চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রথম টি–টোয়েন্টিতে আইরিশদের কাছে বড় ব্যবধানে হেরে সিরিজ শুরু করল বাংলাদেশ। ১৮২ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে লিটন দাসের দল। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভার শেষে ৯ উইকেটে ১৪২ রান তুলতেই থেমে যায় টাইগারদের ইনিংস। ফলে আয়ারল্যান্ড ৩৯ রানের জয় তুলে নিয়ে তিন ম্যাচ সিরিজে ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল।
টস জিতে আয়ারল্যান্ডকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠান টাইগার অধিনায়ক লিটন দাস। ব্যাট হাতে আইরিশরা শুরু থেকেই স্বচ্ছন্দ ছিল। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৮১ রান তোলে তারা। হ্যারি টেক্টর ৪৫ বলের দারুণ ইনিংসে অপরাজিত ৬৯ রান করেন। টিম টেক্টর ৩২, পল স্টার্লিং ২১ এবং ক্যাম্ফার ২৪ রান যোগ করেন দলের স্কোরে। বাংলাদেশের পক্ষে তানজিম সাকিব নেন ২ উইকেট, রিশাদ এবং শরিফুল নেন ১টি করে।
১৮২ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাওয়ার প্লে-তেই বিধ্বস্ত হয় বাংলাদেশ। মাত্র ১৮ রানের মধ্যেই সাজঘরে ফেরেন শীর্ষ চার ব্যাটার তানজিদ তামিম (২), লিটন দাস (১), পারভেজ ইমন (১) ও সাইফ হাসান (৬)। দ্রুত উইকেট হারানোর চাপ কাটিয়ে উঠতে পারেননি ব্যাটাররা।
পঞ্চম উইকেটে তাওহিদ হৃদয় ও জাকের আলী মিলে ৪৮ রানের জুটি গড়ে দলকে কিছুটা সামলে তোলার চেষ্টা করেন। জাকের ২০ রান করে আউট হলে আবারও ধস নামে ইনিংসে—এক ওভারেই পড়ে তিন উইকেট। তানজিম সাকিব (৫), রিশাদ (০) এবং নাসুম আহমেদ (০) দ্রুত বিদায় নেন।
একপ্রান্ত ধরে রেখে দারুণ লড়াই চালিয়ে যান তাওহিদ হৃদয়। ৩৪ বলে ফিফটি তুলে নেন, পরে ৫০ বলে ৭ চার ও ৩ ছক্কায় ৮৩ রানে অপরাজিত থাকেন। শেষ দিকে শরিফুলকে নিয়ে নবম উইকেটে ৪৮ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে পরাজয় ব্যবধান কমান তিনি।
আইরিশদের হয়ে বামহাতি স্পিনার ম্যাথু হামফ্রিজ বাজিমাত করেন। মাত্র ১৩ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন তিনি। ব্যারি ম্যাকার্থি নেন ৩ উইকেট এবং মার্ক অ্যাডায়ার নেন ২ উইকেট।
টি–টোয়েন্টি সিরিজে ব্যাটিং ব্যর্থতার হতাশা নিয়ে দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর অপেক্ষায় বাংলাদেশ।