বাংলাদেশের তারকা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান আবারও আলোচনায়। দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে দূরে থাকলেও তিনি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর নেননি। সম্প্রতি তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা তিনি উড়িয়ে দিচ্ছেন না।
সাকিব একসময় আওয়ামী লীগ সরকারের সংসদ সদস্য ছিলেন। জুলাই আন্দোলনের পর তিনি বিদেশে অবস্থান করছেন। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর আবারও তাঁর নাম আলোচনায় এসেছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্পষ্ট করেছেন, খেলাধুলায় রাজনীতি মেশানো হবে না। সাকিব যদি ফিট থাকেন, তবে জাতীয় দলে ফেরার কোনো বাধা নেই।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জানিয়েছে, পাকিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন হোম সিরিজে সাকিবকে ফেরানোর চেষ্টা চলছে। জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল মনে করেন, সাকিবের উচিত ২০২৭ বিশ্বকাপে খেলার পরিকল্পনা করা।
সাকিব নিজে অবশ্য খুব বেশি কিছু বলেননি। তিনি জানিয়েছেন, এখনই ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় কোনো ঘোষণা দিতে চান না। তবে বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। তাঁর ভাষায়, “আপনি অনেক দূরের কথা ভাবছেন। আমি এখনই কিছু বলতে চাই না। তবে সম্ভাবনা আছে।”
সাকিব সর্বশেষ ওয়ানডে খেলেছেন ২০২৩ সালের নভেম্বরে, ভারতের দিল্লিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বিশ্বকাপ ম্যাচে। সেই ম্যাচে তাঁর ব্যাটিং পারফরম্যান্স বাংলাদেশকে জয় এনে দিয়েছিল। একই ম্যাচে তাঁর “টাইমড আউট” বিতর্ক ক্রিকেট ইতিহাসে জায়গা করে নেয়।
সাকিব সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলেছেন। টি-টোয়েন্টি ও টেন-ওভার ফরম্যাটে সক্রিয় থাকলেও ওয়ানডে বা টেস্টে দীর্ঘ ইনিংস খেলার সুযোগ পাননি। তিনি মনে করেন, তাঁর বোলিং ভালো অবস্থায় আছে, তবে ব্যাটিং ছন্দ ফিরে পেতে ওয়ানডে বা টেস্ট ম্যাচ দরকার। চোখের সমস্যাও এখন অনেকটাই কমে গেছে, যা তাঁকে আত্মবিশ্বাসী করেছে।
সাকিব আল হাসান আবারও জাতীয় দলে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে শুরু করে তিনি ২০২৭ সালের বিশ্বকাপকে লক্ষ্য করতে পারেন। তাঁর অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বাংলাদেশ দলের জন্য বড় সম্পদ হতে পারে। তবে সবকিছু নির্ভর করছে তাঁর ফর্ম, ফিটনেস এবং বিসিবির পরিকল্পনার ওপর।