সাগরদী খালে। স্বাধীনতার পর এলাকাটি রাষ্ট্রীয়ভাবে বধ্যভূমি হিসেবে স্বীকৃতি পায়। তবে গত বছরের ৫ আগস্ট ভাঙচুরের পর দেড় বছরেও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
১৯৭১ সালের ২৫ এপ্রিল পাকিস্তানি সেনারা গানবোট ও হেলিকপ্টারে বরিশালে প্রবেশ করে ওয়াপদা কলোনি দখল করে। সেখানে তারা স্থাপন করে সেনাক্যাম্প ও টর্চার সেল। বন্দিদের নির্মম নির্যাতন শেষে হত্যা করে লাশ ফেলা হতো খালের তীরে। মুক্তিযোদ্ধাদের মতে, এই মিনি ক্যান্টনমেন্টে চার থেকে পাঁচ হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের অর্থায়নে প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে দেড় একর জমিতে সংরক্ষণ করা হয় টর্চার সেল, বাংকার, বধ্যভূমি ও সেতু। শ্রদ্ধা জানানোর জন্য নির্মাণ করা হয় ‘স্মৃতিস্তম্ভ ৭১’। ২০২০ সালের ৮ ডিসেম্বর এটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট একদল লোক বধ্যভূমি কমপ্লেক্সে ভাঙচুর চালায়। নিরাপত্তাকর্মীদের মারধর করে দেয়ালে কটূক্তি লিখে রেখে যায়। এরপর থেকে জায়গাটি অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে। অসম্পূর্ণ ওয়াকওয়ের কারণে দর্শনার্থীদের প্রবেশও কঠিন হয়ে পড়েছে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা এএমজি কবির ভুলু ও মহিউদ্দিন মানিক জানিয়েছেন, ওয়াপদা কলোনি ছিল দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় নির্যাতন ক্যাম্প। তারা দ্রুত সংস্কার করে বধ্যভূমি আবারও সবার জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী বলেন, “দ্রুত সময়ের মধ্যেই ওয়াপদা কলোনির বধ্যভূমির সংস্কারকাজ শুরু করবো আমরা।”