বাগেরহাটের রামপালে নৌবাহিনীর একটি বাস ও নবদম্পতিকে বহনকারী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বর, নববধূ এবং বরের পরিবারের সাত সদস্য রয়েছেন। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় বিয়ের পর নববধূকে নিয়ে বরের আর ঘরে ফেরা হলো না।
বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনা–মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানান মো. জাফর আহমেদ, যিনি বাগেরহাটের কাটাখালী হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মোংলার বাসিন্দা বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক তার ছেলে মো. সাব্বির–এর বিয়ে দিতে খুলনার কয়রা উপজেলার নাকশা এলাকায় যান। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকেলে নববধূ মার্জিয়া আক্তার মিতু–কে নিয়ে একটি মাইক্রোবাসে করে মোংলার বাড়িতে ফিরছিলেন তারা। পথে রামপাল উপজেলার বেলাই ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা নৌবাহিনীর একটি বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
মোংলা পৌর বিএনপির সদস্য খোরশেদ আলম জানান, দুর্ঘটনায় আব্দুর রাজ্জাক, তার ছেলে সাব্বির, নববধূ মিতুসহ বরের পরিবারের সাত সদস্য নিহত হন। এছাড়া মাইক্রোবাসের চালক ও কনের পক্ষের কয়েকজন আত্মীয়সহ মোট ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থলেই কয়েকজন মারা যান। আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার সুকান্ত পাল জানান, হাসপাতালে আনা ছয়জনের মধ্যে চারজন আগেই মারা গিয়েছিলেন। গুরুতর আহত দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মেহনাজ মোশাররফ জানান, দুর্ঘটনায় আহত ১১ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে আটজনকে মৃত ঘোষণা করা হয় এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজন মারা যান।
এদিকে, এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের আহ্বান জানান।
মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় একটি পরিবারের বহু সদস্যের একসঙ্গে মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।